দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলাসহ ৪৫ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে। বাঁশখালীর লবণচাষিদের উৎপাদিত লবণের বিশেষ স্বাদ ও লবান্বিততা অন্যান্য এলাকার তুলনায় অনেক বেশি। এখানকার লবণের মান এবং বাজারে এর বেশ চাহিদা রয়েছে। এতে এ অঞ্চলের লবণচাষিদের জন্য লাভজনক বাজার সৃষ্টি করেছে।
চলতি মৌসুমে লবণের দাম তুলনামূলকভাবে ভালো থাকার কারণে বাঁশখালী এলাকার ৩৫ হাজার লবণচাষি এবং ব্যবসায়ী খুবই খুশি। বর্তমানে বাঁশখালী বাজারে প্রতি কেজি লবণের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে পাইকারি প্রতিমণ লবণ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
তবে সরকারি সহায়তার অভাবে মিল মালিক ও মহাজনরা চাষিদের কাছ থেকে কম দামে লবণ কিনে তা পরে উচ্চমূল্যে বাজারজাত করছেন। বিশেষত বিসিক (বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র) ও লবণচাষিদের তথ্য অনুযায়ী, বাঁশখালী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে চলতি মৌসুমে প্রায় ৪৫ হাজার একর জমিতে ৩৫ হাজার লবণচাষি লবণ উৎপাদন করছেন। এমনকি এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি লবণ উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিসিকের বাঁশখালী উপজেলার কর্মকর্তা আনসারুল করিম জানান, বাঁশখালী ও কক্সবাজারে এবার চাহিদার চেয়ে ২ লাখ টন লবণ বেশি উৎপাদন হতে পারে। বর্তমানে বাঁশখালীতে আনুমানিক ২৫ হাজার একর জমিতে লবণের চাষ হচ্ছে।
লবণ চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, লবণ উৎপাদনে বর্তমানে পলিথিন পদ্ধতি ব্যবহৃত হলেও, এই পদ্ধতিতে খরচ বেশি পড়ছে। তবে সনাতন পদ্ধতিতে (যা কালো লবণ উৎপাদন করতে ব্যবহৃত হয়) উৎপাদিত লবণের বিক্রয় মূল্য খরচের তুলনায় কম হয়ে থাকে। যার ফলে চাষিদের লাভের পরিমাণ কমে যায়। অনেক লবণচাষি এ কারণে মহাজন বা মিল মালিকদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে লবণ উৎপাদন করছেন। এতে তারা উচ্চমূল্য পাচ্ছেন।
চাষিরা মনে করেন, সরকার যদি লবণ আমদানি বন্ধ করে, তাদের জন্য ঋণ সহায়তাসহ সব সুবিধা দেয়, তবে লবণ চাষ আরও উন্নতি লাভ করবে। এ ছাড়া চাষিরা মিল মালিক ও মহাজনদের কাছে জিম্মি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবেন।
এলাকার ব্যবসায়ী রুহুল কাদের জানান, এ বছর লবণ উৎপাদন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লবণের দাম ভালো থাকায় চাষিরা আরও উৎসাহিত হয়ে মাঠে কাজ করছেন। তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, যাতে দেশীয় লবণশিল্প রক্ষায় লবণ আমদানি বন্ধ করে এবং চাষিদের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে।
অন্যদিকে সরল ইউনিয়নের মোহাম্মদ ছগির বলেন, ‘বাঁশখালী উপজেলার সরলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে। চাষিদের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার জন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।’ তিনি মনে করেন, সরকারের সহায়তায় দেশীয় লবণশিল্প আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।