ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু বৈশ্বিক শিল্প ইতিহাসের ভূ-রাজনীতিতে নারী শিল্পী নগরায়ণ, পরিবেশ বিপর্যয় ও বরেন্দ্র জনপদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’ সিলেটে কম্পিউটার সমিতির চেয়ারম্যান এনামুল কুদ্দুছ, সেক্রেটারি আবু সাঈদ আর কতকাল এ বৈষম্যের খেলা? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাজেটে ওয়াশ বরাদ্দে ইতিবাচক পুনরুদ্ধার, তবে রয়ে গেছে চরম সমতার ঘাটতি বাংলাদেশের দুর্বল শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন চাই সোনারগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহনন, বিয়ের প্রলোভনে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল বাজেট: উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সম্ভাবনা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কর্মীদের ইন্স্যুরেন্স সুবিধা দেবে গার্ডিয়ান ১ বছরের মধ্যে আমরা সব চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেব: প্রধানমন্ত্রী ৫৪ বছর পর ধামরাই কলেজে বাস সার্ভিস উদ্বোধন অফিসে ঝামেলা সামলানোর ৭টি টিপস রাজবাড়ী হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ডায়ালাইসিস সেন্টার নিয়ে বড় ঘোষণা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে চীন ও তারেক রহমানের সফর চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আসামির যাবজ্জীবন সিলেটে হাম ও হাম উপসর্গে মৃত্যু ৭০ ছাড়িয়েছে স্বপ্নের চাকরির খোঁজে তরুণদের ভিড়, ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী জব ফেয়ার সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র পুঠিয়ায় ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে ২ ভাই নিহত ডাক্তারের চেম্বারে একদিন
Nagad desktop

সিইএস ২০২৬-এ উড়ন্ত নৌযান থেকে ক্রুজার বাইক

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
সিইএস ২০২৬-এ উড়ন্ত নৌযান থেকে ক্রুজার বাইক
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে প্রতি বছরের মতো এবারও বসেছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তিপণ্যের মেলা কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স শো (সিইএস) ২০২৬। এক সময় এই মেলা কেবল টিভি, ফ্রিজ কিংবা কম্পিউটারের মতো ইলেকট্রনিক পণ্যের জন্য পরিচিত থাকলেও, গত কয়েক বছরে এর রূপ পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন সিইএস মানে যেন ভবিষ্যতের অটোমোবাইল প্রদর্শনী।

এবারের আসরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মেলায় প্রদর্শিত হয়েছে এমন সব যানবাহন ও প্রযুক্তি, যা দেখে মনে হতে পারে কোনো সায়েন্স ফিকশন সিনেমার দৃশ্য বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বিশাল আকৃতির ইলেকট্রনিক বাইক থেকে শুরু করে উড়ন্ত নৌকা, এমনকি নিজের সুটকেসের ওপর চড়ে বিমানবন্দর পাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল এবারের আকর্ষণে। অটোমোবাইল বিশ্বের জাঁকজমকপূর্ণ এই আসর থেকে সেরা ছয়টি চমকপ্রদ উদ্ভাবন নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের প্রতিবেদন।

গ্রেট ওয়াল মোটরের ক্রুজার বাইক
চীনের অটোমোবাইল শিল্প যে কতটা এগিয়েছে, তার প্রমাণ মিলল গ্রেট ওয়াল মোটরের স্টলে। বছরে ১০ লাখেরও বেশি ভ্যান, এসইউভি ও ট্রাক তৈরি করা এই প্রতিষ্ঠান এবার তাদের ফ্ল্যাগশিপ মোটরসাইকেল নিয়ে হাজির হয়। গ্রেট ওয়ালের সহযোগী ব্র্যান্ড ‘সুও’ মেলায় প্রদর্শন করে তাদের ‘এস২০০০ সিএল’ মডেলের বাইক।

বাইকটির আকার ও ক্ষমতা রীতিমতো বিস্ময়কর। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ২.০ লিটারের ফ্ল্যাট-এইট ইঞ্জিন। অর্থাৎ এতে ৮টি সিলিন্ডার রয়েছে, যা সাধারণত বড় স্পোর্টস কারে দেখা যায়। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে আট গতির ডুয়াল-ক্লাচ ট্রান্সমিশন। ৯২৬ পাউন্ড ওজনের বিশাল এই বাইকটি রাস্তায় চলার সময় রাজত্ব করবে, তা বলাই বাহুল্য। ১৫২ হর্সপাওয়ারের এই বাইক মূলত হোন্ডার বিখ্যাত গোল্ডউইং মডেলকে টেক্কা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তবে এটি আমেরিকার বাজারে কবে আসবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু জানাননি প্রতিষ্ঠানটির সিইও শেংগুয়াং ঝাও।

