ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার
Nagad desktop

দক্ষিণাঞ্চলে সূর্যমুখী চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
দক্ষিণাঞ্চলে সূর্যমুখী চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠ সূর্যমুখী ফুলে ভরে উঠেছে। ছবি: খবরের কাগজ

বরিশাল বিভাগে সূর্যমুখী চাষে এ মৌসুমে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হওয়ায় বাম্পার ফলনের আশায় রয়েছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। কম খরচে তুলনামূলক বেশি লাভের সুযোগ থাকায় তেলবীজ ফসলটি দ্রুত কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি উন্নত বীজের সংকট, বাজারব্যবস্থার দুর্বলতা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের অভাবকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার ছয় জেলায় সূর্যমুখী চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৫৭৭ হেক্টর জমি। তবে আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ২৬৮ হেক্টরে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০৮ দশমিক ৬ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে পটুয়াখালী জেলায়–৩ হাজার ৫৩৯ হেক্টর। বরগুনায় ৩ হাজার ৩০২ হেক্টর, পিরোজপুরে ৯৮৪, ভোলায় ৯৫০, ঝালকাঠিতে ২৬৫ এবং বরিশাল জেলায় ২৩৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পটুয়াখালীতে প্রায় দ্বিগুণ জমিতে সূর্যমুখী চাষ এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কম খরচে অধিক ফলন এবং ভোজ্যতেলের চাহিদা বাড়ায় কৃষকরা এ ফসলে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে বারি সূর্যমুখী-৩ ও ডিএস-১ (হাইব্রিড) জাতের ফলন ভালো হওয়ায় এসব জাতের চাষ বাড়ছে।

বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া এলাকার কৃষক বেল্লাল হোসেন বলেন, আগে ধান চাষে খরচ বেশি হলেও লাভ কম ছিল। এবার সূর্যমুখী চাষে খরচ কম, ফলন ভালো হলে লাভ বেশি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

নবগ্রামের কৃষক ইউনুস মোল্লা জানান, ২০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান কৃষক খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, প্রথমবার সূর্যমুখী চাষ করে ইতিবাচক ফল পাচ্ছেন। মাঠভরা ফুল দেখে ভালো লাগছে, তেলের দাম ভালো থাকায় লাভের সম্ভাবনাও দেখছেন।

হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের কৃষক মো. বাসেদ মোল্লা জানান, কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সার পেয়ে তিনি উপকৃত হয়েছেন। প্রথমবারের মতো ৩০ শতাংশ জমিতে চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন এবং আগামীতে আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা সূর্যমুখীকে সম্ভাবনাময় তেলবীজ ফসল হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি লবণাক্তসহ বিভিন্ন ধরনের জমিতে ভালো ফলন দেয় এবং দেশের ভোজ্যতেলের আমদানি-নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। দক্ষিণাঞ্চলের পতিত জমি কাজে লাগানোর সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

কৃষি অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক মজিবুল হক মিয়ার মতে, সূর্যমুখী চাষ বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় তেলবীজ খাত হলেও এর সফলতা নির্ভর করছে সঠিক পরিকল্পনা, বাজারসংযোগ ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর। এটি আমদানি-নির্ভর ভোজ্যতেলের চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং লবণাক্ত জমিসহ অনাবাদি জমি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে। তবে কৃষি বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাবনার পাশাপাশি উন্নত বীজের সংকট, বাজারব্যবস্থার দুর্বলতা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের অভাবকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তার বিশ্লেষণে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ–দুই দিকই উঠে এসেছে। মাটি ও আবহাওয়ার দিক থেকেও সূর্যমুখী বাংলাদেশের জন্য উপযোগী। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততা-সহনশীল জমিতে এটি ভালো ফলন দেয়। রবি মৌসুমে পতিত জমি কাজে লাগিয়ে সূর্যমুখী চাষ করলে জমির ব্যবহার বাড়বে এবং কৃষকের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

অন্যদিকে উন্নত মানের বীজের সংকট একটি বড় সমস্যা। অনেক কৃষক স্থানীয় বা নিম্নমানের বীজ ব্যবহার করায় প্রত্যাশিত ফলন পান না। পাশাপাশি আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবও রয়েছে।

