নড়াইলে সরিষা চাষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কৃষকরা কম খরচে লাভজনক এই ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, তিনটি উপজেলায় ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৪৬২ হেক্টর বেশি। সরিষার উৎপাদিত তেল দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ বছর সরিষার চাষ বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি। সরিষার তেল ভোজ্যতেলের বাজারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের মধ্যে চাষাবাদে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলায় যথাক্রমে ৪ হাজার ৪৩০ হেক্টর, ৫ হাজর ৩৬০ হেক্টর ও ৩ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এই চাষের মাধ্যমে ১৭ হাজার ৯৯৩ টন সরিষার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সদর উপজেলার চাষি ইশারত শেখ জানান, তিনি এক একর জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন এবং গাছ খুব ভালো হয়েছে। এতে তিনি আশা করছেন এবারও ভালো ফলন হবে। ভওয়াখালীর চাষি লতিফ হোসেন বলেন, ‘প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা এবং ফলন সাধারণত ৬-৭ মণ হয়। প্রতি মণ সরিষার বাজারমূল্য ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
উজিরপুর এলাকার চাষি নৃপেন বিশ্বাস জানান, গত বছর আশানুরূপ দাম পাওয়ার পর এবছর কৃষকরা সরিষা চাষে আরও বেশি আগ্রহী হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সরিষা চাষে খরচ কম, ফলনও ভালো। গত বছর বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা এই বছর আরও বেশি জমিতে সরিষা চাষ করছেন।’ এ ছাড়া বাহিরডাঙ্গা এলাকার অনুপ দাস জানালেন, সরিষা চাষে খরচ কম ও রোগবালাইও খুব কম হয়। এতে লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন সরিষা চাষে উৎসাহী হচ্ছেন চাষিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার জানান, মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে সরিষাচাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং উন্নত জাতের সরিষা চাষে তাদের পরামর্শ দিছেন। তিনি বলেন, ‘সরিষা ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাস মেয়াদি ফসল, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক। কম খরচে কম পরিশ্রমে সরিষা চাষ করা সম্ভব, এই ফসলের মাধ্যমে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরিষা চাষ মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।