উড়ন্ত নৌযান নাভি ওয়েভফ্লাই ৫এক্স 
সোভিয়েত আমলের ‘এক্রানোপ্লান’ বা উড়ন্ত জাহাজের কথা মনে আছে? বিশাল সেই যানটি পানির ঠিক ওপর দিয়ে উড়ে চলত। এবার সেই প্রযুক্তি ছোট পরিসরে ফিরিয়ে এনেছে স্কুটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নাভি। তাদের তৈরি ‘ওয়েভফ্লাই ৫এক্স’ দেখতে অনেকটা নৌকার মতো হলেও এটি আসলে একটি বৈদ্যুতিক সি-প্লেন।

প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, এটি পানির ওপর দিয়ে গ্লাইড করতে পারে আবার আকাশেও উড়তে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫৩ মাইল এবং ক্রুজিং স্পিড ৪০ মাইল। একবার চার্জে এটি টানা ৭০ মিনিট উড়তে সক্ষম। বিনোদনের জন্য তৈরি এই দুই সিটের যানটি মেলায় প্রদর্শিত হয়েছে একটি ছোট মডেল হিসেবে। তবে এর কনসেপ্ট বা ধারণাটি এতটাই আকর্ষণীয় যে, এটি কেনার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছেন অনেকে।

জ্যাটকোর বাইসাইকেল গিয়ারবক্স
জ্যাটকো দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে নিশান ও সুজুকির মতো গাড়ির জন্য গিয়ারবক্স তৈরি করে আসছে। এবার তারা বাইসাইকেলের জন্য একটি অদ্ভুত সুন্দর বৈদ্যুতিক মোটর ও গিয়ারবক্স ইউনিট তৈরি করেছে। এটি আকারে এতই ছোট যে সহজে বাইসাইকেলের পেছনের চাকায় বসানো যায়।

‘২-ইন-১ ড্রাইভ ইউনিট’ নামের এই যন্ত্রটি সাধারণ প্যাডেল চালিত সাইকেলকে মুহূর্তে ই-বাইকে রূপান্তর করতে পারে। এর ভেতরে প্ল্যানেটারি গিয়ার সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণত বড় গাড়ির অটোমেটিক গিয়ারবক্সে দেখা যায়। এই প্রযুক্তির ফলে সাধারণ সাইকেল চালানো আরও সহজ ও আরামদায়ক হবে।

বিলাসবহুল ই-বাইক সিউলেটার
কোরিয়ান কোম্পানি কম্পাস রোজ মেলায় এনেছে তাদের ‘সিউলেটার’ নামের একটি নিও-রেট্রো ইলেকট্রনিক মোটরসাইকেল। এর নামটির উচ্চারণ অনেকটা ইংরেজি ‘সি ইউ লেটার’-এর মতো, যা বেশ কৌতুকপূর্ণ। তবে বাইকটির স্পেসিফিকেশন মোটেও হাস্যকর নয়।

পুরো কার্বন ফাইবারে তৈরি এই বাইকটির ওজন মাত্র ৩০০ পাউন্ডের কিছু বেশি। এতে রয়েছে ৩৪ হর্সপাওয়ারের বৈদ্যুতিক মোটর, যা ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ মাইল গতি তুলতে সক্ষম। একবার চার্জে এটি ১০০ মাইল পর্যন্ত চলতে পারে। তবে বাইকটির দাম ৫০ হাজার ডলার শুনে চোখ কপালে উঠতে পারে! এর সিট তৈরি করা হয়েছে আর্জেন্টিনার কর্ডোবা চামড়া দিয়ে এবং ফ্রেম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে যুক্তরাজ্যের রেনল্ডস ৯৫৩ স্টিল। যারা একটু কম দামে বাইক খুঁজছেন, তাদের জন্য ড্যান্ডেলিয়ন ও ড্যামিবেল নামের আরও দুটি ছোট মডেল এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।

লংবোর বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার স্পিডস্টার
২০২৫ সালের মার্চে লংবো তাদের বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার ‘স্পিডস্টার’ প্রজেক্টটি প্রথম সামনে এনেছিল। তবে সিইএসে এর পূর্ণাঙ্গ রূপ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শকরা। বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার হিসেবে এটি দেখতে দারুণ। পুরো বডি অ্যালুমিনিয়ামে তৈরি হওয়ায় এর ওজন মাত্র ১ হাজার ৯৮৪ পাউন্ড, যা একটি বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য বেশ হালকা।

