ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দুই গোল বাতিল, প্রথমার্ধে পিছিয়ে জার্মানি আইভরি কোস্টের মুখোমুখি জার্মানি, দেখুন একাদশ জোড়া রেকর্ডের সামনে মেসি সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল নেদারল্যান্ডস দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে ধাক্কা বিশ্ব বাবা দিবস আজ ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর ব্রায়ান ব্রোবির জোড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে নেদারল্যান্ডস অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ এক দিনে দ্রুততম দুই গোল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারাল বাংলাদেশ উল্লাসের পরদিন ৪০ টন স্মৃতি ছুটিতে গ্রামে গিয়ে ডাকাত হামলায় আহত এসিল্যান্ডসহ ৬ জন মেসির ফাউল: ফিফায় আলজেরিয়ার নালিশ ঈশ্বরগঞ্জে আ.লীগের সাবেক এমপির ফ্যাক্টরিতে লুটপাট ১১ মামলার আসামি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা বুলবুল আটক বম সম্প্রদায়ের এক অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী উত্তরায় ভূমি গ্যালারিতে চিত্রপ্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোনালদো-মেসিদের মতো খেলো, অলিম্পিকে ভালো ফল চাই: প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে গোপনে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরেও যাবেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যকে নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অসাধারণ কৃতিত্ব: ৮ মাসে কোরআন হিফজ, সংবর্ধিত আল-আমীন ব্রাজিল ম্যাচ জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক ফরিদপুরে ‘গে গ্রুপ’ ইস্যুতে ৩ জন আটক জামায়াত গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে? লেবাননে হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা তেহরানের রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান বরিশাল বিভাগ এসএসসি ১৯৮৬ বাংলাদেশর দিনব্যাপী নৌ-বিহার

ফসলরক্ষা বাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় হাওরের কৃষকরা

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৩১ এএম
ফসলরক্ষা বাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় হাওরের কৃষকরা
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের প্রকল্পের কমিটি গঠনের সময়সীমা গত নভেম্বর মাসে শেষ হলেও এখনো পদক্ষেপ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, বাঁধের কাজ শুরু না হলে বোরো ধান আগাম বন্যায় তলিয়ে যেতে পারে। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও সময়মতো কাজ না হলে আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি বাঁধের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও, আজ পর্যন্ত এটি শুরু করতে পারেনি। এর ফলে হাওরের বোরো ধান বন্যায় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আছেন এলাকার কৃষকরা। বিশেষ করে বন্যার আগমন হলে কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে, তারা পুরো বিষয়টি নিয়ে সতর্ক রয়েছেন। গত বছর অকস্মাৎ বন্যার কারণে এই বছর হাওর অঞ্চল থেকে পানি কমতে কিছুটা সময় নিচ্ছে। তবে তারা জানিয়েছেন, প্রকৃতির বিরুদ্ধে কিছু করা সম্ভব নয়। ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করতে বিলম্ব হলেও সময়মতো কাজ শেষ করতে সব ধরনের সহযোগিতা কামনা করছেন।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডসূত্রে জানা গেছে, হাওর অঞ্চলে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার অস্থায়ী ফসলরক্ষা বাঁধ রয়েছে। প্রতি বছর এখানে কৃষকরা প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেন। তবে এ বছর এ অঞ্চলে ফসলরক্ষা বাঁধের কতটি কমিটি গঠন করা হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে, শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

খালিয়াজুরী উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকার কৃষক সুশীল তালুকদার জানিয়েছেন, হাওরের এই নিম্নাঞ্চলগুলোতে প্রতিবছরই বন্যা আঘাত হানে। এতে কৃষকদের ধান তলিয়ে যায়। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে কমিটি গঠন এবং পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

মোহনগঞ্জ উপজেলার খুরশিমুল গ্রামের কৃষক সোনা মোহন দাস জানান, হাওরের জমিতে একমাত্র ফসল হিসেবে বোরো ধানের চাষ করা হয়। এ অঞ্চলের কৃষকরা পুরো বছরের আয়-রোজগারের জন্য ধান বিক্রি করেন। তাই সময়মতো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা না হলে, তাদের আর্থিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তিনি অনুরোধ করেছেন, দ্রুত ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হোক।

