দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মুকুলে ছেয়ে গেছে বাগান। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সদর, বিরল, চিরির বন্দরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বাণিজ্যিক লিচু চাষ করা হয়েছে। বেদনা, চায়না-টু, চায়না-থ্রি, কাঁঠালি, মাদ্রাজি সোনালি লিচুর বাম্পার ফলন আশা করা হচ্ছে। গত বছর দুর্যোগের কারণে ক্ষতি হলেও এবার ভালো ফলন হতে পারে। এ ছাড়া বিদেশে লিচুর চাহিদাও রয়েছে।
সদর উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের লিচু চাষি গোলজার হোসেন বলেন, সদর উপজেলার মাছিমপুর, আউলিয়াপুর, উলিপুর, খানপুর, মহাব্বতপুর চেরাডাঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকায় লিচু বাগান মুকুলে ভরপুর। আগাম লিচুর বাগানের ফল মালিকরা তা বিক্রি করে দিয়েছে। এ ছাড়া অনেকে বাম্পার ফলনের আশায় লিচুগাছ পরিচর্যা করছেন। গত দুই বছর লিচুর ফলের ক্ষতি হওয়ায় এবার ফল ভালো পাওয়ার আশায়। বৈশাখের মাঝামাঝি আগাম জাতের লিচু বাজারে আসতে শুরু করবে।
সদর, চিরিরবন্দর, বিরলসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, বাসা-বাড়ি ছাড়াও অনেকে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে তাদের লিচু গাছগুলোতে ফুটেছে মুকুল। এখানে দেশীয় জাতের কাঁঠালি, মাদ্রাজি সোনালি ও বোম্বাই লিচুর ফলন অধিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব গাছের লিচু মৌসুমের শুরুতে বাজারে তুলা যায়।
গত দুই বছর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চায়না ভ্যারাইটি লিচু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার কিছুটা ব্যতিক্রম। চায়না ভ্যারাইটির গাছে লিচুর মুকুল দেখা দিয়েছে। চাষিরা ব্যাপক পরিচর্যা করছেন এবং ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দিনাজপুরে ফল নিয়ে গবেষণা নিয়োজিত হর্টিকালচার বিভাগের সহকারী পরিচালক রাশেদুজ্জামান সৈকত জানান, দিনাজপুরের লিচু গাছগুলোয় গত বছরের তুলনায় এবার আশানুরূপ মুকুল ধরেছে। এসব মুকুল থেকে বেশি পরিমাণ ফলন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গাছগুলোতে ওষুধ প্রয়োগসহ নানামুখী পরিচর্যা করছেন বাগানিরা। এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নুরুজ্জামান মিয়া বলেন, অনুকূল আবহাওয়া থাকায় লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি মৌসুমি জেলায় ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ও ফাঁকা জায়গায় লিচুর গাছ রয়েছে।
কৃষি বিভাগের সূত্রে জানায়, গত বছরে কয়েক দফায় বেদনা ও চায়না থ্রি লিচু রপ্তানি করা হয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্স আমেরিকা ও ব্রিটেনে লিচুগুলো পৌঁছানো হয়েছে। এবারও ওই সব দেশসহ আরও কয়েকটি দেশে লিচুর চাহিদা রয়েছে। ওই অনুযায়ী লিচু সরবরাহ করা হবে। সূত্র: বাসস