গাড়িটির মোটর ৩০০ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপাদন করতে পারে। হালকা ওজনের কারণে এটি মাত্র ৩.৫ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ০ থেকে ৬২ মাইল গতি তুলতে সক্ষম। এর এইচ-আকৃতির ব্যাটারিটি গাড়ির মেঝের একদম নিচের দিকে বসানো হয়েছে, ফলে গাড়িটি রাস্তায় খুব ভালোভাবে গ্রিপ বা ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। টেসলা রোডস্টার এখনো বাজারে না আসায় লংবোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল ডেভি মনে করেন, বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কারের বাজারে এখন তাদের বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। আপাতত ইউরোপের বাজারের জন্য ১৫০টি স্পিডস্টার তৈরি করা হচ্ছে, যার দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার।

জেনটেক্সের ইনফ্রারেড প্রযুক্তি
গাড়ির যন্ত্রাংশ নির্মাতা জেনটেক্স এবার নজর দিয়েছে নিরাপত্তার দিকে। তারা এমন একটি ডিজিটাল রিয়ারভিউ মিরর ও ডিসপ্লে সিস্টেম এনেছে, যা ইনফ্রারেড বা তাপীয় ক্যামেরা ব্যবহার করে। আখরোটের চেয়েও ছোট এই ক্যামেরাগুলো গাড়ির সামনে ও পেছনে নজর রাখে। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব এটি কেবল ছবি দেখায় না, বরং সফটওয়্যারের মাধ্যমে রাস্তার মানুষ বা প্রাণীকে শনাক্ত করতে পারে। যেমন রাতের অন্ধকারে গাড়ির সামনে হঠাৎ কোনো হরিণ বা অন্য প্রাণী চলে এলে চালক সাধারণ চোখে দেখার আগে এই সিস্টেম তাকে সতর্ক করে দেবে। এতদিন গাড়িতে থার্মাল ক্যামেরা থাকলেও তার কার্যকর ব্যবহার খুব একটা দেখা যায়নি, যা এবার জেনটেক্স করে দেখাল।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার ভি মটো বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার ভি মটো বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চলমান দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অফিশিয়াল ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ভি মটো বাংলাদেশ। মাঠে ক্রিকেটের রোমাঞ্চের পাশাপাশি দেশে পরিবেশবান্ধব ই-মবিলিটি বা বৈদ্যুতিক যানবাহনের ধারণাকে ছড়িয়ে দিতে এই যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিরিজে মাঠের পারফরম্যান্স ও ক্রিকেটারদের অদম্য স্পৃহাকে সম্মান জানাতে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছে ভি মটো বাংলাদেশ। চলমান এই সিরিজে বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে যে বাংলাদেশি বোলার সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করবেন, তাঁকে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে একটি আকর্ষণীয় ইলেকট্রিক বাইক পুরস্কার দেওয়া হবে।

সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভি মটো বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভি মটো গ্রুপের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের কান্ট্রি ডিরেক্টর মীর ফয়সাল, ভি মটো বাংলাদেশ ও সিমবা মটরস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সোহেল বিন আজাদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাজীব নূর।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস ইনচার্জ ও সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফীস এবং মার্কেটিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের মো. আসিফুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে ক্রিকেট মাঠের উৎকর্ষ উদযাপনের পাশাপাশি প্রযুক্তির নিত্যনতুন উদ্ভাবন ও পরিবেশবান্ধব চেতনাকে এগিয়ে নেওয়ার অভিন্ন লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই গৌরবময় যাত্রার সঙ্গী হতে পেরে এবং একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও স্মরণীয় সিরিজ উপহার দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছে ভি মটো বাংলাদেশ।

অটোমোটিভ উদ্ভাবনে শীর্ষে চীনের বিওয়াইডি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
অটোমোটিভ উদ্ভাবনে শীর্ষে চীনের বিওয়াইডি
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অটোমোটিভ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে জার্মানির বিখ্যাত ভক্সওয়াগেন ও মার্সিডিজ-বেঞ্জকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে চীনের নিউ এনার্জি ভেহিকেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। জার্মানিভিত্তিক স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার অব অটোমোটিভ ম্যানেজমেন্ট (সিএএম)’ প্রকাশিত ‘অটোমোটিভ ইনোভেশনস রিপোর্ট ২০২৬’-এ এই তথ্য জানানো হয়। বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাণ শিল্পের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো চীনা প্রতিষ্ঠান এমন গৌরবময় মাইলফলক অর্জন করল।

