ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

কোটা সংস্কারের দাবিতে বুয়েট শিক্ষার্থীদের মৌন সমাবেশ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ০৪:৪৪ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৪, ০৪:৪৫ পিএম
কোটা সংস্কারের দাবিতে বুয়েট শিক্ষার্থীদের মৌন সমাবেশ
ছবি : খবরের কাগজ

সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে যৌক্তিক পর্যায়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ও সংহতি জানিয়ে ১৩ মিনিটের মৌন সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। পরে গণমাধ্যমকে লিখিত বক্তব্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন তারা।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১২টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত বুয়েট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে এই মৌন সমাবেশ করেন তারা। 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘গত ৫ জুন হাইকোর্ট ২০১৮ সালের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কোটা বাতিলের পরিপত্রটি অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এর ফলে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ সরকারি কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার উদ্রেক ঘটে।’

এরপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং বিদ্যমান কোটার অযৌক্তিকতা তুলে শিক্ষার্থীরা ৬টি পয়েন্ট উল্লেখ করেন। লিখিত বক্তব্যের শেষাংশে দ্রুত রায় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, ‘দেশের সর্বস্তরে কোটা সংস্কারবিষয়ক যেসব আন্দোলন হচ্ছে তা অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সর্বাত্মকভাবে একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করছি এবং আদালতের প্রতি মেধার মূল্যায়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে অতি দ্রুত রায় দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’

পয়েন্ট ছয়টি হলো-

১. একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেন তখন তিনি যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এবং নারীদের জন্য যথাক্রমে ৩০ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ কোটার ব্যবস্থা করেন। কেননা, মুক্তিযুদ্ধে তখন আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা অনেকে শহিদ হওয়ায় তাদের পরিবার উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারায়। পাক হানাদার বাহিনী অনেকের বাড়িঘর পুড়িয়ে ফেলে। অনেকে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে হারান, অনেকে যুদ্ধে অংশ নিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। এমতাবস্থায়, তখন বেঁচে থাকা মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য জাতির জনকের ৩০ শতাংশ কোটা ব্যবস্থা সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। (দেশের সংবিধানে ‘অনগ্রসর’ অবস্থা বিবেচনায় কোটা দিয়ে সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার কথা বলা আছে)। তা ছাড়াও তৎকালীন নারী শিক্ষায় এই জনপদ অনগ্রসর ছিল। যেসব নারী পড়াশোনা করেছেন তারাও অনেক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে পড়ালেখা করতে পেরেছেন। সেজন্য তাদের জন্যও কোটা থাকা জরুরি ছিল।

পরবর্তী সময়ে মাঝে কোটা সুবিধা বন্ধ থাকার পর আবার চালু হওয়ায় অনেক মুক্তিযোদ্ধার চাকরিতে প্রবেশের বয়স পেরিয়ে যায়। যার জন্য মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পর্যন্ত কোটা সুবিধা দেওয়া যৌক্তিক ছিল।

তবে বর্তমান সময়ে এসে অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার স্বচ্ছল জীবনযাপন করছে। তাদের পরিবারের নাতি-নাতনিদের আগের অনগ্রসর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়নি। এক্ষেত্রে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কথা বিবেচনা করে তাদের সুবিধার্থে এবং মেধার স্বার্থে আগের কোটা পদ্ধতি সংস্কার করা বাধ্যতামূলক।

২. ২০০৪ সালের ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী নারীদের সাক্ষরতার হার ছিল ৩১ শতাংশ এবং ২০০৮ সালে ছিল ৫১ শতাংশ। সেখানে বর্তমানে মেয়েদের সাক্ষরতার হার বেড়ে হয়েছে ৭৩ শতাংশ। যেখানে দেশের সাক্ষরতার হার ৭৬.০৮ শতাংশ। এ থেকে বলা যায় যে, দেশে নারী শিক্ষায় ও যোগ্যতায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে। নারীরা তাদের আত্মমর্যাদা ও অধিকারের প্রতি যথেষ্ট সচেতন। এমতাবস্থায়, ১০ শতাংশ নারী কোটা বজায় রাখা আত্মমর্যাদাশীল নারীদের প্রতি অসম্মানজনক। এমনকি আমাদের মাঝে উপস্থিত নারীরা কেউই নারীদের জন্য এই বিশেষ কোটা সুবিধা চায় না। তাই নারী কোটাও সংস্কার করা উচিত।

৩. আগে দেশের অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থার জন্য বেশকিছু প্রত্যন্ত জেলা ছিল যারা অনগ্রসর ছিল। যার জন্য ১০ শতাংশ জেলা কোটা রাখা হয়েছিল। বর্তমানে পদ্মা সেতু, যমুনা সেতুসহ বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থায় অভাবনীয় পরিবর্তনের ফলে সারা দেশ এখন একসঙ্গে কানেক্টেড। তা ছাড়াও টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রত্যন্ত জেলা বলতে কার্যত কিছু থাকছে না। তাই এখানেও ১০ শতাংশ কোটা রাখা ভিত্তিহীন।

