ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
এনসিসি ব্যাংক এর ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ৩ শিশুসহ ৯ জনের সীমান্তে মানবেতর জীবন ভোলার আদালতের এজলাসে বাদীর বিষপান আমাকে কখনোই জোর করে এসব করতে বাধ্য করা হয়নি: তামান্না প্রকাশ রাজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কৃষি বিপণন কৃষকদের দ্বারগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া উচিত জামালপুরে অটোরিকশা চালককে হত্যা, গ্রেপ্তার ৬ গ্রামীণফোনের কাছেই সর্বোচ্চ বকেয়া, মোট পাওনা ১৩ হাজার কোটি টাকা: টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে শীঘ্রই সুখবর আসবে: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী মানিকগঞ্জ মেডিকেলের যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় অনিয়ম, অতিরিক্ত মহাপরিচালকের ক্ষোভ গাইবান্ধায় শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রেস্টুরেন্ট ভাঙচুর-আগুন সরকারি বাসস্থান সংকটে ভোগান্তিতে খোকসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: একজন মননশীল লেখকের প্রতিভূ আর্জেন্টিনার জার্সি পরে বাজারে এলে কেজিতে ১০ টাকা ছাড় পতেঙ্গায় চোরাচালানবিরোধী অভিযানে দুই পাচারকারী আটক কোরআনে বর্ণিত আশুরার সেই বিস্ময়কর ইতিহাস চীনের অপটিক্যাল যোগাযোগ প্রযুক্তির নতুন কেন্দ্র সুচৌ বিশ্ববাজারে চীনা থ্রিডি প্রিন্টারের রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে দিনাজপুরে কেঁচো সার উৎপাদনে স্বাবলম্বী উদ্যোক্তারা আবারও বিশ্বকাপে মাঠে ফিরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন রাফিনিয়া তরুণদের স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে রংপুরে অংশীজনদের মতবিনিময় ১৭ বছর পর দেশ সত্যিকারের কার্যকর সংসদ পেয়েছে: স্পিকার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল যে পাঁচ দল সমর্থকদের মাতামাতি থামাতে মেক্সিকো সিটিতে মদ বিক্রি বন্ধ জাককানইবিতে লুডুর ছকে পরিচ্ছন্নতার বার্তা ঝিনাইদহে আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার ঘিরে উত্তেজনা, আটক ৮ কাঠের সঙ্গে জীবন, গ্রাম ছেড়ে শহরে সুকান্তের স্বপ্নযাত্রা মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় সভা: প্রকল্প বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে আইএমইডি পৃথিবীর গঠন অধ্যায়ের ১৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র

আন্তর্জাতিক রাইটার্স ওয়ার্কশপে অংশ নিতে হংকং যাচ্ছেন মশিউল আলম

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
আন্তর্জাতিক রাইটার্স ওয়ার্কশপে অংশ নিতে হংকং যাচ্ছেন মশিউল আলম
কথাসাহিত্যিক মশিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত

কথাসাহিত্যিক মশিউল আলম হংকং ব্যাপটিস্ট ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল রাইটার্স ওয়ার্কশপ ২০২৬–এ অংশ নিতে শনিবার (১ মার্চ) রাত ২টায় হংকংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। 

২ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই এক মাসব্যাপী রাইটার্স-ইন-রেসিডেন্স কর্মসূচি।

 ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সাহিত্য আবাসন কর্মসূচিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত লেখকেরা অংশ নেন। পাঠ, আলোচনা, কর্মশালা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৃজনশীল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে এটি এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য-সংলাপের মঞ্চে পরিণত হয়েছে।

হংকং অবস্থানকালে মশিউল আলম হংকং আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব ২০২৬–এর ২৫তম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন। সেখানে তিনি তাঁর বহুল প্রশংসিত গ্রন্থ দ্য মিট মার্কেট: টেন স্টোরিজ অ্যান্ড আ নভেলা নিয়ে আলোচনা করবেন। মানব অস্তিত্বের ভঙ্গুরতা, রাজনৈতিক ও সামাজিক টানাপড়েন এবং নৈতিক জটিলতার গভীর অনুসন্ধানের জন্য বইটি সমাদৃত।

হংকং যাত্রার আগে তিনি বলেন, ‘সাহিত্য এমন এক মাধ্যম যা ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমানা অতিক্রম করতে পারে। বাংলাদেশের কথাসাহিত্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ আমার জন্য সম্মানের। বিভিন্ন দেশের লেখক-চিন্তকের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে আমাদের নিজেদের সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা আয়ত দৃষ্টিতে বিচারের সুযোগ ঘটে।’

