ব্যস্ত রাস্তায় হঠাৎ চলন্ত গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়া বা বিকল হওয়া, যে কোনো চালকের জন্য চরম অস্বস্তির। যান্ত্রিক ত্রুটি সব সময় বলে-কয়ে আসে না। তবে এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ও বুদ্ধির সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা জরুরি। রাস্তায় গাড়ি বিকল হলে প্রাথমিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আজকের আয়োজন।
নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামান
গাড়ি বিকল হওয়ার সংকেত দিলে (যেমন- ইঞ্জিন থেকে অস্বাভাবিক শব্দ বা ধোঁয়া) গতি কমিয়ে রাস্তার বাঁ দিকে নেওয়ার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে গাড়ি মূল রাস্তা থেকে সরিয়ে আইল্যান্ড বা ফুটপাতের পাশে নিরাপদ দূরত্বে পার্ক করুন। হঠাৎ ব্রেক কষে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়লে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
সতর্ক সংকেত দিন
গাড়ি থামানোর পর প্রথমে জরুরি সংকেত বাতি জ্বালিয়ে দিন। এতে পেছনের অন্য গাড়িগুলো বুঝতে পারবে আপনার গাড়িটি সমস্যায় পড়েছে। রাতে বা কুয়াশার মধ্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ির পেছনে অন্তত ২০-৩০ ফুট দূরত্বে একটি সতর্ক সংকেত চিহ্ন স্থাপন করুন।
সমস্যা শনাক্ত করার চেষ্টা
গাড়ি নিরাপদ স্থানে নেওয়ার পর শান্ত হয়ে সমস্যাটি বোঝার চেষ্টা করুন। টায়ার পাংচার হয়েছে কি না, ইঞ্জিন ওভারহিট হয়েছে কি না কিংবা ব্যাটারি সংযোগে সমস্যা আছে কি না- তা পরীক্ষা করুন। নিজে মেরামত করতে না পারলে জোর করে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করবেন না। এতে ইঞ্জিনের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঙ্গে রাখুন
দুর্ঘটনা বা বিকল হওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে গাড়িতে সব সময় কিছু সরঞ্জাম রাখা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে:
- স্পেয়ার টায়ার ও জ্যাক।
- টুলবক্স (রেঞ্চ, স্ক্রু-ড্রাইভার ইত্যাদি)।
- টর্চলাইট ও অতিরিক্ত ব্যাটারি।
- জাম্পার কেবল এবং পর্যাপ্ত পানি।
- জরুরি যোগাযোগের নম্বর ও ফার্স্ট এইড বক্স।
সহযোগিতা ও পেশাদার সাহায্য
রাস্তায় একা থাকলে অপরিচিত কারও সাহায্য নেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন। নির্ভরযোগ্য মেকানিক বা পরিচিত কাউকে ফোন করুন। বর্তমান সময়ে অনেক অ্যাপভিত্তিক সেবা পাওয়া যায়। বড় শহরে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তাও নিতে পারেন।
নিয়মিত গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ করলে মাঝপথে বিকল হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। দূরপাল্লার যাত্রার আগে অবশ্য মোবিল, পানি ও চাকার হাওয়া পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।