৪. কোটা সংস্কারের পর বিভিন্ন কোটায় উপযুক্ত/ন্যূনতম যোগ্যতা সম্পন্ন কাউকে না পাওয়া গেলে সে জায়গাগুলোতে মেধার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।

৫. একটি বিশেষ কোটাকে যাতে কোনো ব্যক্তি তার জীবনের ধাপে ধাপে সুবিধা ভোগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের সঠিক অবকাঠামো গঠন করা আবশ্যক।

৬. কালের বিবর্তনে বাংলাদেশ এখন স্মার্ট আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ থেকে প্রতিনিয়ত মেধাবীরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে আসছে। তার মানে মেধা ও মননের দিক দিয়ে দেশ অনেকাংশে এগিয়ে গেছে। যার ফলে আগামীর বাংলাদেশের কাণ্ডারি হবে দেশের মেধাবীরা। সেজন্য মেধার সর্বাত্মক সুযোগ বজায় রাখা কাম্য। তাই মেধাই হোক সবচেয়ে বড় কোটা। এতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে দেশ খুব দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

আরিফ জাওয়াদ/সালমান/

জবির হতাহত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার নির্দেশ উপাচার্যের

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৫:০৩ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৫:০৩ পিএম
জবির হতাহত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার নির্দেশ উপাচার্যের
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সাদেকা হালিম

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আহত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের তালিকা করে সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছেন উপাচার্য ড. সাদেকা হালিম।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) এ তথ্য জানান উপাচার্য। 

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী  আহত হয়েছে, এমন সব শিক্ষার্থীদের তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছি প্রক্টরকে। তালিকার মাধ্যমে হতাহত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা হবে। অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে গেছে তাদের তালিকা পেলে আমরা যেকোনো সাহায্য করতে পারব।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে চারজনকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে, অনিক নামের একজন শিক্ষার্থীকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার খাদ্যনালী ফুটাে হয়ে গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক খোঁজখবর রাখা হয়েছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে তালিকা করা শুরু করেছি। ৮-৯ জন শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার খোঁজ পেয়েছি। যাদের টাকার প্রয়োজন ছিল, দ্রুত টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। আমাদের তালিকার কাজ চলমান রয়েছে। আজ থেকে বিভাগ অনুযায়ী খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। যার যে ধরণের সহয়তা দরকার হবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের গুলিবিদ্ধ ৫ শিক্ষার্থী ঢামেকে ছিল। তাদের চারজন রিলিজ পেয়েছে। আরেকজনকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে। আমরা সাবর্ক্ষণিক তাদের খোঁজ রেখেছি। আমি নিজেও নিয়মিত ঢামেকে যেয়ে তাদের দেখে এসেছি। উপাচার্য মহোদয়ও আমাদের মাধ্যমে তাদের খোঁজ নিয়েছেন নিয়মিত।’

মুজাহিদ বিল্লাহ/অমিয়/

কোটা আন্দোলনে হতাহত শিক্ষার্থীদের সহায়তার নির্দেশ জবি উপাচার্যের

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৫:০২ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৫:০২ পিএম
কোটা আন্দোলনে হতাহত শিক্ষার্থীদের সহায়তার নির্দেশ জবি উপাচার্যের
অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে হতাহত শিক্ষার্থীদের তালিকা করে সহায়তা করার নির্দেশ দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) এ নির্দেশ দেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়েছে, এমন সব শিক্ষার্থীর তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছি প্রক্টরকে। তালিকার মাধ্যমে হতাহত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা হবে। অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন। তাদের তালিকা পেলে আমরা যেকোনো সাহায্য করতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢামেকে চিকিৎসাধীন থাকা পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে চারজনকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে, অনিক নামের এক শিক্ষার্থীকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার খাদ্যনালীতে ফুটো হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক খোঁজখবর রাখা হয়েছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে তালিকা করা শুরু করেছি। ৮-৯ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। যাদের টাকার প্রয়োজন ছিল, দ্রুত টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। আমাদের তালিকা করার কাজ চলমান। আজ থেকে বিভাগ অনুযায়ী খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। যার যে ধরনের সহায়তা দরকার হবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের গুলিবিদ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থী ঢামেকে ছিল। তাদের মধ্যে চারজন রিলিজ পেয়েছে। অন্যজনকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে। আমরা সাবর্ক্ষণিক তাদের খোঁজ রেখেছি। আমি নিজেও নিয়মিত ঢামেকে গিয়ে তাদের দেখে এসেছি। উপাচার্যও আমাদের মাধ্যমে নিয়মিত তাদের খোঁজ নিয়েছেন।’