তিনি জানান, উৎপাদন বাড়লেও যদি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হয়, তাহলে কৃষক এই ফসলের প্রতি আগ্রহ হারাতে পারেন। সূর্যমুখী থেকে তেল উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প না থাকাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধান, উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ ও বাজারব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে সূর্যমুখী চাষ দেশের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে এই কর্মকর্তা মনে করেন। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের জমি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বীজ ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে এ ফসল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সময়মতো পূর্বাভাসেই বেঁচে যাচ্ছে চীনের জুঁই

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
সময়মতো পূর্বাভাসেই বেঁচে যাচ্ছে চীনের জুঁই
জুঁই খেতে কাজ করছেন চায়নিজ কৃষক।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পর যখন ফুলের গুণগত মান ও বাজারদর নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন জুঁইচাষি, তখন তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে আবহাওয়া পূর্বাভাস। চীনের বৃহত্তম জুঁই উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কুয়াংসি চুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হেংচৌ শহর এখন আবহাওয়াভিত্তিক সেবা ব্যবহার করে জুঁই শিল্পকে আরও টেকসই করে তুলছে।
মে’র শেষ দিকে হেংচৌর বিস্তীর্ণ মাঠে জুঁই ফুল সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়। সুগন্ধি ও চা শিল্পে ব্যবহৃত এই ফুল আবহাওয়ার প্রতি বেশ সংবেদনশীল। অতিরিক্ত বৃষ্টি ফুলের সুগন্ধ কমিয়ে দেয় এবং গুণগত মান নষ্ট করে, অন্যদিকে খরা ও অতিরিক্ত তাপ কুঁড়ির বিকাশ ব্যাহত করে উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
হেংচৌর ৬৬৭ হেক্টর আয়তনের জুঁই বাগান ‘চাইনিজ জেসমিন গার্ডেন’-এর ব্যবস্থাপক উ চিফু বলেন, জুঁই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। রোদেলা দিনে ফুলের সুগন্ধ বেশি থাকে এবং বাজারমূল্যও ভালো পাওয়া যায়। তবে টানা বৃষ্টিপাত ফুলের দামে ভালো প্রভাব ফেলে। পরপর তিন দিন বৃষ্টি না হলে ক্রয়মূল্য বেড়ে যায়।
বর্তমানে হেংচৌতে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে জুঁই চাষ হয় এবং বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার টনেরও বেশি তাজা ফুল উৎপাদিত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই শিল্পের বার্ষিক উৎপাদনমূল্য ২৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি এবং প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষের জীবিকার সঙ্গে এটি জড়িত।
স্থানীয় জুঁই শিল্পসেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তা হুয়াং ইয়াচি জানান, বিশ্বে উৎপাদিত প্রতি ১০টি জুঁই ফুলের মধ্যে প্রায় ৬টিই হেংচৌতে উৎপাদিত হয়। এখানকার জুঁই ফুলের পণ্য জাপান, মরক্কো, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ ২০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে রপ্তানি করা হয়।
চীনের আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থা কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতেও সহায়তা করছে। উ চিফু বলেন, শুষ্ক মৌসুমে সময়মতো বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়া গেলে প্রতি হেক্টরে অন্তত ১ হাজার ৫০০ ইউয়ান সেচ ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত সেচের কারণে মাটিক্ষয় ও শিকড়ের ক্ষতিও এড়ানো যায়।
শুধু চাষিরাই নয়, আবহাওয়ার প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ও বাজার সংশ্লিষ্টরাও। কুয়াংসি চিনেং মডার্ন এগ্রিকালচারের পরিচালিত জুঁই-সুগন্ধি পণ্য শিল্পপার্ক ‘সিয়াংসিয়াং গার্ডেন’-এর মহাব্যবস্থাপক উ ইয়ুমিং বলেন, বৃষ্টির কারণে ফুলের গুণগত মান ও উৎপাদন কমে গেলে কাঁচামালের দাম বেড়ে যায়। এ ছাড়া জুঁই তেল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফুলের সতেজতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর উচ্চ তাপমাত্রা পরিবহনজনিত ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়।
তিনি বলেন, গ্রীষ্মকাল জুঁইজাত পণ্যের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়। কিন্তু টানা ভারী বৃষ্টিতে কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দিলে পণ্যের দামও বেড়ে যায়। তাই এখন প্রতিষ্ঠানগুলো আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আগাম কাঁচামাল মজুত ও উৎপাদন পরিকল্পনা তৈরি করে।
জুঁই শিল্পকে আরও কার্যকর সহায়তা দিতে হেংচৌ ও কুয়াংসির রাজধানী নাননিংয়ের আবহাওয়া বিভাগ একটি ডিজিটাল জুঁই প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। এই প্ল্যাটফর্মে স্থলভিত্তিক আবহাওয়া কেন্দ্র, রাডার এবং সংখ্যাতাত্ত্বিক পূর্বাভাস মডেলের তথ্য একত্রিত করে কৃষক ও চা উৎপাদকদের মোবাইল ফোনে তাৎক্ষণিক আবহাওয়া তথ্য, সতর্কবার্তা ও কৃষিসেবা সরবরাহ করা হয়।
হেংচৌ আবহাওয়া ব্যুরোর প্রধান কনা লি জানান, জুঁই ফুলের জন্য বিশেষভাবে ঝড়বৃষ্টি-ঝুঁকি পূর্বাভাস ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। আগের দিনের বৃষ্টিপাতের তথ্য, বর্তমান পরিস্থিতি এবং পরবর্তী দিনের পূর্বাভাস একত্রে বিশ্লেষণ করে ফুল সংগ্রহ ও বাজারদরের সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সাল থেকে খরা মোকাবিলা ও জুঁই বাগানের মাটির আর্দ্রতা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ২৪ বার কৃত্রিম বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
কান লি বলেন, আরও বুদ্ধিমান ও নির্ভুল পদ্ধতিতে আবহাওয়া সেবাকে ডিজিটাল জুঁই প্লাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করে শিল্পটির উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। সূত্র: সিএমজি

