বাংলাদেশের চল্লিশের দশকের শক্তিমান কবি আহসান হাবীবকে ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি ঔপনিবেশিকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপকরা। তারা বলেছেন, ঔপনিবেশক শক্তির আগ্রাসন কবির ব্যক্তিচেতনায় ভয়াবহ ক্ষতের জন্ম দিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে কবি আহসান হাবীবের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাংলা একাডেমির আয়োজনে ‘আহসান হাবীবের কবিতা: একটি উত্তর-ঔপনিবেশিক পাঠ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সোহানা মাহবুব।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি শামসেত তাবরেজী ও তুষার দাশ।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আহসান হাবীবের কবিতা থেকে আবৃত্তি পরিবেশন করেন বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী ইকবাল বাহার চৌধুরী।
ড. সোহানা মাহবুব বলেন, ‘বাংলাদেশের চল্লিশের দশকের শক্তিমান কবি আহসান হাবীব। কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর তাকে একটি নয়, দুটো উপনিবেশী শক্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। ঔপনিবেশক শক্তির আগ্রাসন সাধারণত ব্যক্তিচেতনায় ভয়াবহ ক্ষতের জন্ম দেয়। একজন সংবেদনশীল কবি হিসেবে আহসান হাবীবকেও যে নিশ্চিতভাবে সেই ক্ষত বহন করতে হয়েছে, তার কবিতায় গভীরভাবে এর প্রকাশ পাওয়া যায়।’
অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘আহসান হাবীবের জীবন ও কবিতা ঘিরে ঔপনিবেশিক সময় ছায়া ফেলেছে ভীষণভাবে। তার কবিতার উত্তর-ঔপনিবেশিক পাঠ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে জাতীয়তাবাদী সংকীর্ণ সীমায় তাকে পাঠ করা কোনো কাজের কথা নয়।’
আলোচকরা বলেন, আহসান হাবীব এক দূরগামী কবি। তিনি তার সময়ের মধ্যে তীব্রভাবে ছিলেন, সময়ের স্বর তার কবিতায় বিশুদ্ধ ভাষা পেয়েছে। আবার নিজ সময়কে ছাপিয়ে তিনি সময়াতীত সুদূরের স্বপ্ন বুনন করেছেন তার কবিতায়। আহসান হাবীবের অভিযাত্রা নিঃসঙ্গ এবং নিঃশঙ্ক। তিনি কবিতা ও সামগ্রিক সাহিত্যকর্মে আপামর মানুষের যাপন, সংগ্রাম, সংকট নানারীতিতে ভাস্বর করেছেন।
জয়ন্ত/নাবিল/এমএ/