কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গোলাপের চর-চেঙ্গাকান্দি, গঙ্গাপ্রসাদসহ গোমতী নদীর চরে অধিকাংশ এলাকায় জৈব পদ্ধতিতে দেশি করলা চাষে বিপ্লব ঘটেছে। এতে কৃষক প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি লাভবান হচ্ছেন। প্রতি মণ করলা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশিজাতের করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বাজারে বিষমুক্ত এ করলার চাহিদা যেমন বেশি, চাষেও খরচ কম হচ্ছে।
উপজেলায় আগে করলাখেতে পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহার করতেন চাষি, যা ছিল ব্যয়বহুল ও স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর। পরে তারা কৃষি বিভাগের পরামর্শে করলা চাষে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার শুরু করেন।
বাজারে বিষমুক্ত সবজির চাহিদা ও দাম বেশি থাকলেও সুষ্ঠু বাজার কাঠামো না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয় চাষিকে। এ জন্য বিষমুক্ত সবজির একটি নির্দিষ্ট বাজার স্থাপনের দাবিও রয়েছে কৃষকের।
গোলাপের চর গ্রামের কৃষক মো. মহাসিন আহম্মেদ বলেন, জৈব সার দিয়ে সবজি উৎপাদনে আমরা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছি। জৈব সার ব্যবহার করে আমাদের দেশিজাতের করলা চাষে বিপ্লব ঘটেছে। খরচ কম, ফলন বেশি, বাজারে দামও পাচ্ছি।
গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামের কৃষক মো. মমিন বলেন, ‘আমরা যেন বিষমুক্তভাবে করলার পাশাপাশি অন্যান্য ফসল ফলাতে পারি। এ জন্য আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট বিষমুক্ত সবজি বাজার স্থাপনের দাবি জানাই।’
বিষমুক্ত করলা চাষে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় কৃষি পদপ্রাপ্ত অধ্যাপক মতিন সৈকত তিনি বলেন, বিষমুক্ত সবজি চাষ হলো রাসায়নিক সার ও ক্ষতিকর কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব সার, ফেরোমন ফাঁদ, এবং আইপিএম পদ্ধতি ব্যবহার করে নিরাপদ সবজি উৎপাদন। এর মূল হলো সুষম সার, জৈব বালাইনাশক, মালচিং পেপার, এবং বন্ধু পোকার ব্যবহার এতে উৎপাদন খরচ কম হয় এবং বিষমুক্ত সবজি বেশি দামে বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হন। রাসায়নিক সারের বদলে গোবর সার, কম্পোস্ট, ট্রাইকো-কম্পোস্ট এবং সবুজ সার ব্যবহার করা। করলা, বেগুন, টমেটো, লাউ ইত্যাদি সবজিতে পোকা দমনে এই ফাঁদ অত্যন্ত কার্যকর।
হলুদ আঠালো ফাঁদ
সবজিখেতে হলুদ স্টিকার বা আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকা ধরা যায়। উপজেলায় বিষমুক্ত সবজি ফলনে আমরা ব্যাপকভাবে কৃষকদের প্রশিক্ষণ পরামর্শসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিগার সুলতানা বলেন, ‘উপজেলায় এ বছর ১৪০ হেক্টর জমিতে করলার চাষ হয়েছে। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। উপজেলার অধিকাংশ করলা চাষি জৈব চাষে উৎপাদিত দেশি করলার দামও পাচ্ছেন কৃষকরা।’