মুজাহিদ বিল্লাহ/সালমান/

প্রবেশ মুখগুলোতে নিরাপত্তা, সুনসান নীরবতা ঢাবি ক্যাম্পাসে

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১১:৩৬ এএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১১:৫৬ এএম
প্রবেশ মুখগুলোতে নিরাপত্তা, সুনসান নীরবতা ঢাবি ক্যাম্পাসে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: খবরের কাগজ

যে ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত, অনির্দিষ্টকালের বন্ধে সেই ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। কাঠবিড়ালির পদচারণা আর বাহারি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। কোটা আন্দোলনকে ঘিরে থমথমে অবস্থার অনেকটা উন্নতি হলেও ক্যাম্পাসের বেশ কিছু প্রবেশ মুখে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরব উপস্থিতি। 

অন্য দিনগুলোর মতো ক্যাম্পাসের ভেতরে রিকশা-সিএনজি-প্রাইভেট কার চলাচল সেভাবে না থাকলেও গতকাল বুধবার ক্যাম্পাসের রাস্তায় ছোট এসব যানবাহন চলতে দেখা গেছে। হলগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীশূন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) একেবারেই সুনসান নীরবতায় ডুবে আছে। প্রত্যেকটি হলের প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে খুলে দেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বুধবার (২৪ জুলাই) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় নীলক্ষেতের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ, ভিসি-ডাস চত্বরসহ বেশ কিছু প্রবেশ মুখে পুলিশ, আনসার সদস্যদের উপস্থিতি। যদিও বিগত দিনগুলোর তুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। এদিকে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম চলেছে বুধবার বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার খবরের কাগজকে বলেন, ‘নোটিশ অনুযায়ী রেজিস্ট্রার ভবন খোলা ছিল। সকল ধরনের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলেছে। ওই নোটিশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবারও যথারীতি সব ধরনের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান থাকবে। এখন পরবর্তী নোটিশ সাপেক্ষে বলা যাবে, আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের কার্যক্রম চলমান থাকবে কি না। এ মুহূর্তে নিশ্চিত করেই কিছু বলা যাচ্ছে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকলেও খোলা রয়েছে ঢাবির স্যার পি জে হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হল। জটিল পরিস্থিতির মধ্যে ১ জন শিক্ষকসহ ৩২ জন হল ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন হলটির প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।

তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘একজন কোরিয়ান শিক্ষকসহ নেপালি, ভুটানি, ফিলিস্তিনি, শ্রীলঙ্কান, মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থী সবমিলিয়ে ৩২ জন হল ছেড়েছেন। এর মধ্যে তিনজন ফিলিস্তিনিকে ফিলিস্তিনের অ্যাম্বাসি, কোরিয়ান শিক্ষক যিনি ছিলেন, তিনি তো কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) মাধ্যমে এসেছিলেন, তাকে তারা নিয়ে গেছে। এ ছাড়া বাকিদের সেই দেশের অ্যাম্বাসির লোকজন যোগাযোগ করে নিয়ে গেছেন।’

অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান আরও বলেন, ‘বর্তমানে যারা হলে আছেন, তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তারা যেন প্রয়োজন ছাড়া বের না হন এবং বহিরাগত কাউকে যেন হলে না আনেন। যদি একান্তই প্রয়োজন হয়, তারা যেন অবশ্যই হল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেন।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হবে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কোনো নিরপরাধ শিক্ষার্থী যেন ভবিষ্যতে কোনো হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পূর্বের মতো নিয়োজিত থাকবে এবং হলগুলোতে মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ দেওয়াসহ পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘দ্রুততম সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলগুলোর কক্ষগুলো সংস্কার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ লক্ষ্যে কাজ করছে।’

ক্যাম্পাস ও হল খুলে দিতে এরই মধ্যে পাঁচ পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেগুলো হলো- ঢাবি ক্যাম্পাসে কোনো নিরপরাধ শিক্ষার্থী যেন ভবিষ্যতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেটা নিশ্চিত করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে অবস্থান করবেন, যাতে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাতে না পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পূর্বের মতো নিয়োজিত থাকবে। দ্রুততম সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলের কক্ষগুলো সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হবে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে জন্য শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে। এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা কাম্য। হলগুলোতে শুধু বৈধ শিক্ষার্থীরাই থাকবেন। প্রশাসনের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী আবাসিক হলগুলোতে মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ দেওয়া হবে।

গত ১৭ জুলাই সিন্ডিকেটের এক জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)।

