নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের প্রকল্পের কমিটি গঠনের সময়সীমা গত নভেম্বর মাসে শেষ হলেও এখনো পদক্ষেপ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, বাঁধের কাজ শুরু না হলে বোরো ধান আগাম বন্যায় তলিয়ে যেতে পারে। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও সময়মতো কাজ না হলে আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি বাঁধের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও, আজ পর্যন্ত এটি শুরু করতে পারেনি। এর ফলে হাওরের বোরো ধান বন্যায় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আছেন এলাকার কৃষকরা। বিশেষ করে বন্যার আগমন হলে কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে, তারা পুরো বিষয়টি নিয়ে সতর্ক রয়েছেন। গত বছর অকস্মাৎ বন্যার কারণে এই বছর হাওর অঞ্চল থেকে পানি কমতে কিছুটা সময় নিচ্ছে। তবে তারা জানিয়েছেন, প্রকৃতির বিরুদ্ধে কিছু করা সম্ভব নয়। ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করতে বিলম্ব হলেও সময়মতো কাজ শেষ করতে সব ধরনের সহযোগিতা কামনা করছেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডসূত্রে জানা গেছে, হাওর অঞ্চলে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার অস্থায়ী ফসলরক্ষা বাঁধ রয়েছে। প্রতি বছর এখানে কৃষকরা প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেন। তবে এ বছর এ অঞ্চলে ফসলরক্ষা বাঁধের কতটি কমিটি গঠন করা হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে, শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
খালিয়াজুরী উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকার কৃষক সুশীল তালুকদার জানিয়েছেন, হাওরের এই নিম্নাঞ্চলগুলোতে প্রতিবছরই বন্যা আঘাত হানে। এতে কৃষকদের ধান তলিয়ে যায়। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে কমিটি গঠন এবং পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
মোহনগঞ্জ উপজেলার খুরশিমুল গ্রামের কৃষক সোনা মোহন দাস জানান, হাওরের জমিতে একমাত্র ফসল হিসেবে বোরো ধানের চাষ করা হয়। এ অঞ্চলের কৃষকরা পুরো বছরের আয়-রোজগারের জন্য ধান বিক্রি করেন। তাই সময়মতো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা না হলে, তাদের আর্থিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তিনি অনুরোধ করেছেন, দ্রুত ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হোক।
কলমাকান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বাইতুল ওয়াসীমা নাহাত জানিয়েছেন, প্রকল্পের কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ফাইনাল অনুমোদন আসার পরই সমস্ত কাজ শুরু হবে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, দেরি হওয়ার কোনো কারণ নেই। মোহনগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান জানান, গত বর্ষায় অকাল বন্যার কারণে হাওর অঞ্চলের পানি নামতে বিলম্ব হচ্ছে। প্রকৃতির ওপর কারও হাত নেই, তবে অধিকাংশ উপজেলায় প্রকল্পের কমিটি ইতোমধ্যেই গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলের পানি এখনো পুরোপুরি নামেনি। এ জন্য প্রকল্পের কমিটি গঠন ও কাজের শুরুতে কিছু বিলম্ব হয়েছে। তবে তিনি আশাবাদী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে সময়মতো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করবেন।