দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা দিন দিন রসুন চাষ অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানকার চাষিরা রসুন চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। রসুন চাষের পরিমাণ প্রতিবছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবার রসুন চাষের জন্য ১ হাজার ৬৮৪ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলার প্রধান ফসল রসুন। এটি ‘সাদা সোনা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশেষ করে ডিসেম্বরের শুরু থেকে এখানে রসুন চাষে কিষান-কিষানিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
খানসামার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, তারা আমন ধান কাটার পরপরই রসুন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করতে শুরু করেন। ট্রাক্টর ব্যবহার করে প্রথমে রাসায়নিক ও জৈবসার মিশিয়ে জমি প্রস্তুত করা হয়। পরে লাঙল দিয়ে লাইন টানা হয়। এ সময় পুরুষদের সঙ্গে নারীও একযোগে মাঠে কাজ করছেন। তারা টপাটপ চাষ করা মাটিতে রসুনের কোয়া বপন করেন। পেছন থেকে মই দিয়ে মাটি সমান করে দেন। এতে একদিকে যেমন জমি প্রস্তুত হয়, অন্যদিকে রসুনের কোয়া ঠিকভাবে মাটির মধ্যে ঢুকে যায়।
খামারবাড়ি গ্রামের চাষি মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই এলাকায় আমন ধান কাটার পরপরই রসুন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করা হয়। এ বছর রসুনের বীজ, সার, কীটনাশকের দাম অনেক বেড়েছে। তবুও আমি আরও এক বিঘা জমি বেশি চাষ করছি। কারণ রসুন চাষ করে বিক্রি করলে একসঙ্গে অনেক বেশি টাকা লাভবান হওয়া যায়।’
গোয়ালদীঘির শিমুলতলী গ্রামের রিসাত শাহ বলেন, ‘এ বছর ৫০ শতক জমিতে রসুন চাষে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা খরচ হবে। তবে প্রতি ৫০ শতক জমিতে ফলন হবে ৫০-৬০ মণ এবং প্রতি মণ রসুনের দাম ৭ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা হবে। এর ফলে লাভ হবে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এই কারণে আমরা রসুন চাষে আগ্রহী।’
এদিকে দক্ষিণ বালাপাড়া এলাকার কৃষক সাব্বির হোসেন জানান, ‘রসুন অন্য ফসলের চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক। এ বছরও আমি দেড় বিঘা জমিতে রসুন রোপণ করছি। প্রতি বিঘায় ৭-৮ মণ রসুনের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে ভালো রসুনের বীজ ৭-৯ হাজার টাকা করে কিনতে হচ্ছে। তবে আশা করি, ভালো আবহাওয়া ও ভালো ফলন হলে চলতি মৌসুমে আমি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভ করব।’
কিষানি ময়মনা বেগম বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে সাতজন নারী একত্রে রসুন বপন করছি। এর মাধ্যমে প্রতিদিন আমরা ৫০০ টাকা করে আয় করছি, যা দিয়ে আমার পরিবারকে ভালোভাবে চলাতে সাহায্য হচ্ছে।’
উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে খামারপাড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ ম জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কৃষকদের পরামর্শ এবং সহায়তা করতে মাঠে কাজ করছি। এতে এই অঞ্চলের কৃষকরা রসুন চাষে আরও আগ্রহী হচ্ছেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানান, ‘খানসামা উপজেলায় রসুন চাষ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গত মৌসুমে ভালো দাম পাওয়ার পর এ বছর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অধিক জমিতে রসুন চাষ হচ্ছে। যদি আবহাওয়া অনুকূল থাকে, তবে এ বছরও কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। যাতে তাদের রসুনের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পায়।’