প্রতিবেদনের ২২তম সংস্করণে বিশ্বের ৩৬টি বড় অটোমোটিভ গ্রুপের মোট ৮৬৭টিরও বেশি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সিএএম তাদের নিজস্ব ‘এম.ও.বি.আই.এল’ পদ্ধতির মাধ্যমে এই জটিল মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এই পদ্ধতিতে অটোমোবাইল উদ্ভাবনগুলোর পরিপক্বতা, মৌলিকত্ব, গ্রাহক উপযোগিতা এবং কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে স্কোর দেওয়া হয়। চূড়ান্ত ফলাফলে ১৫৭ দশমিক ২ ইনডেক্স পয়েন্ট পেয়ে উদ্ভাবনী সূচকে সবার শীর্ষে জায়গা করে নেয় বিওয়াইডি। অন্যদিকে পূর্ববর্তী চ্যাম্পিয়ন ভক্সওয়াগেন গ্রুপ ১৪৩ দশমিক ১ পয়েন্ট এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ গ্রুপ ১৩৪ দশমিক ২ পয়েন্ট অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ভাবনী অটোমোটিভ গ্রুপ হওয়ার পাশাপাশি ‘মোস্ট ইনোভেশন ভলিউম ব্র্যান্ড ২০২৬’-এর মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিও নিজেদের করে নিয়েছে বিওয়াইডি। এই বিশেষ ক্যাটাগরিতে ১০৫-এর বেশি ইনডেক্স পয়েন্ট নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি রেনল্ট ও টয়োটার মতো সুপ্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোকে সহজে পেছনে ফেলে দিয়েছে। সিএএম-এর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক পাওয়ারট্রেন, আধুনিক ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং সিস্টেম এবং একাধিক বিশ্বমানের উদ্ভাবনই মূলত বিওয়াইডির এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই যাতায়াত ব্যবস্থার দিকে বৈশ্বিক রূপান্তরে বিওয়াইডির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো। নিজেদের তৈরি ব্লেড ব্যাটারি, ডিএম-আই সুপার হাইব্রিড সিস্টেম এবং অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস-এর মতো যুগান্তকারী প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে সম্পূর্ণ নতুন এক মানদণ্ড তৈরি করছে।

বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারেও বিওয়াইডি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে দুই ধাপে জমকালো মেগা ডেলিভারি ইভেন্টের মাধ্যমে ক্রেতাদের হাতে সরাসরি ৯০টি পরিবেশবান্ধব আধুনিক গাড়ি হস্তান্তর করেছে। দেশের বাজারে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

/আবরার জাহিন

চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে
চীনের অটোমোবাইল শিল্পের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি এখন রপ্তানি।

চলতি বছরের মে মাসে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিচালিত বা পরিবেশবান্ধব যাত্রীবাহী গাড়ি রপ্তানিতে বিশাল সাফল্য দেখছে চীন। দেশটির যাত্রীবাহী গাড়ি সংস্থার (সিপিসিএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মে মাসের তুলনায় এবার গাড়ি রপ্তানি ১১২.৬ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ২৪ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে।  
তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে বিদেশে পাঠানো মোট যাত্রীবাহী গাড়ির ৫৪ দশমিক ১ শতাংশই ছিল পরিবেশবান্ধব জ্বালানিচালিত যান, যা এক বছর আগের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
রপ্তানিকৃত এনইভিগুলোর মধ্যে ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির অংশ ছিল ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ। যদিও এক বছর আগে এ হার ছিল ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ। 
সিপিসিএ বলেছে, চীনের অটোমোবাইল শিল্পের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি এখন রপ্তানি। অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলনামূলক দুর্বল চাহিদার মধ্যেও চীনা গাড়ি নির্মাতারা লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের মতো বাজারে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং রপ্তানির ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে।
সূত্র: সিএমজি বাংলা 

ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’
ওয়েমোর তৈরি নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’। ছবি: সংগৃহীত

চালকহীন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েমো তাদের তৈরি নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’ উন্মুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ফিনিক্সের যাত্রীরা এখন এই স্বয়ংক্রিয় গাড়িতে যাতায়াত করতে পারবেন। প্রাথমিক অবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই সেবা বিনামূল্যে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশেষভাবে তৈরি এই রোবোট্যাক্সি ওয়েমোর জন্য একটি বড় মাইলফলক। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ বাণিজ্যিক গাড়িকে রূপান্তর করে চালকহীন হিসেবে ব্যবহার করত। ভ্যান আকৃতির এই গাড়িটি বেশ বড় ও প্রশস্ত। এটি টেসলার ছোট আকারের সাইবার ক্যাবের সম্পূর্ণ বিপরীত, যাতে মাত্র দুজন মানুষ মালামালসহ বসতে পারেন।

চীনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘জিকর’ ওজাই গাড়িটি তৈরি করেছে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ওয়েমোর নিজস্ব কারখানায় এতে স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়।

গাড়িটিতে যাত্রীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, তিনটি স্ক্রিন এবং চার্জিং পোর্ট রয়েছে। এতে ওয়েমোর ষষ্ঠ প্রজন্মের নতুন চালনা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির ফলে গাড়িটির ক্যামেরা সেন্সর ২৯টি থেকে কমিয়ে ১৩টিতে আনা সম্ভব হয়েছে। এতে লিডার ও রাডার সেন্সরের সংখ্যাও কমেছে। ফলে প্রতিটি গাড়ি তৈরিতে খরচ পড়ছে ২০ হাজার ডলারের কম।

নতুন সফটওয়্যারের জন্য বরফাবৃত ও ঠাণ্ডা শহরের রাস্তায় গাড়িটি চলতে সক্ষম। এর আগে ওয়েমো কেবল উষ্ণ অঞ্চলের শহরগুলোতে সীমাবদ্ধ ছিল। এই সুবিধার কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন শিকাগো শহরে তাদের সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বর্তমানে আমেরিকার ১১টি প্রধান শহরে ওয়েমোর স্বয়ংক্রিয় গাড়ি সেবা চালু রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটিরও বেশি সফল ট্রিপ সম্পন্ন করেছে, যা এই খাতের যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি।

তবে চলতি মাসের শুরুতে বন্যার পানিতে গাড়ি চলে যাওয়ার কারণে দুটি শহরে ওয়েমো তাদের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। এই ঘটনার পর প্রায় ৪ হাজার গাড়ি ফিরিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

টেসলার রোবোট্যাক্সি সেবায় ধীরগতি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
টেসলার রোবোট্যাক্সি সেবায় ধীরগতি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনএইচটিএসএ) একটি নতুন প্রতিবেদনে টেসলার চালকহীন রোবোট্যাক্সি সেবার ধীরগতির চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কিছু সড়ক দুর্ঘটনা রিমোট অপারেটরের মাধ্যমে গাড়ি চালানোর সময় ঘটেছে। এতদিন টেসলা ব্যবসায়িক গোপনীয়তার স্বার্থে এসব তথ্যের কিছু অংশ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে আসছিল।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেসলার এই সেবা দীর্ঘ অপেক্ষার সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। ডালাসে এক সাংবাদিকের মাত্র ২০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে গন্তব্যের নির্ধারিত এলাকার ভেতরে থাকার পরও গাড়িগুলো যাত্রীদের মূল গন্তব্য থেকে ১৫ মিনিট দূরে নামিয়ে দিয়েছে।

টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের জুলাই থেকে টেক্সাসের অস্টিনে অন্তত দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছে যখন গাড়িগুলো দূর থেকে অন্য একজন চালক নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। অস্টিনে টেসলা তাদের রোবোট্যাক্সি সেবা শুরু করে। দুর্ঘটনার সময় গাড়িগুলোতে যাত্রী না থাকলেও একজন করে নিরাপত্তা পরিদর্শক উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে গত বছরের জুলাইয়ে। তখন একজন নিরাপত্তা পরিদর্শক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য চাইলে দূরবর্তী অপারেটর গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন। এতে গাড়িটি রাস্তার পাশে একটি ধাতব বেড়ায় আঘাত করে। দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। তখন একজন রিমোট অপারেটর গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেটি একটি নির্মাণাধীন এলাকার অস্থায়ী ব্যারিকেডে আঘাত করে। তখন গাড়ির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৯ মাইল।

অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো দূরবর্তী মনিটরিং ব্যবস্থা ব্যবহার করলেও তারা সরাসরি গাড়ি চালায় না, বরং সফটওয়্যারকে সহায়তা করে। তবে টেসলার ক্ষেত্রে অপারেটররা সরাসরি গাড়ি চালান। টেসলার সব দুর্ঘটনা অবশ্য রিমোট অপারেটরের কারণে ঘটেনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোবোট্যাক্সি অন্য গাড়ির আয়নায় আঘাত করেছে। অন্য একটি ঘটনায় রাস্তায় আচমকা চলে আসা একটি কুকুরকে গাড়িটি এড়াতে পারেনি, তবে কুকুরটি বেঁচে যায়।

স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা সফটওয়্যার জটিলতা নতুন কিছু নয়। টেসলার প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েমোকেও এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে টেসলার এই ধারাবাহিক সমস্যাগুলো ইঙ্গিত দেয়, প্রতিযোগীদের সমকক্ষ হতে প্রতিষ্ঠানটিকে এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।