এর আগে মশিউল আলম ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আইওয়ার ইন্টারন্যাশনাল রাইটিং প্রোগ্রামের ফল রেসিডেন্সি এবং ২০২৫ সালে ইতালির প্রখ্যাত চিভিতেলা রানিয়েরি ফাউন্ডেশনের ফেলো হিসেবে তাদের আর্টিস্টস রেসিডেন্সিতে অংশ নিয়েছিলেন। 

ইতিহাস, স্মৃতি, রাজনৈতিক ও সামাজিক অসঙ্গতি তাঁর সাহিত্যের প্রধান বিষয়। বর্তমানে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ সময়ের পটভূমিতে উপন্যাস লাল আকাশ নিয়ে কাজ করছেন। 

এসএন/

শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
বাংলা একাডেমিতে নিজের ৯১তম জন্মদিনের আয়োজনে বক্তৃতা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ

বাইরে চকচকে দালানকোঠা আর রাস্তাঘাটের বিপুল উন্নতি হলেও ভেতরে ভেতরে সমাজ কতটা পচে গেছে, সেই রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

বাংলাদেশের শিশুদের ভয়াবহ পরিস্থিতির তুলনা করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সাত-আট দশকের এই বস্তুগত উন্নয়ন ও তথাকথিত অগ্রগতির শেষ পরিণতি কী তবে অবোধ শিশুদের ওপর পাশবিক নির্যাতন আর হত্যাকাণ্ড?

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে বাংলা একাডেমিতে নিজের ৯১তম জন্মদিনের আয়োজনে ‘কী দেখেছি, কী বুঝেছি’ শিরোনামে এক আত্মজৈবনিক বক্তৃতায় প্রবীণ এই চিন্তাবিদ রাষ্ট্র ও সমাজের গতিপ্রকৃতি নিয়ে নিজের এসব গভীর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে জন্মদিনে ফুলেল শ্রদ্ধা। ছবি: খবরের কাগজ

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, 'অনেক উন্নতি হয়েছে উপর কাঠামোতে, বস্তুগতভাবে, চেহারায়, দালানকোঠায়, রাস্তাঘাটে প্রচুর উন্নতি হয়েছে। কিন্তু ভেতরে?'

শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, "৪৩-এর দুর্ভিক্ষের সময়ে রাজশাহীতে আমার মা এক পরিত্যক্ত শিশুকে নিজের কাছে আশ্রয় দিয়েছিলেন, যাকে জঙ্গল থেকে কুড়িয়ে পাওয়া গিয়েছিল। মা তার নাম দিয়েছিলেন ‘কুরানি’। সে আমাদের সাথেই বড় হয়েছে। সেই শিশু তখন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও, তার ওপর অন্য কোনো অত্যাচার হয় নাই।"

বর্তমান সময়ের নির্মমতার চিত্র টেনে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, "আজকে বাংলাদেশে শিশুদের কী অবস্থা, তা আপনাদের সবারই জানা। আজকে শিশুরা কীভাবে ধর্ষিত হচ্ছে, কীভাবে ধর্ষণের পরে তাকে হত্যা করা হচ্ছে! ভেতরে ওই যে শিশু পরিত্যক্ত হয়েছিল ৪৩-এর দুর্ভিক্ষে, আজকে ২০২৬ সালে সেই শিশু ধর্ষিত হচ্ছে এবং তাকে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতাটা আমি লক্ষ্য করেছি।"

নিজের দীর্ঘ জীবনে ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—এই তিনটি রাষ্ট্র দেখার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আয়তন, নাম, পতাকা কিংবা শাসকের পরিচয়ে পার্থক্য থাকলেও চরিত্রগতভাবে এই তিন রাষ্ট্রের মধ্যে এক গভীর ও নির্মম সাদৃশ্য রয়েছে। তিনটি রাষ্ট্রই ছিল মূলত পিতৃতান্ত্রিক, পুঁজিবাদী এবং আমলাতান্ত্রিক।

রাষ্ট্র ও সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজ বিচ্ছিন্ন নয়, বরং রাষ্ট্র সবসময় সমাজের ওপর কর্তৃত্ব খাটায়। তার ভাষায়, "আমাদের সকলেরই অভিজ্ঞতা এই যে, রাষ্ট্র কি রকম পিতৃতান্ত্রিক এবং সমাজ অনেকটা মায়ের মতো। সমাজ আমাদেরকে আশ্রয় দেয়, লালন-পালন করে; কিন্তু কর্তৃত্ব থাকে ওই পিতৃতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ওপর। রাষ্ট্র ভাঙলেও সমাজ কিন্তু রাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়।"

অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। 

জয়ন্ত সাহা/এসএন

জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র আয়োজিত জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় স্কুল পর্যায়ে দেশসেরা ১০ জনের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের সদস্য ও পাঠক ফাওজিয়াহ হক জিনাত।

সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তার হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। এছাড়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রমের বিচারকমণ্ডলীর সদস্য লেখক ও অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক, কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী এবং লেখক ও সংগঠক সাবিদিন ইব্রাহিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি গ্রন্থাগারের প্রতিনিধি, পাঠক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৭২টি বেসরকারি গ্রন্থাগার থেকে মোট ৬৪৭ জন পাঠক-শিক্ষার্থী এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। প্রাথমিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১৪৫ জনকে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিতদের নিয়ে ৮ থেকে ১০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মিলনায়তনে পাঠ-উত্তর মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পাঠ-অনুভূতি মৌখিকভাবে গ্রহণ করা হয় এবং উপস্থাপনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।

স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পাঠ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার জন্য হুমায়ূন আহমেদ রচিত সায়েন্স ফিকশন গ্রন্থ তোমাদের জন্য ভালোবাসা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ‘এসো বই পড়ি, নিজেকে আলোকিত করি’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১০ সালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে গড়ে ওঠে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠাগারটি মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সেলুন, বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশনে অণু-পাঠাগার স্থাপনসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমও পরিচালনা করে আসছে।

জুয়েল রানা/রিফাত/

সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন
ছবি: খবরের কাগজ

‘কণ্ঠ মেলাও সুর ও তানে, বিশ্ব জাগুক গানে গানে’- এই স্লোগানকে ধারণ করে রাজধানীজুড়ে উদযাপিত হলো বিশ্ব সংগীত দিবস। সুরের ঐকতানে মেতে উঠেছিলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তন।

সোমবার (২২ জুন) শেষ হলো দুই দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনের এই সংগীত উৎসব।

গত রবিবার থেকে থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব ঘিরে শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে গত দুদিন রাজধানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিলো মুখরিত। আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং দেশের জনপ্রিয় ও গুণী শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনায় উঠে এসেছে সংগীতের অসীম শক্তির কথা।

সোমবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা মো. রুহুল কবির রিজভী।

সংগীতের শক্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সংগীতের মধ্যে যে বিপুল শক্তি নিহিত রয়েছে, তা যুগে যুগে বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতন্ত্রের সংগ্রাম ও অধিকারের সংগ্রামে বিস্ফোরিত হয়েছে। আমাদের বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে নব্বই ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান- প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংগীতের তুমুল শক্তির বিস্ফোরণ আমরা দেখেছি।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘আমরা সংস্কৃতিকে একটি সৃজনশীল অর্থনীতির মধ্যে নিয়ে আসতে চাই।’

সমাপনী সন্ধ্যায় একাডেমির শিল্পীদের নজরুলের গানের সমবেত পরিবেশনা ছাড়াও অংশ নেন, সুকণ্যা মজুমদার, তানভীর আলম সজীব, পিন্টু ঘোষসহ একঝাঁক শিল্পী। হাসান রাজা লোক সাহিত্য পরিষদ ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। সর্বশেষ ব্যান্ড সংগীতের মূর্ছনায় উৎসবের ইতি টানে এসেইস, সর্বনাম ও জাসাস। 

সোমবার বিকেল ৪টায় কিশলয় কচি-কাঁচার মেলার শিল্পীদের দলীয় নৃত্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। এরপর আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, সংগঠনের সভাপতি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত গণসংগীত শিল্পী মাহমুদ সেলিম।

এ পর্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র শীল। প্রধান অতিথি ছিলেন, লোকসংগীত শিল্পী আকরামুল ইসলাম।

পরে দলীয় পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে ওঠেন বাঁশুরিয়া লোকসংগীত গবেষণা ও চর্চা কেন্দ্র, সুর নন্দন, মহীরুহ, সপ্তরেখা শিল্পীগোষ্ঠী ও লোকাঙ্গন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা। এ ছাড়াও, একক সংগীত পরিবেশন করেন দেশের বরেণ্য শিল্পীরা।

জয়ন্ত সাহা/নাঈম

জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:২১ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১২:৩২ এএম
জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে
ছবি: সংগৃহীত।

সুফিয়া কামাল তার জীবনযাপন ও ধারণের মধ্য দিয়ে নারীবাদ, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও বাক্স্বানতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। তার ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে। বাংলাদেশকে যারা ভালোবাসেন, তারা সবাই এই কবির দ্বারা প্রভাবিত।

প্রখ্যাত কবি, নারী জাগরণের অগ্রদূত সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও স্মরণানুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক মানবাধিকারকর্মী ও উন্নয়ন সংগঠক খুশী কবির।