দক্ষিণাঞ্চলে পেঁপে চাষে নীরব বিপ্লব

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
দক্ষিণাঞ্চলে পেঁপে চাষে নীরব বিপ্লব
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের অর্জুন মাঝি গ্রামের মোস্তফা কামালের বাগানে থোকায় থোকায় পেঁপে ঝুলছে। সম্প্রতি তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

একসময় বাড়ির আঙিনায় সীমিত পরিসরে পেঁপের চাষ হতো। পরিবারের চাহিদা মেটানোর বাইরে এর খুব বেশি গুরুত্ব ছিল না। সেই পরিচিত ফলটিই এখন বদলে দিচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির চিত্র। বরিশাল বিভাগের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করে অনেক কৃষক সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এসব পেঁপে পাঠানো হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় বছরে উৎপাদিত হচ্ছে ৩৫ হাজার ৪০৫ টন পেঁপে। বিশেষ করে বরিশাল সদর ও বাবুগঞ্জ উপজেলায় পেঁপে চাষ এখন লাভজনক কৃষি উদ্যোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। রেডলেডি, শাহী, কাশ্মীরি ও টপলেডি জাতের পেঁপে চাষ করে অল্প সময়েই অনেক কৃষক আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখেছেন।

সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ইছাগুড়া ও পূর্ব ইছাগুড়া গ্রামের মির্জা আনোয়ার হোসেন ফনু, ইব্রাহিম আকন, মকরম প্রতাপ গ্রামের আবুল মহরী, সায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের মো. আরিফুর রহমান, চরকাউয়া ইউনিয়নের নয়ানী গ্রামের বাচ্চু সিকদার, চাঁদপুরা ইউনিয়নের হিজলতলা গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার এবং বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বায়লাখালী গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক সুমন এখন এ অঞ্চলের সফল পেঁপেচাষিদের অন্যতম মুখ।

বাবুগঞ্জের বায়লাখালী গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক সুমনের গল্প এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। প্রবাসজীবন শেষে পাঁচ বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেছিলেন পেঁপে চাষ। সেই উদ্যোগই আজ তাকে এনে দিয়েছে আর্থিক সচ্ছলতা, পরিচিতি এবং সম্মাননা।

