গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, ‘আমরা আশা করি সংগ্রামে অংশ নেওয়া সব ছাত্রছাত্রীর কথাগুলো লিখবেন। শহিদদের কথা লিখবেন। আমাদের যেন মনে থাকে আমরা শহিদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের বাংলাদেশ পেয়েছি।
পাঁচ আগস্ট যে ঐক্য রচিত হয়েছে, তা কোনো শক্তি যেন ভেঙে দেওয়ার সুযোগ না পায়। মনে রাখতে হবে, আগ্রাসন এবং বিভিন্ন ধরনের আক্রমণ থেকে আমরা মুক্ত নই। জনতার ঐক্য, ছাত্রসমাজের ঐক্য, গণমানুষের ঐক্য বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। না হয় যেকোনো দুর্বলতার সুযোগে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে পারে। একুশ মানে মাথা নত না করার কথা বলি। আমরা যেন কারও কাছে মাথা নত না করি।’
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এমএ আজিজ স্টেডিয়ামসংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে চট্টগ্রাম অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এবং সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের ব্যবস্থাপনায় এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
শিল্প উপদেষ্টা বলেন, ‘চট্টগ্রামের আজকের বইমেলার ন্যারেটিভটা আলাদা। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটিয়ে জুলাইয়ের ৩৬ দিনে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছে। সেই বদলে দেওয়ার ন্যারেটিভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এই বইমেলা।
বাংলাদেশে বইমেলা হচ্ছে। ২১ উদযাপন হচ্ছে। শুরুর দিকে ছোট আঙিকে প্রচারের জন্য স্মারক-স্মরণিকা বের করা হতো। নিজেদের পাড়ায় পাড়ায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বইমেলা হতো। চট্টগ্রামেও এ রকম বইমেলা হতো। বাংলা একাডেমি অনেক পর বড় আকারের আয়োজন করেছে। আজকের বাস্তবতা হলো, সেসব উদ্যোগকে ছাপিয়ে বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার ওপর দাঁড়িয়ে, মানুষের অধিকার আদায়ের যে সংগ্রাম, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম, ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরেুদ্ধে যে সংগ্রাম, সেটার ওপর দাঁড়িয়ে আজকের বইমেলা।’
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশেনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয়নি। সৈয়দ মুজতবা আলীর এই কথা দিয়ে শুরু করছি। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান। আমাদের জ্ঞানভান্ডার থাকার কারণে আমরা আন্দোলন করে সফল হতে পেরেছি। পড়ার কোনো বিকল্প নেই। বইমেলায় যে প্রকাশনা সংস্থাগুলো স্টল সাজিয়েছে। তাদের সবাইকে বই কেনার আহ্বান জানান মেয়র।
অধিকাংশ স্টলের কাজ শেষ হয়নি
স্টলে কর্মরতদের সঙ্গে আলাপ হয় খবরের কাগজের প্রতিবেদকের। মেলায় দেখা গেছে অধিকাংশ স্টলের কাজ শেষ হয়নি। একদিকে চলছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, অন্যদিকে স্টল নির্মাণের কাজ। ১৪৪টি স্টলের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি স্টল বই সাজাতে পেরেছে।
স্টলে কর্মরত একাধিক প্রকাশনা সংস্থার কর্মী জানান, অন্যান্য বছর তারা তিন দিন আগেই স্টল পেয়ে যান। এবার আয়োজকরা একটু দেরিতে কাজ শুরু করেছেন। এ কারণে তারা দেরিতে স্টল বুঝে পেয়েছেন। হয়তো রবি-সোমবারের মধ্যে সব স্টলে বই উঠবে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি ও বইমেলা আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব মো. সাহাব উদ্দীন হাসান বাবু বলেন, আয়োজক কমিটির আন্তরিকতার অভাব নেই। একটু দেরিতে কাজ শুরু করার পরও প্রকাশনা সংস্থাগুলোকে স্টল হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে। যেহেতু তারা স্টল পেয়ে গেছেন, বই তুলতে আর দেরি হবে না। অন্যবারের তুলনায় এবারের মেলা অনেক বেশি জমজমাট হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।