ঢাকা ১১ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে কিশোরীদের নেতৃত্বে ‘দুর্বার কন্যা’ মডেল বিইউএফটিতে ২২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় উৎসব অনুষ্ঠিত একজন ক্লান্ত মানুষের জন্য আশ্বাসের বাণীটি কী জানেন? রোহিঙ্গাদের সম্পদে পরিণত করুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মহিলা সমিতিতে ‘শ্রুতি সম্ভার’ সম্মাননা পাচ্ছেন ওয়াহিদা মল্লিক জলি প্রিয়াঙ্কার কড়া বার্তা… 'হামে ৩০০ শিশুর মৃত্যুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেন পদত্যাগ করলেন না?' ‘জুলাই চেতনা বিক্রিকারীদের অনেকেই এখন রিকশা ছেড়ে প্রাডোতে চড়েন’ আগামী ৫০ বছরেও আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ: এমপি মাহবুবুর রহমান সুপার কম্পিউটিংয়ের লড়াইয়ে শীর্ষে চীন শিক্ষক বিল্লাল হোসাইনের চিরকুট প্রকাশের দাবিতে বিক্ষোভ ব্রাজিলের কাছে হেরেও নকআউটের আশায় স্কটল্যান্ড গাজীপুরে অসুস্থ শ্রমিককে ছুটি না দেওয়ার অভিযোগ, কর্মস্থলেই মৃত্যু; বিক্ষোভ যমুনায় গোসলে নেমে দুই মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৮ প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী পার্বতীপুরে পুকুরে ডুবে একই পরিবারের তিনজনের প্রাণহানি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ২টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদরাসা পরিচালকের ১০ বছরের সাজা প্রথম আফ্রিকান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে মরক্কো স্কলাসটিকায় ‘এ’ লেভেলের শিক্ষাসমাপনী মার্তিনেস ও মেসিকে নিয়ে স্কালোনির বিশেষ পরিকল্পনা চট্টগ্রাম মহানগরে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পাবে ৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশু ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬৪, চলছে উদ্ধারকাজ হামের প্রকোপ বাড়ছেই: এক দিনে ৯ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৪৫ বিশ্বকাপের উন্মাদনা, ফুটবল ফাইন্যান্সের বিস্ময় নারীবাদী সবুজ রূপান্তর ও টেকসই অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতি: পুরস্কার পেল তিন প্রতিষ্ঠান, বিশেষ সম্মাননায় দুজন যৌন হয়রানির বিচার দাবিতে চন্দ্রগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে আশঙ্কায় কবিরা

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৩০ পিএম
নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে আশঙ্কায় কবিরা
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলা নববর্ষকে (১৪৩২) ঘিরে একটি গোষ্ঠী ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে নানা উসকানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সদস্যরা। ওই গোষ্ঠী বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অস্বীকার করে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছেন কবিরা। এতে এবারের পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে নানা শঙ্কা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কবিতা পরিষদের সদস্যরা এসব কথা বলেন। পরিষদের আহ্বায়ক কবি মোহন রায়হান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সহসভাপতি শহীদুল্লাহ ফরায়জী, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কবি মতিন বৈরাগী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক কবি শাহীন রেজা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী- যারা ইতিহাস অস্বীকার করে, যারা সাম্প্রদায়িক মতাদর্শকে সাংস্কৃতিক চেতনার ওপর চাপিয়ে দিতে চায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলা নববর্ষকে ‘অনৈসলামিক’  বা বিদেশিদের বলে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এটা মোটেও সঠিক নয় বরং এসব ইতিহাসের বিকৃতি ও ধর্মীয় অপব্যাখ্যা।’

নববর্ষকে ঘিরে নানা আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও গোপন গ্রুপে নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। ২০০১, ২০০৭, ২০১৫ সালের মতো বিভিন্ন সময়ে এই উৎসবের ওপর হামলা এবং হুমকির ইতিহাস আছে। এখনো আশঙ্কা থেকেই যায়, বিশেষ করে জনসমাগমকে টার্গেট করা হতে পারে।’ 

বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ষড়যন্ত্র বা সহিংসতার আশঙ্কা মোকাবিলায় সরকার ও প্রশাসনের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

মোহন রায়হান আরও বলেন, ‘বাংলা নববর্ষকে লক্ষ্য করে চালানো এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ, এটি শুধু একটি উৎসব রক্ষার লড়াই নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ভাষা আন্দোলনের গর্ব ও জাতিসত্তার অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম।’

এই সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে কয়েক দফা দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো- বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ষড়যন্ত্র বা সহিংসতার আশঙ্কা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে বাংলা নববর্ষের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরা; ধর্মীয় অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া; সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে পথনাটক, কবিতা পাঠ, আলোচনা সভা ও গণসংগীতের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘সংস্কৃতি রক্ষা অভিযান’ পরিচালনা করা। 

