স্ট্যাচু অব লিবার্টি—স্বাধীনতা, আশা আর মানবিক মর্যাদার এক অনন্য প্রতীক। প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখো পর্যটক ছুটে যান এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে। তবে অনেকেই জানেন না, এর ক্রাউনে ওঠার অভিজ্ঞতা যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি চ্যালেঞ্জিং। আর সেই অভিজ্ঞতা পেতে হলে আগে থেকেই নিতে হয় সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি।
স্ট্যাচু অব লিবার্টির ক্রাউনে ওঠা কোনো সাধারণ ভ্রমণ নয়, বরং এটি যেন এক বিশেষ অভিযাত্রা। এই অভিযাত্রার প্রথম ধাপই হলো টিকিট সংগ্রহ। সাধারণ টিকিট দিয়ে শুধু দ্বীপ বা পিডেস্টাল পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব হলেও, ক্রাউনে ওঠার জন্য প্রয়োজন ‘Crown Ticket’। এই টিকিটের চাহিদা এতটাই বেশি যে ভ্রমণের পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গেই, অর্থাৎ কয়েক মাস আগেই বুকিং দিতে হয়। প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক দর্শনার্থীকে ক্রাউনে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার বিষয়টি এখানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।
টিকিট হাতে পাওয়ার পর শুরু হয় আসল প্রস্তুতি। পিডেস্টাল থেকে ক্রাউন পর্যন্ত যেতে হয় মোট ১৬২টি সরু ও গোলাকার সিঁড়ি বেয়ে। আর নিচ থেকে পুরো পথ ধরলে এই সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩৫৪টি ধাপে। এই সিঁড়িগুলো কোনোভাবেই সাধারণ নয়—এগুলো সংকীর্ণ, ঘূর্ণায়মান এবং কিছুটা খাড়া। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখানে কোনো লিফটের ব্যবস্থা নেই। ফলে পুরোটা পথই হেঁটে উঠতে হয়, যা শারীরিকভাবে বেশ কষ্টসাধ্য।

এই কারণে ভ্রমণকারীদের শারীরিক সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাদের হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট, উচ্চতাভীতি (Acrophobia) কিংবা আবদ্ধ স্থানের ভয় (Claustrophobia) রয়েছে, তাদের জন্য এই যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একইভাবে যাদের চলাফেরায় সমস্যা আছে, তাদেরও এ অভিজ্ঞতা এড়িয়ে যাওয়াই নিরাপদ। ক্রাউনে ওঠার পথটি সরু এবং মাঝে মাঝে বিশ্রামের সুযোগও সীমিত, তাই মানসিক প্রস্তুতিও এখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আরো পড়ুন: ইসরায়েলিদের কাঁপন ধরিয়েছিলেন যে বাঙালি যোদ্ধা
শিশুদের ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম। ক্রাউনে উঠতে হলে শিশুর উচ্চতা কমপক্ষে ৪২ ইঞ্চি বা প্রায় ১০৬ সেন্টিমিটার হতে হবে। শুধু উচ্চতা হলেই হবে না বরং তাদের নিজস্বভাবে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সক্ষমতাও থাকতে হবে। অর্থাৎ, অভিভাবকদের সহায়তা ছাড়াই তারা যেন নিরাপদে ওঠানামা করতে পারে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হয়।
নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে কিছু বিধিনিষেধও মানতে হয়। ভ্রমণকারীদের সঙ্গে অবশ্যই একটি বৈধ ফটো আইডি (যেমন পাসপোর্ট) রাখতে হয়। এছাড়া বড় ব্যাগ, খাবার বা ভারী কোনো জিনিস সঙ্গে নিয়ে ক্রাউনে ওঠার অনুমতি নেই। নিরাপত্তা চেকিংয়ের পর শুধু প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়েই উপরে উঠতে দেওয়া হয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাপমাত্রা। অনেকেই ভেবে থাকে, সমুদ্রের ধারে হওয়ায় ভেতরে ঠাণ্ডা থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ক্রাউনের ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের তুলনায় প্রায় ২০ ডিগ্রি বেশি হতে পারে। ফলে গরম অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে একটু বেশি গরম অনুভূত হয়। তাই হালকা পোশাক পরা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি।
সব মিলিয়ে, স্ট্যাচু অব লিবার্টির ক্রাউনে ওঠা একদিকে যেমন ইতিহাসের খুব কাছে যাওয়ার সুযোগ দেয়, অন্যদিকে এটি শারীরিক ও মানসিক সহনশীলতারও একটি পরীক্ষা। প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং নিয়ম মেনে চললে এই অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
তারেক/
.jpg)
.jpg)
.jpg)