এ ছাড়া হলে অবস্থানরত সব শিক্ষার্থীকে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশনা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর পরপরই পুরোপুরিভাবে হল ছাড়তে শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

কোটা আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় জবি শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৩:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩৪ পিএম
কোটা আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় জবি শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি

কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘর্ষে হতাহতদের প্রতি শোক ও সমবেদনা এবং এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষক সমিতি। একইসঙ্গে সরকারের কাছে কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মমিন উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ড. শেখ মাশরিক হাসানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা গভীর উদ্বেগ ও হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করছি, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। যা সার্বিকভাবে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, মর্মাহত ও শোকাহত এবং এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। উক্ত সহিংসতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ আহত সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি আমরা সমবেদনা প্রকাশ করছি এবং তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সহিংস ঘটনায় পরিণত করে যে স্বার্থান্বেষী মহল দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও অরাজকতা সৃষ্টি করেছে এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটিয়েছে জবি শিক্ষক সমিতি বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে। একই সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনে যেসব নিরপরাধ শিক্ষক-শিক্ষার্থী হতাহত হয়েছেন রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের সবার সুচিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করারও দাবি জানাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।’

এতে আরও বলা হয়েছে, “‘চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অদ্য (১৭ জুলাই) জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমাদের ছাত্রসমাজ উচ্চ আদালত থেকে ন্যায়বিচারই পাবে। তাদের হতাশ হতে হবে না।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের উপর আস্থা রেখে চলমান সংকটের দ্রুত নিরসন হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”

প্রচলিত কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার চেয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি প্রচলিত কোটা ব্যবস্থার দ্রুত যৌক্তিক ও আইনানুগ সংস্কার করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরিতে সমতার সুযোগ সৃষ্টির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ত্রিশ লাখ বীর শহিদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানহানি হয় এমন কর্ম থেকে বিরত থাকার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

পপি/অমিয়/

নোবিপ্রবি কোটা আন্দোলনের সমর্থনে ১০ ছাত্রলীগ নেতার পদত্যাগ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৩:২৯ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:২২ পিএম
কোটা আন্দোলনের সমর্থনে ১০ ছাত্রলীগ নেতার পদত্যাগ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বিভিন্ন হল শাখার ১০ ছাত্রলীগ নেতা পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তারা সবাই চলমান কোটা আন্দোলনের সমর্থক।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত নোবিপ্রবির বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, হযরত বিবি খাদিজা হল ও ভাষা শহিদ আব্দুস সালাম হলে ছাত্রলীগের এসব নেতারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

পদত্যাগী ছাত্রলীগ নেতারা হলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সাংগঠনিক সম্পাদক জুবাইয়া হোসেন ঐশী, হাবিবা সুলতানা রিমা, সানজিদা আক্তার সামিরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সহসভাপতি সানজিদা মীম, সৈয়দা সাবিহা নাওয়ার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফাতিমা নাহিন (নবনী)। হযরত বিবি খাদিজা হলের সহসভাপতি মৃত্তিকা দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক কায়নাত তাছনিয়া, নাহিন বিনতে ওহাব এবং ভাষা শহিদ আব্দুস সালাম হলের উপ-টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বিষয়ক সম্পাদক মো. ইয়াকুব আলী।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এক নেত্রী ফেসবুকে লেখেন, ‘গত ১৫ তারিখ থেকে তিনবার লিখেও পোস্ট করার সাহস পাইনি। আমার ছোট ভাই মাশরাফি হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায়। আমার নিজের ওপর ঘৃণা হচ্ছে। লাশের  পর লাশ ফেলানোর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি ছাত্রলীগকে সমর্থন করিনি। আমি এ সংগঠন থেকে পদত্যাগ করলাম।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘চবিতে পড়া আমার আপন ভাইকে ২৪ ঘন্টা খুঁজে পাইনি। সারারাত আন্দোলনকারীদের মতো আমার বাসার কেউ ঘুমাতে পারেনি। পরে জানলাম আমার ভাই আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। বোন হিসেবে আমি লজ্জিত। ভাইয়ের কাছে মুখ দেখানোর জায়গা নেই আমার। আলহামদুলিল্লাহ আমার ভাই তো বেঁচে আছে। কিন্তু কতো বোনের ভাই তো চিরবিদায় নিচ্ছে। রাজনীতির এ ট্যাগ নিয়ে ঘুরে বেড়ানো আমার কাছে অস্বস্তিরকর। তাই বাধ্য হলাম।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান শুভ খবরের কাগজকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তারা অব্যাহতির আবেদন দিয়েছে। কেউ ব্যক্তিগত কারণে অব্যাহতি চাইলে আমাদের কিছু বলার নাই। এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।’

ইকবাল হোসেন/ইসরাত চৈতী/অমিয়/