নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় আগাম বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে হারভেস্টার মেশিন কম থাকায় অনেককে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। এতে খরচ বেশি হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নিচ্ছে মেশিন মালিকরা। হাওরে বেশি মেশিন পাঠানোয় উপজেলার কৃষকরা সুবিধা পাচ্ছেন না। কৃষি বিভাগ বলছে, নির্ধারিত দামের বেশি নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঠে আরও মেশিন দরকার।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্বধলা উপজেলায় মোট ১০৮টি হারভেস্টার মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ থেকে ৭০টি মেশিন ইতোমধ্যে বিকল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সচল রয়েছে ৩৮টি মেশিন। এসব মেশিন দিয়ে ধান কাটা ও মাড়াই করা যায়।
জানা গেছে, একটি মেশিনের মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। সরকার ৫০ ভাগ ভর্তুকিতে এসব মেশিন সরবরাহ করেছে। বাকি ৫০ ভাগ টাকা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
কৃষকরা জানাচ্ছেন, মাঠে গিয়ে তারা মেশিন পাচ্ছেন না। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, বর্তমানে হারভেস্টার মেশিনগুলো হাওর অঞ্চলে কাজ করছে। এতে পূর্বধলার কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে শ্রমিক দিয়ে বেশি খরচে ধান কাটতে হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
নারান্দিয়া গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ১০ কাঠা জমির ধান কাটতে প্রতিজন শ্রমিককে ৭০০ টাকা করে মজুরি দিতে হয়েছে। পরে আবার ২০ মণ ধান মাড়াই করাতে হয়েছে। এতে খরচ অনেক বেড়েছে। মাঠে আরও মেশিন সরবরাহ করা জরুরি।’
গত বোরো মৌসুমে ধান কাটার জন্য কৃষি অফিস থেকে নির্ধারিত ছিল বিঘাপ্রতি ২ হাজার টাকা। ওই হিসেবে ৮ শতক জমির ধান কাটার খরচ ৫০০ টাকার কম পড়ার কথা।
কৃষকদের অভিযোগ, কিছু হারভেস্টার মালিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। তারা বলছেন, এসব মালিককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
ঘাগড়া ইউনিয়নের বাইঞ্জা গ্রামের কৃষক রহমান বলেন, ‘সরকার কৃষকদের জন্য ভর্তুকিতে মেশিন দিচ্ছে। কিন্তু সরকারি নজরদারি না থাকায় কিছু মানুষ অতিরিক্ত দামে ধান কেটে লাভ করছেন। হাওরে বেশি মেশিন পাঠানোয় অন্যান্য এলাকার কৃষকরা সমস্যায় পড়ছেন।’
হারভেস্টার মালিক মেঘশিমুল গ্রামের আনারুল সরকার বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হাওর অঞ্চলে ধান কাটতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে মেশিনগুলো আবার উপজেলায় ফেরত আসবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভিন্ন জাতের ধানের কারণে একেক জায়গায় একটু একটু করে ধান কাটতে হয়। এতে পোষায় না। আবার কখনো ধান বাড়িতে পৌঁছে দিতে হয়। এজন্য মাঝে-মধ্যে একটু বেশি টাকা নিতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি ৫০ ভাগ ভর্তুকিতে একটি মেশিন নিয়েছিলাম। কিন্তু এক সিজন কাটার পরই মেশিনটি নষ্ট হয়ে যায়।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন বলেন, ‘আমরা কয়েকবার মেশিন মালিকদের নিয়ে সভা করেছি। সভায় প্রতি এক একর জমির ধান কাটার জন্য ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কেউ এর অতিরিক্ত নিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাওর অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা থাকায় সেখানকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’