কলমাকান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বাইতুল ওয়াসীমা নাহাত জানিয়েছেন, প্রকল্পের কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ফাইনাল অনুমোদন আসার পরই সমস্ত কাজ শুরু হবে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, দেরি হওয়ার কোনো কারণ নেই। মোহনগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান জানান, গত বর্ষায় অকাল বন্যার কারণে হাওর অঞ্চলের পানি নামতে বিলম্ব হচ্ছে। প্রকৃতির ওপর কারও হাত নেই, তবে অধিকাংশ উপজেলায় প্রকল্পের কমিটি ইতোমধ্যেই গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলের পানি এখনো পুরোপুরি নামেনি। এ জন্য প্রকল্পের কমিটি গঠন ও কাজের শুরুতে কিছু বিলম্ব হয়েছে। তবে তিনি আশাবাদী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে সময়মতো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করবেন। 

বোয়ালমারীতে আলুবোখারা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন হাবিবুর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:১৭ এএম
বোয়ালমারীতে আলুবোখারা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন হাবিবুর
আলুবোখারা মসলা জাতীয় ফল/ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কৃষি উদ্যোক্তা হাবিবুর রহমান এই প্রথম বিদেশি ফল আলুবোখারা চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। আমাদের দেশে সাধারণত আম, জাম বা লিচুর বাগান দেখা গেলেও, সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ও মসলা জাতীয় এই বিদেশি ফল চাষ করে রীতিমতো সফলতার মুখ দেখছেন তিনি।

তার এমন সফলতা দেখে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন আলুবোখারার বাগান করতে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন তার বাগান দেখতে ও আলুবোখারা কিনতে।

বাগান মালিক হাবিবুর রহমান বলেন, কয়েক বছর আগে কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ২৫টি আলুবোখারার গাছ পেয়েছিলাম। বাড়ির পাশের কৃষিজমিতে আলুবোখারার গাছগুলো রোপণ করি। গাছ রোপনের এক বছর পর না বুঝে অনেকটা রাগ করে ১৮টি আলুবোখারার গাছ কেটে ফেলি। বর্তমানে বাগানে ৭টি গাছ রয়েছে। তবে দুই বছর পর গাছে প্রচুর পরিমাণ ফল আসতে শুরু করে। এরপর থেকে বাজারে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এ বছরই আরো আধিক পরিমান জমিতে বাণিজ্যিক আকারে আলুবোখারার বাগান তৈরির কার্যক্রম শুরু করেছি।

উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, আলুবোখারা একটি বিদেশি ও মশলা জাতীয় ফল। আলুবোখারা গাছে সাধারণত জানুয়ারি মাসে ফুল আসে। ফুল আসার চার থেকে পাঁচ মাস পর জুন মাসের দিকে ফল পুরোপুরি পরিপক্ব হয়। প্রতিটি ফলের ওজন সাধারণত ১০ থেকে ১২ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে এ গাছ পরিচর্যা ও সার-ঔষধ খুব বেশী প্রয়োজন হয়না। সাধারণ সবজী জাতীয় ফসলের মতো সার-ঔষধ ও পরিচর্যা করলেই হয়।

এ বিষয় নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি অফিসার আলভীর রহমান বলেন, সাধারণত আলুবোখারা মসলা জাতীয় ফল। ইরাক, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জায়গায় এবং ভারতের কিছু এলাকায় আলুবোখারার চাষ হয়। বর্তমানে আমাদের দেশেও আলুবোখারার চাষ হচ্ছে। আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে হাবিবুর রহমানের পাশে আছি। তাকে সার্বিক সহোযোগিতা করা হচ্ছে। 