গত পাঁচ বছরে কাঁচা ও পাকা মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন তিনি। শুধু ফল বিক্রিই নয়, গত দুই বছর ধরে পেঁপের চারা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে তৈরি করেছেন নতুন আয়ের ক্ষেত্র। সুমন জানান, একটি পেঁপেগাছে সর্বোচ্চ সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। কোনো কোনো পেঁপের ওজন পাঁচ কেজি পর্যন্ত হলেও অধিকাংশের ওজন দুই থেকে তিন কেজির মধ্যে। বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি ১৭ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁপে বিক্রি করেন।

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘২০২৩ সাল ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সফল বছর। ওই বছর শুধু পেঁপে চাষ থেকেই প্রায় ২০ লাখ টাকা লাভ করেছি। এখন ফল বিক্রির পাশাপাশি চারাও বিক্রি করছি। এত চাহিদা যে কৃষকদের সিরিয়াল দিয়ে চারা নিতে হয়।’

চারা বিক্রির ক্ষেত্রেও রয়েছে তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তিন থেকে চারটি চারা একসঙ্গে একটি পলিব্যাগে দিয়ে মাত্র ৪০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।

সুমন বলেন, ‘রোপণের পর কোনো চারা নষ্ট হয়ে গেলেও যেন অন্তত একটি গাছ বেঁচে থাকে, সেই চিন্তা থেকেই একাধিক চারা দিই। কৃষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটাই আমার মূল লক্ষ্য। অনেক সময় যাদের চারা দিতে পারি না, তাদের বিনামূল্যে বীজও দিয়ে থাকি।’

চাঁদপাশা ইউনিয়নের অর্জুন মাঝি গ্রামের প্রফেসর মোহাম্মদ মোস্তফা কামালও পেঁপে চাষে সফলতা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অল্প খরচে দ্রুত ফলন পাওয়ার কারণে পেঁপে চাষ অত্যন্ত লাভজনক। সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এটি কৃষকের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস হতে পারে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ১ হাজার ৩৮৮ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে ভোলা জেলায়।

জেলাভিত্তিক উৎপাদনের চিত্র বলছে, বরিশালে ১১২ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৮২৩ টন, পিরোজপুরে ৫ হাজার ৮১ টন, ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫৯৫ টন, পটুয়াখালীতে ৮ হাজার ২৩৫ টন এবং বরগুনায় ৩ হাজার ২৭১ টন পেঁপে। সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে ভোলায়, সেখানে ৪৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হয়েছে ১৪ হাজার ৪০০ টন পেঁপে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার বলেন, ‘পেঁপে একটি উচ্চফলনশীল, পুষ্টিকর এবং লাভজনক ফল। বরিশাল অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া এ ফল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের চারা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে পেঁপে চাষের আওতা ও উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।’

ঈশ্বরদীর লিচু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম ‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১২ এএম
‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’
পাইকারি লিচু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী অঞ্চলের লিচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। প্রতি মৌসুমে হাজার হাজার টন লিচু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হয়। তবে চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত দাবদাহ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে লিচুর উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাজার পরিস্থিতি, দাম, চাহিদা ও ব্যবসার নানা দিক নিয়ে দৈনিক খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন ঈশ্বরদী উপজেলার শাহপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের পাইকারি লিচু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজশাহী ব্যুরো প্রধান এনায়েত করিম

খবরের কাগজ: লিচু ব্যবসার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হলেন?

মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম: আমরা মূলত পাইকারি ব্যবসা করি। লিচুবাগানে মুকুল আসার পর থেকেই বাগান কিনে নিই এবং পুরো মৌসুমজুড়ে পরিচর্যা করি। এরপর ফল সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করি। দীর্ঘদিন ধরেই এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছি।

খবরের কাগজ: চলতি মৌসুমের বাজার পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?