সবশেষে এই সংবাদ সম্মেলন থেকে কবিরা সর্বস্তরের জনগণের প্রতি সাহসিকতা ও সচেতনতার সঙ্গে নববর্ষ সম্পর্কিত অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।



শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
বাংলা একাডেমিতে নিজের ৯১তম জন্মদিনের আয়োজনে বক্তৃতা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ

বাইরে চকচকে দালানকোঠা আর রাস্তাঘাটের বিপুল উন্নতি হলেও ভেতরে ভেতরে সমাজ কতটা পচে গেছে, সেই রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

বাংলাদেশের শিশুদের ভয়াবহ পরিস্থিতির তুলনা করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সাত-আট দশকের এই বস্তুগত উন্নয়ন ও তথাকথিত অগ্রগতির শেষ পরিণতি কী তবে অবোধ শিশুদের ওপর পাশবিক নির্যাতন আর হত্যাকাণ্ড?

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে বাংলা একাডেমিতে নিজের ৯১তম জন্মদিনের আয়োজনে ‘কী দেখেছি, কী বুঝেছি’ শিরোনামে এক আত্মজৈবনিক বক্তৃতায় প্রবীণ এই চিন্তাবিদ রাষ্ট্র ও সমাজের গতিপ্রকৃতি নিয়ে নিজের এসব গভীর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে জন্মদিনে ফুলেল শ্রদ্ধা। ছবি: খবরের কাগজ

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, 'অনেক উন্নতি হয়েছে উপর কাঠামোতে, বস্তুগতভাবে, চেহারায়, দালানকোঠায়, রাস্তাঘাটে প্রচুর উন্নতি হয়েছে। কিন্তু ভেতরে?'

শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, "৪৩-এর দুর্ভিক্ষের সময়ে রাজশাহীতে আমার মা এক পরিত্যক্ত শিশুকে নিজের কাছে আশ্রয় দিয়েছিলেন, যাকে জঙ্গল থেকে কুড়িয়ে পাওয়া গিয়েছিল। মা তার নাম দিয়েছিলেন ‘কুরানি’। সে আমাদের সাথেই বড় হয়েছে। সেই শিশু তখন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও, তার ওপর অন্য কোনো অত্যাচার হয় নাই।"

বর্তমান সময়ের নির্মমতার চিত্র টেনে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, "আজকে বাংলাদেশে শিশুদের কী অবস্থা, তা আপনাদের সবারই জানা। আজকে শিশুরা কীভাবে ধর্ষিত হচ্ছে, কীভাবে ধর্ষণের পরে তাকে হত্যা করা হচ্ছে! ভেতরে ওই যে শিশু পরিত্যক্ত হয়েছিল ৪৩-এর দুর্ভিক্ষে, আজকে ২০২৬ সালে সেই শিশু ধর্ষিত হচ্ছে এবং তাকে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতাটা আমি লক্ষ্য করেছি।"

নিজের দীর্ঘ জীবনে ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—এই তিনটি রাষ্ট্র দেখার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আয়তন, নাম, পতাকা কিংবা শাসকের পরিচয়ে পার্থক্য থাকলেও চরিত্রগতভাবে এই তিন রাষ্ট্রের মধ্যে এক গভীর ও নির্মম সাদৃশ্য রয়েছে। তিনটি রাষ্ট্রই ছিল মূলত পিতৃতান্ত্রিক, পুঁজিবাদী এবং আমলাতান্ত্রিক।

রাষ্ট্র ও সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজ বিচ্ছিন্ন নয়, বরং রাষ্ট্র সবসময় সমাজের ওপর কর্তৃত্ব খাটায়। তার ভাষায়, "আমাদের সকলেরই অভিজ্ঞতা এই যে, রাষ্ট্র কি রকম পিতৃতান্ত্রিক এবং সমাজ অনেকটা মায়ের মতো। সমাজ আমাদেরকে আশ্রয় দেয়, লালন-পালন করে; কিন্তু কর্তৃত্ব থাকে ওই পিতৃতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ওপর। রাষ্ট্র ভাঙলেও সমাজ কিন্তু রাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়।"

অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। 

জয়ন্ত সাহা/এসএন

জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র আয়োজিত জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় স্কুল পর্যায়ে দেশসেরা ১০ জনের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের সদস্য ও পাঠক ফাওজিয়াহ হক জিনাত।

সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তার হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। এছাড়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রমের বিচারকমণ্ডলীর সদস্য লেখক ও অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক, কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী এবং লেখক ও সংগঠক সাবিদিন ইব্রাহিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি গ্রন্থাগারের প্রতিনিধি, পাঠক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৭২টি বেসরকারি গ্রন্থাগার থেকে মোট ৬৪৭ জন পাঠক-শিক্ষার্থী এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। প্রাথমিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১৪৫ জনকে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিতদের নিয়ে ৮ থেকে ১০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মিলনায়তনে পাঠ-উত্তর মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পাঠ-অনুভূতি মৌখিকভাবে গ্রহণ করা হয় এবং উপস্থাপনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।

স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পাঠ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার জন্য হুমায়ূন আহমেদ রচিত সায়েন্স ফিকশন গ্রন্থ তোমাদের জন্য ভালোবাসা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ‘এসো বই পড়ি, নিজেকে আলোকিত করি’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১০ সালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে গড়ে ওঠে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠাগারটি মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সেলুন, বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশনে অণু-পাঠাগার স্থাপনসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমও পরিচালনা করে আসছে।

জুয়েল রানা/রিফাত/

বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ
ছবি: সংগৃীহত

বাংলা সাহিত্যের তিন নক্ষত্র–কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি রফিক আজাদ ও মধ্যযুগের কবি চন্দ্রাবতী। ভিন্ন ভিন্ন সময়ের এই তিন কালজয়ী সাহিত্যিককে শ্রদ্ধা আর বিশ্লেষণের আলোয় উদ্ভাসিত করতে বাংলা একাডেমি শুরু করেছে সেমিনার সিরিজ। গতকাল সোমবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এই সিরিজের সূচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত এই সেমিনারে সাহিত্যের নানা অনুষঙ্গ ও বিবর্তন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তিন সাহিত্যিকের সৃষ্টির মৌলিকতা নিয়ে আলোকপাত করেন বিশিষ্টজনরা।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে দাম্পত্যের জটিলতা
গতকাল (২২ জুন) বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া প্রথম আলোচনায় ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে দাম্পত্যজীবনের রূপায়ণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন লেখক ও গবেষক ড. উৎপল তালুকদার। আলোচনায় অংশ নেন কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীম। সভাপ্রধান ছিলেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী।

বক্তারা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলা কথাসাহিত্যের ‘কিংবদন্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তার উপন্যাসে শ্রেণিগত প্রপঞ্চ ও দাম্পত্যজীবনের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন যেভাবে উঠে এসেছে, তা আজও অতুলনীয়। বদ্ধ হাওয়ায় হাঁসফাঁস করা চরিত্রদের মুক্তি খোঁজার চিরন্তন আকুতি মানিকের লেখনীতে যেভাবে ফুটেছে, তা বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য উচ্চতা।

রফিক আজাদের কবিতায় চৈতন্যের কোলাজ
গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় দ্বিতীয় আয়োজনে ছিল ‘রফিক আজাদের কবিতা: চৈতন্যের কোলাজ’ শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও সমালোচক চঞ্চল আশরাফ। আলোচনায় অংশ নেন কবি হিজল জোবায়ের। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। বক্তারা বলেন, রফিক আজাদের কবিতা বাংলা কবিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি বিদ্রোহ ও প্রেমের রঙে কবিতার ক্যানভাস সাজিয়েছেন। যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি এবং পরিবেশ-প্রকৃতির সুরক্ষা তার কবিতায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তার ভাষার আধুনিকতা ও শৈল্পিক নান্দনিকতা নতুন প্রজন্মের কবিদের জন্য আজও অনুপ্রেরণার উৎস।

চন্দ্রাবতীর গীতিকায় নারী-অস্তিত্বের শাঁস
সন্ধ্যা ৬টায় সিরিজের শেষ পর্বে আলোচিত হয় ‘চন্দ্রবতীর গীতিকায় রমনীয় স্বৈরিতা আর নারী-অস্তিত্বের শাঁস’। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক সুস্মিতা চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশ নেন চলচ্চিত্র নির্মাতা এন. রাশেদ চৌধুরী। সভাপ্রধান ছিলেন গবেষক ও নির্মাতা ড. ইউসুফ হাসান অর্ক। বক্তারা বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতীকে ‘পথিকৃৎ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বৈরী সমকাল উপেক্ষা করে তিনি নারীর বৈজয়ন্তী ঘোষণা করেছিলেন তার কালজয়ী সৃষ্টিতে। তার গীতিকায় মানবমঙ্গলের গান ও সুন্দর পৃথিবীর আকুতি ফুটে উঠেছে। চন্দ্রাবতীর সাহিত্যকৃতি নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন আলোচকরা।

সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন
ছবি: খবরের কাগজ

‘কণ্ঠ মেলাও সুর ও তানে, বিশ্ব জাগুক গানে গানে’- এই স্লোগানকে ধারণ করে রাজধানীজুড়ে উদযাপিত হলো বিশ্ব সংগীত দিবস। সুরের ঐকতানে মেতে উঠেছিলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তন।

সোমবার (২২ জুন) শেষ হলো দুই দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনের এই সংগীত উৎসব।

গত রবিবার থেকে থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব ঘিরে শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে গত দুদিন রাজধানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিলো মুখরিত। আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং দেশের জনপ্রিয় ও গুণী শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনায় উঠে এসেছে সংগীতের অসীম শক্তির কথা।

সোমবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা মো. রুহুল কবির রিজভী।

সংগীতের শক্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সংগীতের মধ্যে যে বিপুল শক্তি নিহিত রয়েছে, তা যুগে যুগে বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতন্ত্রের সংগ্রাম ও অধিকারের সংগ্রামে বিস্ফোরিত হয়েছে। আমাদের বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে নব্বই ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান- প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংগীতের তুমুল শক্তির বিস্ফোরণ আমরা দেখেছি।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘আমরা সংস্কৃতিকে একটি সৃজনশীল অর্থনীতির মধ্যে নিয়ে আসতে চাই।’

সমাপনী সন্ধ্যায় একাডেমির শিল্পীদের নজরুলের গানের সমবেত পরিবেশনা ছাড়াও অংশ নেন, সুকণ্যা মজুমদার, তানভীর আলম সজীব, পিন্টু ঘোষসহ একঝাঁক শিল্পী। হাসান রাজা লোক সাহিত্য পরিষদ ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। সর্বশেষ ব্যান্ড সংগীতের মূর্ছনায় উৎসবের ইতি টানে এসেইস, সর্বনাম ও জাসাস। 

সোমবার বিকেল ৪টায় কিশলয় কচি-কাঁচার মেলার শিল্পীদের দলীয় নৃত্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। এরপর আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, সংগঠনের সভাপতি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত গণসংগীত শিল্পী মাহমুদ সেলিম।

এ পর্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র শীল। প্রধান অতিথি ছিলেন, লোকসংগীত শিল্পী আকরামুল ইসলাম।

পরে দলীয় পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে ওঠেন বাঁশুরিয়া লোকসংগীত গবেষণা ও চর্চা কেন্দ্র, সুর নন্দন, মহীরুহ, সপ্তরেখা শিল্পীগোষ্ঠী ও লোকাঙ্গন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা। এ ছাড়াও, একক সংগীত পরিবেশন করেন দেশের বরেণ্য শিল্পীরা।

জয়ন্ত সাহা/নাঈম

জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:২১ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১২:৩২ এএম
জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে
ছবি: সংগৃহীত।

সুফিয়া কামাল তার জীবনযাপন ও ধারণের মধ্য দিয়ে নারীবাদ, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও বাক্স্বানতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। তার ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে। বাংলাদেশকে যারা ভালোবাসেন, তারা সবাই এই কবির দ্বারা প্রভাবিত।

প্রখ্যাত কবি, নারী জাগরণের অগ্রদূত সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও স্মরণানুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক মানবাধিকারকর্মী ও উন্নয়ন সংগঠক খুশী কবির।

 রবিবার (২১ জুন) বিকেলে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) ও সাঁঝের মায়া ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে কবির বাড়ি ’সাঁঝের মায়া’প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কবির ১১৫তম জন্মবার্ষিকী ছিল ২০ জুন শনিবার।

এমএসএফের নির্বাহী প্রধান আইনজীবী সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘তরুণ প্রজন্মের ভাবনায় কবি সুফিয়া কামাল’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণা করেন মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক খুরশীদা ইমাম, সংস্কৃতিকর্মী তৃষ্ণা সরকার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক কর্মী মো. জাহেদুল আলম হিটো, কবিকন্যা সাঈদা কামাল প্রমুখ। এতে বক্তারা সুফিয়া কামালের সাহিত্যকর্ম ও জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। 

আলোচনা ও স্মরণানুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন ছায়ানট ও নজরুল ইনস্টিটিউটের শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস লাকী, সানবিমস স্কুলের শিক্ষক ফেরদৌস রহমান চন্দন এবং সুফিয়া কামাল সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণের শিক্ষক মাহবুবা সুলতানা লিমা। এ ছাড়া সুফিয়া কামালকে নিয়ে লেখা পাঠ করেন এমএসএফের কর্মী মো. মনির হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন একই সংগঠনের কর্মী তানিয়া খাতুন।

আবদুল্লাহ আল মামুন/এসএন