নয়ন/ এএফ 

সময়মতো পূর্বাভাসেই বেঁচে যাচ্ছে চীনের জুঁই

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
সময়মতো পূর্বাভাসেই বেঁচে যাচ্ছে চীনের জুঁই
জুঁই খেতে কাজ করছেন চায়নিজ কৃষক।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পর যখন ফুলের গুণগত মান ও বাজারদর নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন জুঁইচাষি, তখন তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে আবহাওয়া পূর্বাভাস। চীনের বৃহত্তম জুঁই উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কুয়াংসি চুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হেংচৌ শহর এখন আবহাওয়াভিত্তিক সেবা ব্যবহার করে জুঁই শিল্পকে আরও টেকসই করে তুলছে।
মে’র শেষ দিকে হেংচৌর বিস্তীর্ণ মাঠে জুঁই ফুল সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়। সুগন্ধি ও চা শিল্পে ব্যবহৃত এই ফুল আবহাওয়ার প্রতি বেশ সংবেদনশীল। অতিরিক্ত বৃষ্টি ফুলের সুগন্ধ কমিয়ে দেয় এবং গুণগত মান নষ্ট করে, অন্যদিকে খরা ও অতিরিক্ত তাপ কুঁড়ির বিকাশ ব্যাহত করে উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
হেংচৌর ৬৬৭ হেক্টর আয়তনের জুঁই বাগান ‘চাইনিজ জেসমিন গার্ডেন’-এর ব্যবস্থাপক উ চিফু বলেন, জুঁই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। রোদেলা দিনে ফুলের সুগন্ধ বেশি থাকে এবং বাজারমূল্যও ভালো পাওয়া যায়। তবে টানা বৃষ্টিপাত ফুলের দামে ভালো প্রভাব ফেলে। পরপর তিন দিন বৃষ্টি না হলে ক্রয়মূল্য বেড়ে যায়।
বর্তমানে হেংচৌতে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে জুঁই চাষ হয় এবং বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার টনেরও বেশি তাজা ফুল উৎপাদিত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই শিল্পের বার্ষিক উৎপাদনমূল্য ২৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি এবং প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষের জীবিকার সঙ্গে এটি জড়িত।
স্থানীয় জুঁই শিল্পসেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তা হুয়াং ইয়াচি জানান, বিশ্বে উৎপাদিত প্রতি ১০টি জুঁই ফুলের মধ্যে প্রায় ৬টিই হেংচৌতে উৎপাদিত হয়। এখানকার জুঁই ফুলের পণ্য জাপান, মরক্কো, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ ২০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে রপ্তানি করা হয়।
চীনের আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থা কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতেও সহায়তা করছে। উ চিফু বলেন, শুষ্ক মৌসুমে সময়মতো বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়া গেলে প্রতি হেক্টরে অন্তত ১ হাজার ৫০০ ইউয়ান সেচ ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত সেচের কারণে মাটিক্ষয় ও শিকড়ের ক্ষতিও এড়ানো যায়।
শুধু চাষিরাই নয়, আবহাওয়ার প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ও বাজার সংশ্লিষ্টরাও। কুয়াংসি চিনেং মডার্ন এগ্রিকালচারের পরিচালিত জুঁই-সুগন্ধি পণ্য শিল্পপার্ক ‘সিয়াংসিয়াং গার্ডেন’-এর মহাব্যবস্থাপক উ ইয়ুমিং বলেন, বৃষ্টির কারণে ফুলের গুণগত মান ও উৎপাদন কমে গেলে কাঁচামালের দাম বেড়ে যায়। এ ছাড়া জুঁই তেল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফুলের সতেজতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর উচ্চ তাপমাত্রা পরিবহনজনিত ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়।
তিনি বলেন, গ্রীষ্মকাল জুঁইজাত পণ্যের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়। কিন্তু টানা ভারী বৃষ্টিতে কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দিলে পণ্যের দামও বেড়ে যায়। তাই এখন প্রতিষ্ঠানগুলো আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আগাম কাঁচামাল মজুত ও উৎপাদন পরিকল্পনা তৈরি করে।
জুঁই শিল্পকে আরও কার্যকর সহায়তা দিতে হেংচৌ ও কুয়াংসির রাজধানী নাননিংয়ের আবহাওয়া বিভাগ একটি ডিজিটাল জুঁই প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। এই প্ল্যাটফর্মে স্থলভিত্তিক আবহাওয়া কেন্দ্র, রাডার এবং সংখ্যাতাত্ত্বিক পূর্বাভাস মডেলের তথ্য একত্রিত করে কৃষক ও চা উৎপাদকদের মোবাইল ফোনে তাৎক্ষণিক আবহাওয়া তথ্য, সতর্কবার্তা ও কৃষিসেবা সরবরাহ করা হয়।
হেংচৌ আবহাওয়া ব্যুরোর প্রধান কনা লি জানান, জুঁই ফুলের জন্য বিশেষভাবে ঝড়বৃষ্টি-ঝুঁকি পূর্বাভাস ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। আগের দিনের বৃষ্টিপাতের তথ্য, বর্তমান পরিস্থিতি এবং পরবর্তী দিনের পূর্বাভাস একত্রে বিশ্লেষণ করে ফুল সংগ্রহ ও বাজারদরের সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সাল থেকে খরা মোকাবিলা ও জুঁই বাগানের মাটির আর্দ্রতা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ২৪ বার কৃত্রিম বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
কান লি বলেন, আরও বুদ্ধিমান ও নির্ভুল পদ্ধতিতে আবহাওয়া সেবাকে ডিজিটাল জুঁই প্লাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করে শিল্পটির উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। সূত্র: সিএমজি