রকিবুল ইসলাম: বাজার মোটামুটি ভালো। ক্রেতাদের চাহিদাও রয়েছে। কিন্তু এ বছর প্রাকৃতিক কারণে লিচু খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। অতিরিক্ত রোদে অনেক লিচু পুড়ে গেছে এবং ঝরে পড়েছে। ফলে উৎপাদন কমে গেছে।
খবরের কাগজ: গত বছরের তুলনায় ব্যবসা কেমন হচ্ছে?

আরও পড়ুন: ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’

রকিবুল ইসলাম: চাহিদার দিক থেকে বাজার ভালো। কেনাবেচাও বাড়ার কথা ছিল। কিন্তু উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমরা প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে পারছি না। লিচু পোড়ার কারণে চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়েই ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

খবরের কাগজ: লিচু পোড়ার কারণ কী বলে মনে করেন?

রকিবুল ইসলাম: আমাদের মতে এটি পুরোপুরি আবহাওয়াজনিত সমস্যা। দীর্ঘ সময় তীব্র রোদ, তাপপ্রবাহ এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে এমনটা হয়েছে। কীটনাশকের কারণে এভাবে লিচু পোড়ে বলে আমরা মনে করি না।

খবরের কাগজ: বর্তমানে লিচুর বাজারদর কত?

রকিবুল ইসলাম: বাগান পর্যায়ে প্রতি হাজার লিচু ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকাও পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী।

খবরের কাগজ: বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার অবস্থা কেমন?

রকিবুল ইসলাম: বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। ফলে বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। সরবরাহ আরও কমলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খবরের কাগজ: দেশের কোন কোন অঞ্চলে বেশি লিচু যাচ্ছে?

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর সর্বনাশ

রকিবুল ইসলাম: রাজধানী ঢাকা ছাড়াও খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বেশি লিচু পাঠানো হচ্ছে।

খবরের কাগজ: পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব কেমন?

রকিবুল ইসলাম: পরিবহন খরচ গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এতে ব্যবসার ব্যয় অনেক বেড়েছে এবং লাভের পরিমাণ কমে গেছে।

খবরের কাগজ: লিচু রপ্তানির সম্ভাবনা কতটা?

রকিবুল ইসলাম: বাংলাদেশের লিচুর মান খুব ভালো। সরকারি সহযোগিতা ও আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বিদেশে লিচু রপ্তানির বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

খবরের কাগজ: ব্যবসার প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?

রকিবুল ইসলাম: সারের দাম, কীটনাশকের দাম এবং শ্রম ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও সেই অনুযায়ী বাজারদর সব সময় পাওয়া যায় না। এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

খবরের কাগজ: মৌসুমের শেষ দিকে দামের কী অবস্থা হতে পারে?

রকিবুল ইসলাম: সাধারণত মৌসুমের শেষ দিকে দাম বেড়ে যায়। এ বছর উৎপাদন কম হওয়ায় দাম আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে যে দাম রয়েছে, তা থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

দিনাজপুরের চাষি মনিরুজ্জামান চৌধুরী ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’
লিচুচাষি মনিরুজ্জামান চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের শীর্ষ লিচু উৎপাদন এলাকা দিনাজপুরে এবার চায়না-থ্রি জাতের লিচুর ফলন তুলনামূলক ভালো হলেও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, শিলাবৃষ্টি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উদ্বেগে রয়েছেন চাষিরা। এ পরিস্থিতি, বাজার দর, উৎপাদন খরচ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার লিচুচাষি মনিরুজ্জামান চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক খবরের কাগজের রাজশাহী ব্যুরোপ্রধান এনায়েত করিম।

দৈনিক খবরের কাগজ : কত বিঘা জমিতে লিচুর চাষ করেছেন?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: গত বছর প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে লিচুর চাষ করেছিলাম। এ বছর সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ২১ বিঘা হয়েছে। আমার বাগানে চায়না-থ্রি, বোম্বাই, মাদ্রাজি ও বেদানা জাতের লিচু রয়েছে। তবে এ বছর বেদানা, মাদ্রাজি ও বোম্বাই জাতের গাছে খুব একটা মুকুল আসেনি। অন্যদিকে চায়না-থ্রি জাতের ফলন বেশ ভালো হয়েছে।