 রবিবার (২১ জুন) বিকেলে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) ও সাঁঝের মায়া ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে কবির বাড়ি ’সাঁঝের মায়া’প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কবির ১১৫তম জন্মবার্ষিকী ছিল ২০ জুন শনিবার।

এমএসএফের নির্বাহী প্রধান আইনজীবী সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘তরুণ প্রজন্মের ভাবনায় কবি সুফিয়া কামাল’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণা করেন মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক খুরশীদা ইমাম, সংস্কৃতিকর্মী তৃষ্ণা সরকার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক কর্মী মো. জাহেদুল আলম হিটো, কবিকন্যা সাঈদা কামাল প্রমুখ। এতে বক্তারা সুফিয়া কামালের সাহিত্যকর্ম ও জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। 

আলোচনা ও স্মরণানুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন ছায়ানট ও নজরুল ইনস্টিটিউটের শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস লাকী, সানবিমস স্কুলের শিক্ষক ফেরদৌস রহমান চন্দন এবং সুফিয়া কামাল সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণের শিক্ষক মাহবুবা সুলতানা লিমা। এ ছাড়া সুফিয়া কামালকে নিয়ে লেখা পাঠ করেন এমএসএফের কর্মী মো. মনির হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন একই সংগঠনের কর্মী তানিয়া খাতুন।

আবদুল্লাহ আল মামুন/এসএন

সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা
ছবি: খবরের কাগজ

আষাঢ়ের মেঘলা আকাশ আর অঝোর ধারার বৃষ্টিও যেন হার মানল সুর-মূর্ছনার আবেশের কাছে।

 রবিাবর (২১ জুন) ছিল বিশ্ব সংগীত দিবস। আর এই দিনটিকে ঘিরে রাজধানীর সংস্কৃতি অঙ্গন সেজেছিল গানের আয়োজনে।

সংগীতের সর্বজনীন আহ্বানে এদিন রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি এবং কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে বসেছিল সুরের মেলা। দুই প্রান্তের আয়োজনেই ছিল ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি, শোভাযাত্রা আর চিরায়ত গানের সুর।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দুই দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিনে আষাঢ়ের বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সংগীতপ্রেমীদের ঢল নামে সেগুনবাগিচায়। গতকাল রবিবার বিকেলে সংগীত ও নৃত্যকলা প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা জাতীয় নাট্যশালায় পৌঁছালে উৎসবের আমেজ পায় পূর্ণতা।

জাতীয় নাট্যশালার লবিতে পিয়ানোর সুরের মূর্ছনায় যখন রবীন্দ্রনাথের ‘আগুনের পরশমনি’ বা নজরুলের ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই’ ধ্বনিত হচ্ছিল, তখন এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়। সন্ধ্যায় মিলনায়তনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি বলেন, ‘সংগীত সীমানা মানে না, এটি মানুষের মনের ভাষা।’

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যন্ত্রশিল্পীদের অর্কেস্ট্রা পরিবেশনায় শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। পার্থ মজুমদারের পরিচালনায় ‘তুমি নির্মল করো’ বা ‘উই আর দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর মতো কালজয়ী গানগুলো দর্শকদের মুগ্ধ করে। আগুন, মেহরীন, ফাহমিদা নবীসহ একঝাঁক তারকা শিল্পীর কণ্ঠ এবং বিদেশি দূতাবাসের শিল্পীদের পরিবেশনায় তৈরি হয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন।

একই দিনে বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য সংগীত উৎসব। রাজধানীর সেগুনবাগিচার কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে সুরের ধারার শিল্পীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই আয়োজন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বাচিক শিল্পী আশরাফুল আলম। বেলুন উড়িয়ে উৎসবের সূচনা শেষে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সব সংগীতের তুলনায় আমাদের লোকসংগীতই শ্রেষ্ঠ। এই সংগীতের মাধ্যমেই আমাদের শিকড় ও ঐতিহ্যকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরতে হবে।’

আলোচনা সভায় বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান নতুন প্রজন্মের প্রতি শুদ্ধ সংগীত চর্চার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মানুষকে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জোগায় গান। সংগীতকে শুধু কণ্ঠে নয়, আত্মস্থ করতে হয়।’ সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দলের শিল্পীরা দলীয় এবং একক সংগীত পরিবেশনায় মাতিয়ে রাখেন মিলনায়তন। স্পন্দন, সুরের ধারা, নিবেদন, গীতশতদল, উদীচীর মতো সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় উঠে আসে বাংলা সংগীতের বিচিত্র ধারা।

শিল্পকলা একাডেমি এবং কচি-কাঁচার মেলা–উভয় প্রান্তের আয়োজন চলবে দুই দিন ধরে। আজ দ্বিতীয় দিন উৎসবে যুক্ত হবে আরও নতুন পরিবেশনা।