ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর গ্রামে উন্নত বাহুবলী জাতের টমেটো চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন কৃষক শাহাবুদ্দিন শেখ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে তিনি এ জাতের টমেটো চাষ শুরু করেছেন। এতে তিনি আশা করছেন, এই চাষ থেকে ব্যয়ের তিন থেকে চার গুণ বেশি লাভ পাবেন।
শাহাবুদ্দিন শেখ গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন ৩০ শতক জমি লিজ নিয়ে বাহুবলী জাতের টমেটো আবাদ করেছেন। তার খেতজুড়ে সারি সারি গাছের থোকায় থোকায় পাকা টমেটো ঝুলছে। সবুজ পাতার মধ্যে লাল-কমলা রঙের টমেটো দেখতে দারুণ। তিনি একজন শ্রমিক নিয়ে প্রতিদিন খেত থেকে টমেটো তুলে বাজারে বিক্রি করছেন।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে শাহাবুদ্দিন ৩০ শতক জমিতে বাহুবলী জাতের টমেটোর চারা রোপণ করেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এই খরচের মধ্যে রয়েছে শ্রমিকের মজুরি, সার, কীটনাশক ও চারা লাগানোর খরচ। আড়াই মাস পর থেকেই টমেটো পেতে শুরু করেন তিনি। গত দুই সপ্তাহে তিনি প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকার টমেটো বাজারে বিক্রি করেছেন। প্রতিদিন ৪০-৫০ কেজি টমেটো পাচ্ছেন। প্রতি কেজি টমেটো ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি দামে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে।
কৃষক শাহাবুদ্দিন শেখ জানান, চলতি জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি অন্তত দেড় লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করবেন। তার সাফল্য দেখে গোপালপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘মনের ইচ্ছা, শ্রম ও মেধা কাজে লাগালে সফলতা আসে।’ কৃষক শাহাবুদ্দিন তার খেতের বাম্পার ফলন দিয়ে এই কথার প্রমাণ দিয়েছেন। তিনি আশাবাদী, খরচের চেয়ে অনেক বেশি লাভ হবে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে টমেটো চাষে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘টমেটো চাষে ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়া গেছে। আগামীতে বাহুবলী জাতের টমেটো চাষ আরও বাড়বে।’