সরকারি প্রণোদনায় গড়ে তোলা কুষ্টিয়ার বড়িয়া-ভাদালিয়াপাড়া মসলা গ্রাম প্রকল্প এখন সফলতার দ্বারপ্রান্তে। এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামের সব রাস্তার পাশে বিভিন্ন মসলার চারা লাগানো হয়েছে। বাড়ির আঙিনায়, পুকুরপাড়ে জিও ব্যাগে আদা ও হলুদের চাষ করা হচ্ছে। মাঠে মসলার চারা ও বীজতলার জন্য শেড তৈরি করা হয়েছে।
মসলা গ্রাম প্রকল্পের লক্ষ্য হলো কৃষকদের মসলা বীজের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে গড়ে তোলা, উৎপাদন বাড়ানো ও আমদানি-নির্ভরতা কমানো। প্রকল্পের আওতায়, রাস্তার পাশে লাগানো দারুচিনি, তেজপাতা ও অন্যান্য মসলার গাছের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। খাঁচায় লাগানো গাছগুলো টিকে আছে এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বেড়ে উঠছে। এতে করে কৃষকরা বাড়ির আঙিনা, উঠান, পুকুরপাড়সহ পতিত জায়গায় ব্যাগে বা বস্তায় আদা ও হলুদের চাষ বাড়াচ্ছেন।
এক বছর আগে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের অধীনে রাস্তার পাশে রঙিন খাঁচায় দারুচিনি, তেজপাতা এবং অন্যান্য মসলার গাছ লাগানো হয়। বর্তমানে খাঁচার সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। কিছু গাছ মারা গেলে বা খাঁচা নষ্ট হলে তা আবার লাগানো হচ্ছে। কৃষি বিভাগের কর্মীরা এবং গ্রামের মানুষ মসলা গাছের পরিচর্যা করছেন।
কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার জাহিদ জানান, পলিনেটের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ, রসুন, ক্যাপসিকাম, গোলমরিচ, জিরা ও মৌরি চাষ হচ্ছে। কৃষকরা বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় এবং পতিত জায়গায় জিও ব্যাগ ও বস্তায় আদা ও হলুদের চাষ করছেন।
ভাদালিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম জানান, গত মৌসুমে ৩৬টি বস্তায় আদা চাষ করে ২১ কেজি আদা পেয়েছিলেন, যা ভালো দামে বিক্রি করেছেন। এবারে ৫০০ বস্তায় আদা লাগিয়েছেন এবং প্রতি বস্তায় এক কেজি আদা পাওয়ার আশা করছেন। তিনি আশা করেন, কোনো রোগবালাই না হলে এবারের ফলনও ভালো হবে।
নূর আলম নামে এক কৃষক জানান, তিনি আদা, পেঁয়াজ-রসুন, তেজপাতা, দারুচিনি ও চুই ঝাল চাষ করছেন। কৃষি বিভাগ তাদের নিয়মিত সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে আসছে। গত বছরের তুলনায় এবার আরও বেশি চাষ করা হচ্ছে। সরকারের দেওয়া জিও ব্যাগের সাহায্যে অনেক বেশি বস্তায় চাষ করা হচ্ছে।
নারী কৃষক আমেনা খাতুন জানান, তিনি বাড়ির আঙিনা এবং পুকুরপাড়ে মসলার চাষ শুরু করেছেন। প্রাথমিকভাবে কৃষি কর্মকর্তাদের কথা বিশ্বাস না করলেও এখন বাজারে ভালো দাম পাওয়ার পর গ্রামের অধিকাংশ মানুষই মসলার চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, ‘এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং মসলার উৎপাদন বাড়ানো। রাস্তার পাশে লাগানো গাছগুলো বড় হলে আগামী বছর থেকে তেজপাতা এবং পরবর্তী বছরে দারুচিনি সংগ্রহ করা যাবে। সব মিলিয়ে এই প্রকল্প সফলতার দারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে এবং এর মাধ্যমে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।’