রাঙামাটি পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে কমলা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন সুদত্ত চাকমা। নানিয়ারচর উপজেলার ১৭ মাইল ৭৭ নং তৈ চাকমা মৌজা এলাকায় তার বাগানে চায়না কমলা ও দার্জিলিং কমলার গাছ রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে স্বাবলম্বী করেছেন এবং ১০-১২ জন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। কমলার বাগানটি এখন পর্যটকদের জন্য আকর্ষণও তৈরি করেছে। এটি স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। খবর বাসসের।
গত কয়েক বছর আগে সুদত্ত চাকমা তার পতিত ৪ একর জমিতে প্রথমে চায়না জাতের কমলা ও পরে দার্জিলিং জাতের কমলার চাষ শুরু করেন। ৩-৪ বছরের মধ্যে তার বাগানে কমলার ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে সেখানে ৪০০টি চায়না কমলা ও ৪৫০টি দার্জিলিং কমলার গাছ রয়েছে। তার কমলা চাষ এলাকার অনেক বেকার যুবকের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। বাগানে কাজ করে প্রতিদিন ১০-১২ জন যুবক তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন।
সুদত্ত চাকমা কমলা বাগান করে এলাকার উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। এই বাগান থেকে উৎপাদিত কমলা জেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে কমলা সংগ্রহ করে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছেন। বর্তমানে চায়না কমলা প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দার্জিলিং কমলা প্রতি কেজি ৩০০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুদত্ত চাকমা তার বাগান থেকে এ বছর ৫-৬ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
বাগানের পাশাপাশি সুদত্ত চাকমা তার বাগানে কমলার চারা তৈরি করে বিক্রি করছেন। এই চারাগুলো জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের কাছে বিক্রি হচ্ছে। ফলে তার ব্যবসা শুধু চাষাবাদের সীমিত নয়, এটি একটি নতুন কৃষি উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে কমলা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলের পাহাড়ে কমলার বাগান বাড়ছে। এসব বাগানে উৎপাদিত কমলা দেশে ও দেশের বাইরে রপ্তানি হচ্ছে। বাগাইছড়ি, বিলাইছড়ি, লংগদু, রাজস্থলী, বরকলসহ জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও কমলার আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরকারি সহায়তা ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের পরিত্যক্ত জমিগুলোতে কমলা চাষকে আরও বাড়ানো সম্ভব। এতে শুধু কৃষকদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ হবে না, বরং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্থানীয়রা মনে করছেন, পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিগুলো কমলা উৎপাদনের জন্য কাজে লাগানো গেলে এই অঞ্চলটি কমলা চাষের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাবে।
সুদত্ত চাকমা তার বাগানে কমলা চাষের পাশাপাশি মাল্টা, কাজু বাদামসহ আরও ১০-১৫ রকমের অন্যান্য বিদেশি ফলের বাগানও শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি পাহাড়ের কৃষি সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করছেন। তার এই উদ্যোগে অনেক মানুষ কৃষিকাজে আগ্রহী হচ্ছেন।
এ ছাড়া সুদত্ত চাকমার কমলা বাগান এখন একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিণত হয়েছে। রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের পাশে ১৬ মাইল এলাকায় তার কমলা বাগান দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। তারা সেখানে কমলা কিনছেন এবং গাছের চারা সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। এটি তার ব্যবসা ও এলাকার কৃষির জন্য একটি বড় ধরনের সাফল্য।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তপন কুমার পাল জানান, সুদত্ত চাকমার মতো উদ্যোক্তারা পাহাড়ে কৃষির নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এসব বাগান দেখতে গিয়েছি। সুদত্ত চাকমার উদ্যোগ জেলার কৃষির উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ বছর রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকায় ৬৩৭ হেক্টর জমিতে কমলা চাষ হয়েছে। প্রতিটি হেক্টরে ১০ টনেরও বেশি ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।’