লেখাপড়া শেষে এক বেসরকারি চাকরিতে যোগ দেন মামুন। কাজের পরিবেশ ভালো না হওয়ায় চাকরি ছেড়ে দেন। পরে ১৯৯৭ সালে বিসিক থেকে মৌবক্সের মাধ্যমে মধু সংগ্রহের প্রশিক্ষণ নেন। মাত্র ২ হাজার ৬০০ টাকায় চারটি মৌবক্স কিনে শুরু করেন মৌচাষ। তিনি সরিষাখেত, লিচু ফুল, কালোজিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করেন। এরপর থেকে তার জীবনে পরিবর্তন আসে। ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকভাবে মৌচাষ শুরু করেন। আজ তার খামারে কয়েক শ মৌমাছির বক্স রয়েছে।
মামুন এলাকার শতাধিক বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় তিনি এখন মধু-মামুন হিসেবে পরিচিত। তার খামারে বর্তমানে ২৫ জন কর্মী কাজ করেন। তার খামারের মধু দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ হয়। তার উৎপাদিত মধু এখন অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
দিন দিন এ অঞ্চলে সরিষাখেতে মৌচাষে মধু আহরণ খুবই জনপ্রিয় হচ্ছে। একদিকে মানসম্মত মধু উৎপাদিত হচ্ছে। অন্যদিকে এতে সরিষার উৎপাদনও বাড়ছে। যদি সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে সরিষা উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। বিপুল পরিমাণ মধু বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে।
মধু-মামুন জানান, ১৯৯৭ সালে তিনি চারটি মৌবক্স কিনে মৌচাষ শুরু করেন। এর পর মৌচাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। খামারের মধু উৎপাদন বাড়াতে থাকেন। আজ তার খামারে কয়েক শ মৌবক্স রয়েছে। কুষ্টিয়া, চলনবিল, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনি মধু আহরণ করতে যান। কৃষি অফিসের সহায়তায় তিনি উন্নতমানের বক্স, রানি মৌমাছি ও মধু আহরণের জন্য পিকআপ পেয়ে লাভবান হয়েছেন।
মামুন সরিষা, কালোজিরা, লিচু ফুলের মধু সংগ্রহ করেন। এই বছর তার ৩০০টি বক্স থেকে ২ হাজার কেজি মধু উৎপন্ন হবে বলে আশা করছেন। প্রতি কেজি মধু ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তাই চলতি মৌসুমে তিনি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মধু বিক্রি করতে পারেন।
মামুনের খামারের শ্রমিক আলী জানান, এই খামারে কাজ করেই তার সংসার চলে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মধু সংগ্রহ করতে হয়। এখান থেকেই সারা দেশে মধু সরবরাহ করা হয়। তিনি বলেন, ‘মধু-মামুনের খামারে কাজ করতে পেরে ভালো লাগে।’
খামারের শ্রমিক স্বাধীন আহাম্মেদ বলেন, ‘মধু উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করি। কুরিয়ারের মাধ্যমে কিংবা সরাসরি এ মধু পৌঁছে দেওয়া হয়।’
মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘মামুনের সাফল্য দেখে অনেকেই মৌচাষে আগ্রহী হয়েছেন। তিনি প্রযুক্তি ব্যবহার করে মধুর মান অক্ষুণ্ন রাখেন। মৌচাষের মাধ্যমে সরিষাখেত থেকে মধু আহরণ করলে পরাগায়নের মাধ্যমে সরিষা আরও ভালোভাবে বাড়ে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে কুষ্টিয়ায় ৫৫ জন খামারি ১ হাজার ১৬৪টি মৌবক্সের মাধ্যমে ৫ হাজার ৯২৪ কেজি মধু সংগ্রহ করেছেন। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।