নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় ঘোষপাড়ার তিন ভাই বিষমুক্ত সবজি চাষে সফল হয়েছেন। প্রায় সাত বছর আগে তারা শসা চাষ দিয়ে খামার শুরু করেন। পরবর্তী সময় টমেটো, বেগুন, মরিচ ও বাঁধাকপি চাষ করেন। এখন মাসে ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় করছেন। তাদের খামারের সবজি বাজারে দ্রুত বিক্রি হয়। কৃষি বিভাগ তাদের আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদে সহযোগিতা করছে। এই সফলতা স্থানীয় কৃষকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়া পৌরসভার ঘোষপাড়ার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রমজান খান (২৬) প্রায় সাত বছর আগে কৃষি খামার শুরু করেন। শসা চাষের মাধ্যমে কৃষিকাজে পা রাখলেও আগে কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না তার। পরবর্তী সময় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিনি মালচিং পদ্ধতিতে শসার পাশাপাশি আগাম জাতের টমেটো, বেগুন, মরিচ ও বাঁধাকপি চাষ শুরু করেন। এরপর রমজানের দুই বড় ভাই এলাহী খান ও ওয়ায়েস খান তার সঙ্গে যোগ দেন। এখন তারা একত্রে ৫০ শতক জমিতে সবজি চাষাবাদ করছেন। এতে খরচ বাদে মাসে ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় হয়।
রমজান জানান, আগাম জাতের টমেটো প্রথম দিকে ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। সাথি ফসল হিসেবে বাঁধাকপি, বেগুন ও মরিচের চাষও করেছেন। তাদের সবজি সম্পূর্ণ বিষমুক্ত, যা বাজারে দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। এই কৃষি খামারের কারণে আরও কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা তাদের সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছেন।
কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক বলেন, ‘আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষে রমজান ও তার ভাইয়ের সাফল্য এলাকার জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার ফলে সার ও পানির অপচয় কমে গেছে এবং আগাছাও দূর হয়। কৃষি বিভাগ এই ধরনের বিষমুক্ত সবজি চাষাবাদে সহযোগিতা করে চলেছে। কৃষকদের উন্নতির জন্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে ভালো ফলন হওয়ায় এলাকার কৃষকরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি বেকারত্বও দূর হচ্ছে।’ সূত্র: বাসস।