দক্ষিণাঞ্চলে পেঁপে চাষে নীরব বিপ্লব

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
দক্ষিণাঞ্চলে পেঁপে চাষে নীরব বিপ্লব
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের অর্জুন মাঝি গ্রামের মোস্তফা কামালের বাগানে থোকায় থোকায় পেঁপে ঝুলছে। সম্প্রতি তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

একসময় বাড়ির আঙিনায় সীমিত পরিসরে পেঁপের চাষ হতো। পরিবারের চাহিদা মেটানোর বাইরে এর খুব বেশি গুরুত্ব ছিল না। সেই পরিচিত ফলটিই এখন বদলে দিচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির চিত্র। বরিশাল বিভাগের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করে অনেক কৃষক সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এসব পেঁপে পাঠানো হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় বছরে উৎপাদিত হচ্ছে ৩৫ হাজার ৪০৫ টন পেঁপে। বিশেষ করে বরিশাল সদর ও বাবুগঞ্জ উপজেলায় পেঁপে চাষ এখন লাভজনক কৃষি উদ্যোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। রেডলেডি, শাহী, কাশ্মীরি ও টপলেডি জাতের পেঁপে চাষ করে অল্প সময়েই অনেক কৃষক আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখেছেন।

সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ইছাগুড়া ও পূর্ব ইছাগুড়া গ্রামের মির্জা আনোয়ার হোসেন ফনু, ইব্রাহিম আকন, মকরম প্রতাপ গ্রামের আবুল মহরী, সায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের মো. আরিফুর রহমান, চরকাউয়া ইউনিয়নের নয়ানী গ্রামের বাচ্চু সিকদার, চাঁদপুরা ইউনিয়নের হিজলতলা গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার এবং বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বায়লাখালী গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক সুমন এখন এ অঞ্চলের সফল পেঁপেচাষিদের অন্যতম মুখ।

বাবুগঞ্জের বায়লাখালী গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক সুমনের গল্প এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। প্রবাসজীবন শেষে পাঁচ বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেছিলেন পেঁপে চাষ। সেই উদ্যোগই আজ তাকে এনে দিয়েছে আর্থিক সচ্ছলতা, পরিচিতি এবং সম্মাননা।

গত পাঁচ বছরে কাঁচা ও পাকা মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন তিনি। শুধু ফল বিক্রিই নয়, গত দুই বছর ধরে পেঁপের চারা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে তৈরি করেছেন নতুন আয়ের ক্ষেত্র। সুমন জানান, একটি পেঁপেগাছে সর্বোচ্চ সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। কোনো কোনো পেঁপের ওজন পাঁচ কেজি পর্যন্ত হলেও অধিকাংশের ওজন দুই থেকে তিন কেজির মধ্যে। বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি ১৭ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁপে বিক্রি করেন।

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘২০২৩ সাল ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সফল বছর। ওই বছর শুধু পেঁপে চাষ থেকেই প্রায় ২০ লাখ টাকা লাভ করেছি। এখন ফল বিক্রির পাশাপাশি চারাও বিক্রি করছি। এত চাহিদা যে কৃষকদের সিরিয়াল দিয়ে চারা নিতে হয়।’

চারা বিক্রির ক্ষেত্রেও রয়েছে তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তিন থেকে চারটি চারা একসঙ্গে একটি পলিব্যাগে দিয়ে মাত্র ৪০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।

সুমন বলেন, ‘রোপণের পর কোনো চারা নষ্ট হয়ে গেলেও যেন অন্তত একটি গাছ বেঁচে থাকে, সেই চিন্তা থেকেই একাধিক চারা দিই। কৃষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটাই আমার মূল লক্ষ্য। অনেক সময় যাদের চারা দিতে পারি না, তাদের বিনামূল্যে বীজও দিয়ে থাকি।’

চাঁদপাশা ইউনিয়নের অর্জুন মাঝি গ্রামের প্রফেসর মোহাম্মদ মোস্তফা কামালও পেঁপে চাষে সফলতা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অল্প খরচে দ্রুত ফলন পাওয়ার কারণে পেঁপে চাষ অত্যন্ত লাভজনক। সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এটি কৃষকের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস হতে পারে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ১ হাজার ৩৮৮ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে ভোলা জেলায়।

