পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় এবার সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে এখন শুধু হলুদ ফুলের ঢেউ। সরিষার এই ফলনে এ এলাকার কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আগের বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন হয়েছে। এতে দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন তারা।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এবারের ফলন ভালো হওয়ার কারণ অনুকূল আবহাওয়া এবং চাষে যথাযথ পরিচর্যা। এবার বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। এতে সরিষা চাষে জমির পরিমাণও বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে যেখানে ৭২০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হতো; এখন ১ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে। পৌর এলাকা ও সাঁড়া, পাকশী, সলিমপুর, দাশুড়িয়া, মুলাডুলি, সাহাপুর, লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে কম-বেশি সরিষার আবাদ হয়। তবে সলিমপুর, দাশুড়িয়া ও মুলাডুলি ইউনিয়নে সরিষার আবাদ বেশি হয়। উপজেলায় এবার ১ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৮০ টন।
এ অঞ্চলের কৃষকরা পাঁচ জাতের সরিষার চাষ করে থাকেন। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল বারী-৯, বারী-১৪, বারী-১৫, বীনা-৯ ও টরি-৭ জাত। এসব জাতের সরিষা কৃষকদের জন্য লাভজনক হয়েছে। বিশেষ করে বারী-১৪ জাতের সরিষা চাষ খুব পরিচিত। এতে কম খরচে ভালো ফলন হয়।
মুলাডুলি ইউনিয়নের সরইকান্দি গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী শেখ জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে বারী-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছেন। তিনি জানান, বারী-১৪ জাতটি উচ্চ ফলনশীল এবং তাতে খুব কম খরচ হয়। প্রতিবিঘা জমিতে সাধারণত ৪ মণ সরিষা পাওয়া যায়। খরচ বাদে প্রতিবিঘায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা লাভ হয়। তাই তিনি আগামী বছরও এই ফসলের চাষ করবেন।
ইস্তা গ্রামের কৃষক ফজলু দেওয়ান জানান, এবার তিনি ১১ বিঘা জমিতে বারী-১৪ ও বারী-৯ জাতের সরিষার চাষ করেছেন। প্রতিবিঘা জমিতে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতিবিঘায় ৪ মণ করে ফলন হবে। এতে তিনি ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন।
পৌর এলাকার সাঁড়া গোপালপুর গ্রামের কৃষক হাসান চৌধুরী জানান, তিনি প্রতিবছর সরিষার আবাদ করে থাকেন। এ বছর তিনি দেশি সরিষা ও বারী-১৮ জাতের সরিষার চাষ করেছেন। তিনি আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে গত বছরের তুলনায় এবার লাভ বেশি হবে। অন্য ফসলের তুলনায় সরিষার চাষ বেশি লাভজনক।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার বলেন, ‘সরকার সয়াবিন তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং সরিষার চাষ বাড়াতে তিন বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ওই পরিকল্পনার আওতায় কৃষকদের সরিষা চাষে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। সরিষা লাভজনক ফসল। কম শ্রমে কৃষকরা ভালো লাভ পান।’
মিতা সরকার আরও বলেন, ‘এই উপজেলার মাটি সরিষা চাষের জন্য উপযোগী। আবহাওয়া এখনো অনুকূল রয়েছে। এটি বজায় থাকলে এবারও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।