কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় চলতি বছরে সরিষার আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর ৯৯৭ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করার লক্ষ্য ছিল। তবে কৃষকরা ১ হাজার ২৪ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন, যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২৭ হেক্টর বেশি।
এ সফলতার মূল কারণ ছিল কৃষকদের জন্য সরকারি উদ্যোগ। কৃষকদের বিনামূল্যে সরিষার উন্নত বীজ, সার ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উন্নত হাইব্রিড বীজের ব্যবহারে ফলনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ফসলের গুণাগুণও ভালো হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।
কৃষক মনজের শেখ জানান, তিনি কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে দুই কেজি হাইব্রিড জাতের সরিষা বীজ ও রাসায়নিক সার পেয়েছিলেন। তিনি দুই বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন এবং ফলন ভালো হয়েছে বলে আশা করছেন। কৃষক রেজাউল করিম জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষার আবাদে বেশি লাভ হয়। মাত্র ১২০ দিনের মধ্যে ফসল আসে এবং ওই জমিতে অন্য ফসল আবাদ করা যায়।
কৃষক রঞ্জিত মল্লিক বলেন, গত বছর তার জমিতে সরিষা আবাদ করেছিল। ওই সময় মৌমাছি পালনকারীরা মধু সংগ্রহ করতে এসে জমির সরিষাও বেশি উৎপাদন করেছিল। তবে এ বছর ফলন কিছুটা কম হয়েছে। উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোকন হোসেন জানান, কৃষকদের জন্য উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং সরেজমিনে পরামর্শ দেওয়ার ফলে সরিষার উৎপাদন ভালো হয়েছে। তিনি আশা করছেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সরিষা উৎপাদন হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘খোকসা উপজেলার মাটি সরিষার উৎপাদনের জন্য উপযোগী। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে উপজেলায় উৎপাদিত সরিষা জেলার চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে।’ তিনি আশা করছেন, কৃষকরা সরিষার আবাদ করে অন্যান্য ফসল আবাদ করার মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।