দৈনিক খবরের কাগজ: গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন কেমন হয়েছে?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: চায়না-থ্রি জাতের ফলন গত বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে। তবে আবহাওয়ার কারণে কিছু ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির ফলে ফল ঝরে গেছে এবং পরিচর্যার খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন ভালো হলেও বাড়তি ব্যয়ের চাপ রয়েছে।

দৈনিক খবরের কাগজ: আবহাওয়ার প্রভাব কতটা পড়েছে?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: আবহাওয়ার প্রভাব অনেক বেশি ছিল। কখনো প্রচণ্ড দাবদাহ, আবার হঠাৎ বৃষ্টি হয়েছে। এতে মুকুল ঝরে গেছে, অনেক ক্ষেত্রে পুড়েও গেছে। ফলে বাড়তি পরিচর্যা করতে হয়েছে। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে বেশি কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়েছে।

দৈনিক খবরের কাগজ: রোগবালাইয়ের আক্রমণ কেমন ছিল?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: আবহাওয়ার কারণে রোগবালাইয়ের চাপ অন্য বছরের তুলনায় বেশি ছিল। তাই নিয়মিত নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। তা না হলে ফলনের ক্ষতি আরও বেশি হতো।

দৈনিক খবরের কাগজ: প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ কত হয়েছে?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: প্রতি বিঘায় গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন লিচু সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ১০ থেকে ১১ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থাৎ ১০০ লিচু প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসাবে প্রতি বিঘা থেকে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে বলে আশা করছি।

আরও পড়ুন: ‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’

দৈনিক খবরের কাগজ: বর্তমান বাজার দরে বিক্রি করে লাভ হচ্ছে, নাকি লোকসান?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: এখনো বাজারে চাহিদা কিছুটা কম। ঈদের কারণে ক্রেতা কম ছিলেন। তবে ঈদ শেষ হওয়ায় মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করায় চাহিদা বাড়ছে। ফলে দামও বাড়তে শুরু করেছে। এতে কৃষক কিছুটা লাভবান হবে।

দৈনিক খবরের কাগজ: লিচু কোথায় বিক্রি করছেন?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: বেশির ভাগ লিচু বাগান থেকেই বিক্রি হয়। ঢাকা ও বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগানে আসেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও ক্রেতারাও বাগান পরিদর্শন করে লিচু কিনে নিয়ে যান। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও সহযোগিতা করছেন।

দৈনিক খবরের কাগজ: সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

মনিরুজ্জামান চৌধুরী: সরকার যদি আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করে, তাহলে কৃষকরা একসঙ্গে সব ফল বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। এতে ভালো দাম পাওয়া সম্ভব হবে। কেননা, লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি। পাশাপাশি লিচু ও আম রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে হবে। আর কৃষকদের ব্যবহৃত বালাইনাশক যেন সঠিক দামে ও মানসম্মতভাবে পাওয়া যায়, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন। 

নওগাঁয় চড়ামূল্যে কিনতে হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগ শঙ্কায় আমচাষিরা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:১৯ এএম
নওগাঁয় চড়ামূল্যে কিনতে হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগ শঙ্কায় আমচাষিরা
ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁয় নিরাপদ আম উৎপাদনের অন্যতম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং। যেখানে  আমকে একটি বিশেষ ব্যাগে ঢেকে রাখা হয়। ফলে আম পোকামাকড়ের আক্রমণ  থেকে রক্ষা পায়। কীটনাশকের ব্যবহার না করে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি  ব্যবহার বেশ কয়েক বছর ধরেই জনপ্রিয় উত্তরের জেলা নওগাঁয়।

প্রতিবছরই আমের নতুন নতুন বাগান বাড়ছে এই জেলায়। সেই সাথে তৈরি হচ্ছে নতুন উদ্যোক্তাও। বেশ কিছু তরুণ উদ্যোক্তা রপ্তানির উদ্দেশ্যে এই ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষ পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব আমের সিংহভাগই রপ্তানি করা হয় বিদেশে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই এই ব্যাগের চাহিদা ও দাম ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এ বছর চাহিদামতো ফ্রুট ব্যাগ না পাওয়ায় আম ব্যাগিং করতে পারেননি নওগাঁর অনেক চাষী। আবার যতটুকু ব্যাগ মিলছে, তাও কিনতে হয়েছে দ্বিগুন দামে।

