বাংলা নববর্ষকে (১৪৩২) ঘিরে একটি গোষ্ঠী ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে নানা উসকানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সদস্যরা। ওই গোষ্ঠী বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অস্বীকার করে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছেন কবিরা। এতে এবারের পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে নানা শঙ্কা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কবিতা পরিষদের সদস্যরা এসব কথা বলেন। পরিষদের আহ্বায়ক কবি মোহন রায়হান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সহসভাপতি শহীদুল্লাহ ফরায়জী, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কবি মতিন বৈরাগী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক কবি শাহীন রেজা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী- যারা ইতিহাস অস্বীকার করে, যারা সাম্প্রদায়িক মতাদর্শকে সাংস্কৃতিক চেতনার ওপর চাপিয়ে দিতে চায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলা নববর্ষকে ‘অনৈসলামিক’ বা বিদেশিদের বলে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এটা মোটেও সঠিক নয় বরং এসব ইতিহাসের বিকৃতি ও ধর্মীয় অপব্যাখ্যা।’
নববর্ষকে ঘিরে নানা আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও গোপন গ্রুপে নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। ২০০১, ২০০৭, ২০১৫ সালের মতো বিভিন্ন সময়ে এই উৎসবের ওপর হামলা এবং হুমকির ইতিহাস আছে। এখনো আশঙ্কা থেকেই যায়, বিশেষ করে জনসমাগমকে টার্গেট করা হতে পারে।’
বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ষড়যন্ত্র বা সহিংসতার আশঙ্কা মোকাবিলায় সরকার ও প্রশাসনের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
মোহন রায়হান আরও বলেন, ‘বাংলা নববর্ষকে লক্ষ্য করে চালানো এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ, এটি শুধু একটি উৎসব রক্ষার লড়াই নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ভাষা আন্দোলনের গর্ব ও জাতিসত্তার অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম।’
এই সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে কয়েক দফা দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো- বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ষড়যন্ত্র বা সহিংসতার আশঙ্কা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে বাংলা নববর্ষের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরা; ধর্মীয় অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া; সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে পথনাটক, কবিতা পাঠ, আলোচনা সভা ও গণসংগীতের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘সংস্কৃতি রক্ষা অভিযান’ পরিচালনা করা।
সবশেষে এই সংবাদ সম্মেলন থেকে কবিরা সর্বস্তরের জনগণের প্রতি সাহসিকতা ও সচেতনতার সঙ্গে নববর্ষ সম্পর্কিত অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।