জেলাভিত্তিক উৎপাদনের চিত্র বলছে, বরিশালে ১১২ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৮২৩ টন, পিরোজপুরে ৫ হাজার ৮১ টন, ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫৯৫ টন, পটুয়াখালীতে ৮ হাজার ২৩৫ টন এবং বরগুনায় ৩ হাজার ২৭১ টন পেঁপে। সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে ভোলায়, সেখানে ৪৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হয়েছে ১৪ হাজার ৪০০ টন পেঁপে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার বলেন, ‘পেঁপে একটি উচ্চফলনশীল, পুষ্টিকর এবং লাভজনক ফল। বরিশাল অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া এ ফল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের চারা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে পেঁপে চাষের আওতা ও উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।’

ঈশ্বরদীর লিচু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম ‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১২ এএম
‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’
পাইকারি লিচু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী অঞ্চলের লিচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। প্রতি মৌসুমে হাজার হাজার টন লিচু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হয়। তবে চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত দাবদাহ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে লিচুর উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাজার পরিস্থিতি, দাম, চাহিদা ও ব্যবসার নানা দিক নিয়ে দৈনিক খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন ঈশ্বরদী উপজেলার শাহপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের পাইকারি লিচু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজশাহী ব্যুরো প্রধান এনায়েত করিম

খবরের কাগজ: লিচু ব্যবসার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হলেন?

মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম: আমরা মূলত পাইকারি ব্যবসা করি। লিচুবাগানে মুকুল আসার পর থেকেই বাগান কিনে নিই এবং পুরো মৌসুমজুড়ে পরিচর্যা করি। এরপর ফল সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করি। দীর্ঘদিন ধরেই এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছি।

খবরের কাগজ: চলতি মৌসুমের বাজার পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?

রকিবুল ইসলাম: বাজার মোটামুটি ভালো। ক্রেতাদের চাহিদাও রয়েছে। কিন্তু এ বছর প্রাকৃতিক কারণে লিচু খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। অতিরিক্ত রোদে অনেক লিচু পুড়ে গেছে এবং ঝরে পড়েছে। ফলে উৎপাদন কমে গেছে।
খবরের কাগজ: গত বছরের তুলনায় ব্যবসা কেমন হচ্ছে?

আরও পড়ুন: ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’

রকিবুল ইসলাম: চাহিদার দিক থেকে বাজার ভালো। কেনাবেচাও বাড়ার কথা ছিল। কিন্তু উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমরা প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে পারছি না। লিচু পোড়ার কারণে চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়েই ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

খবরের কাগজ: লিচু পোড়ার কারণ কী বলে মনে করেন?

রকিবুল ইসলাম: আমাদের মতে এটি পুরোপুরি আবহাওয়াজনিত সমস্যা। দীর্ঘ সময় তীব্র রোদ, তাপপ্রবাহ এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে এমনটা হয়েছে। কীটনাশকের কারণে এভাবে লিচু পোড়ে বলে আমরা মনে করি না।

খবরের কাগজ: বর্তমানে লিচুর বাজারদর কত?

রকিবুল ইসলাম: বাগান পর্যায়ে প্রতি হাজার লিচু ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকাও পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী।

খবরের কাগজ: বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার অবস্থা কেমন?

রকিবুল ইসলাম: বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। ফলে বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। সরবরাহ আরও কমলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খবরের কাগজ: দেশের কোন কোন অঞ্চলে বেশি লিচু যাচ্ছে?

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর সর্বনাশ

রকিবুল ইসলাম: রাজধানী ঢাকা ছাড়াও খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বেশি লিচু পাঠানো হচ্ছে।

খবরের কাগজ: পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব কেমন?

রকিবুল ইসলাম: পরিবহন খরচ গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এতে ব্যবসার ব্যয় অনেক বেড়েছে এবং লাভের পরিমাণ কমে গেছে।

খবরের কাগজ: লিচু রপ্তানির সম্ভাবনা কতটা?

রকিবুল ইসলাম: বাংলাদেশের লিচুর মান খুব ভালো। সরকারি সহযোগিতা ও আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বিদেশে লিচু রপ্তানির বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

খবরের কাগজ: ব্যবসার প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?

রকিবুল ইসলাম: সারের দাম, কীটনাশকের দাম এবং শ্রম ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও সেই অনুযায়ী বাজারদর সব সময় পাওয়া যায় না। এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

খবরের কাগজ: মৌসুমের শেষ দিকে দামের কী অবস্থা হতে পারে?