আম চাষিরা জানান, গতবছর প্রতিটি ফ্রুট ব্যাগের দাম পড়েছিল ৩ টাকা ৭০ পয়সা। কিন্তু এবার তা কিনতে হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সায়। আবার বাড়তি দাম দিয়েও ব্যাগ কিনতে পারেননি অনেক চাষী। 

নওগাঁর পোরশা উপজেলার ছাতড়া গ্রামের তরুন আম চাষি তানিম মাহমুদ ও ফয়সাল এবার যৌথভাবে ১৬৮ বিঘা জমি লিজ নিয়েছেন। যেখানে বারি-৪ আম্রপালি ও গৌঢ়মতিসহ বিভিন্ন জাতের আম গাছ রয়েছে। এরমধ্যে ১৬ একর জমিতে সাড়ে ৩ লাখ আম ফ্রুট বেগিং করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু চাহিদামতো ব্যাগ পাননি তারা। 

পার্শ্ববর্তী সাপাহার উপজেলার সবচেয়ে বড় উদ্যোক্তা সোহেল রানা। প্রতিবছর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে আম রপ্তানি করে থাকেন। তিনি জানান, এ বছর ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা ছিলো ৩ লাখ পিস। এর বিপরীতে মাত্র ১৫ হাজার পিস কিনতে পেরেছি। তাও আবার চড়া দামে কিনতে হয়েছে। এছাড়া গত বছরের ব্যবহার করা ৪৫ হাজার পিস ফ্রুট ব্যাগ ছিল। এ নিয়ে মোট ৬০ হাজার পিস ব্যানানা ম্যাংগো আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। কিছু আম আছে ফ্রুট ব্যাগ ছাড়া ভাল হয় না। বিশেষ করে গৌড়মতি আমে ফ্রুট ব্যাগিং না করলে দাগ পড়ে এবং পোকা লাগে। এ কারণে চাহিদামতো ফ্রুট ব্যাগ না পাওয়ায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হতে হলো।

আমচাষিরা বলছেন, এপ্রিল মাস থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি আমে ফ্রুট ব্যাগিং করার সময়। এ বছর ফ্রুট ব্যাগ না পাওয়ায় অনেক চাষী আমে ব্যাগিং করতে পারেননি। খোলা আম বাজারে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা মন দরে বিক্রি হয়ে থাকে। তবে ফ্রুট ব্যাগিং করা আম ক্রেতাদের কাছে চাহিদা থাকায় বাজারে প্রকারভেদে ৭-৮ হাজার টাকা মন দরে বিক্রি হয়ে থাকে।

এদিকে, ফ্রুট ব্যাগ স্বল্পতার কারণে গত ৩-৪ বছর আগে যেসব গাছ রোপন করা হয়েছিল সেসব গাছে এবার আম এসেছে। এতে ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা আরও বেড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। যা থেকে প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৮৬ হেক্টর জমির আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি জাতের ১ কোটি ১১ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ পিস আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। গত বছর সাপাহার ও পোরশা উপজেলা থেকে বিভিন্ন রপ্তানিকারকের মাধ্যমে ২৮৪ টন আম্রপালি, খিরসাপাত ও ব্যানানা ম্যাংগো আম মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রপ্তানি হয়েছিল।

ফ্রুট ব্যাগ স্বল্পতা ও দাম বৃদ্ধির কথা শিকার করছেন নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, খুব দ্রুতই কৃষকদের মাঝে উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে আম উৎপাদনের আগ্রহ বাড়ছে। এ কারনে রপ্তানি পরিসর বাড়াতে রপ্তানিযোগ্য এবং কীটনাশকমুক্ত আম ‍উৎপাদন ও ভাল দাম পেতে কৃষকদের মাঝে ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা বেড়েছে। শেষ সময়ে এসে আমচাষিদের কাছে ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় যেসব কোম্পানি ফ্রুট ব্যাগ সরবরাহ করেন তারা দিতে পারেননি।

হারুন চৌধুরী/খাদিজা রুমি/