রকিবুল ইসলাম: সাধারণত মৌসুমের শেষ দিকে দাম বেড়ে যায়। এ বছর উৎপাদন কম হওয়ায় দাম আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে যে দাম রয়েছে, তা থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

দিনাজপুরের চাষি মনিরুজ্জামান চৌধুরী ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’
লিচুচাষি মনিরুজ্জামান চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের শীর্ষ লিচু উৎপাদন এলাকা দিনাজপুরে এবার চায়না-থ্রি জাতের লিচুর ফলন তুলনামূলক ভালো হলেও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, শিলাবৃষ্টি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উদ্বেগে রয়েছেন চাষিরা। এ পরিস্থিতি, বাজার দর, উৎপাদন খরচ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার লিচুচাষি মনিরুজ্জামান চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক খবরের কাগজের রাজশাহী ব্যুরোপ্রধান এনায়েত করিম।

দৈনিক খবরের কাগজ : কত বিঘা জমিতে লিচুর চাষ করেছেন?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: গত বছর প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে লিচুর চাষ করেছিলাম। এ বছর সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ২১ বিঘা হয়েছে। আমার বাগানে চায়না-থ্রি, বোম্বাই, মাদ্রাজি ও বেদানা জাতের লিচু রয়েছে। তবে এ বছর বেদানা, মাদ্রাজি ও বোম্বাই জাতের গাছে খুব একটা মুকুল আসেনি। অন্যদিকে চায়না-থ্রি জাতের ফলন বেশ ভালো হয়েছে।

দৈনিক খবরের কাগজ: গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন কেমন হয়েছে?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: চায়না-থ্রি জাতের ফলন গত বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে। তবে আবহাওয়ার কারণে কিছু ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির ফলে ফল ঝরে গেছে এবং পরিচর্যার খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন ভালো হলেও বাড়তি ব্যয়ের চাপ রয়েছে।

দৈনিক খবরের কাগজ: আবহাওয়ার প্রভাব কতটা পড়েছে?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: আবহাওয়ার প্রভাব অনেক বেশি ছিল। কখনো প্রচণ্ড দাবদাহ, আবার হঠাৎ বৃষ্টি হয়েছে। এতে মুকুল ঝরে গেছে, অনেক ক্ষেত্রে পুড়েও গেছে। ফলে বাড়তি পরিচর্যা করতে হয়েছে। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে বেশি কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়েছে।

দৈনিক খবরের কাগজ: রোগবালাইয়ের আক্রমণ কেমন ছিল?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: আবহাওয়ার কারণে রোগবালাইয়ের চাপ অন্য বছরের তুলনায় বেশি ছিল। তাই নিয়মিত নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। তা না হলে ফলনের ক্ষতি আরও বেশি হতো।

দৈনিক খবরের কাগজ: প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ কত হয়েছে?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: প্রতি বিঘায় গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন লিচু সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ১০ থেকে ১১ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থাৎ ১০০ লিচু প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসাবে প্রতি বিঘা থেকে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে বলে আশা করছি।

আরও পড়ুন: ‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’

দৈনিক খবরের কাগজ: বর্তমান বাজার দরে বিক্রি করে লাভ হচ্ছে, নাকি লোকসান?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: এখনো বাজারে চাহিদা কিছুটা কম। ঈদের কারণে ক্রেতা কম ছিলেন। তবে ঈদ শেষ হওয়ায় মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করায় চাহিদা বাড়ছে। ফলে দামও বাড়তে শুরু করেছে। এতে কৃষক কিছুটা লাভবান হবে।

দৈনিক খবরের কাগজ: লিচু কোথায় বিক্রি করছেন?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: বেশির ভাগ লিচু বাগান থেকেই বিক্রি হয়। ঢাকা ও বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগানে আসেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও ক্রেতারাও বাগান পরিদর্শন করে লিচু কিনে নিয়ে যান। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও সহযোগিতা করছেন।

দৈনিক খবরের কাগজ: সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: সরকার যদি আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করে, তাহলে কৃষকরা একসঙ্গে সব ফল বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। এতে ভালো দাম পাওয়া সম্ভব হবে। কেননা, লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি। পাশাপাশি লিচু ও আম রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে হবে। আর কৃষকদের ব্যবহৃত বালাইনাশক যেন সঠিক দামে ও মানসম্মতভাবে পাওয়া যায়, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন।