বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) চলমান গণত্রাণ কর্মসূচিতে ভিন্নতা এসেছে। কর্মসূচির দশম দিনে নেওয়া হয়নি শুকনো খাবার এবং কাপড়। এবার বানভাসি মানুষদের জন্য গণরান্না কর্মসূচি এবং বন্যার্তদের পুনর্বাসনে কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (৩১ আগস্ট) ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) সাংবাদিকদের এ কথা জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক লুৎফর রহমান।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বন্যার্ত এলাকায় শুকনা খাবারের তুলনায় রান্না করা খাবারের চাহিদা রয়েছে। তাই আমরা সেই দিকটাতে একটু ফোকাস দিতে চাই। টিএসসি-ডাকসু-জিমনেশিয়ামে যেসব খাবার রয়েছে, তার মধ্যে বিশেষ করে শুকনা খাবারগুলো আজকালের মধ্যে পাঠানোর চেষ্টা করছি।’
দশম দিনে গণত্রাণ কর্মসূচিতে ভিন্নতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন করে শুকনা খাবার-কাপড়; এগুলো আর নিতে পারছি না। এখনো প্রচুর কাপড় পড়ে রয়েছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সেগুলো আমরা হস্তান্তর করছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজকেও আমরা কয়েক গাড়ি প্যাকেটবন্দি কাপড় হস্তান্তর করেছি। তা ছাড়া ফেনীসহ কয়েকটি জেলাতে আমাদের যে গণরান্না কর্মসূচি চলমান রয়েছে, তা স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় আরও প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’
বন্যার্তদের পুনবার্সন করতে অর্থ সংগ্রহ চলমান থাকবে, তা জানিয়ে এক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, ‘বন্যার্তদের পুনবার্সন করতে অর্থ প্রয়োজন। কাপড় ও শুকনা খাবার সংগ্রহ বন্ধ থাকলেও, টিএসসির বুথে নগদ অর্থ সংগ্রহ চলমান থাকবে। এ ছাড়া যে কেউ চাইলে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বন্যার্তদের সহায়তায় আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন।’
এদিকে সরেজমিনে গিয়ে টিএসসি-জিমনেসিয়াম-ডাকসু ঘুরে দেখা যায়, সংগৃহীত ও ক্রয়কৃত ত্রাণসামগ্রী প্যাকেজিং করে ট্রাকে তুলছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। যদিও বিগত দিনগুলোর তুলনায় ত্রাণসামগ্রী অনেকটাই কমে এসেছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বন্যাকবলিত জেলায় রেসকিউ অপারেশন, ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি চালু এবং পাবলিক ফান্ড রেইজিং উদ্যোগো কথা জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার। এরপর থেকেই শুরু হয় নগদ অর্থ ও ত্রাণ সংগ্রহ। শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিকেন্দ্রিক ওই ত্রাণ সংগ্রহের কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে, পরবর্তী সময়ে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় সেখান থেকে ত্রাণসামগ্রী সরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে স্থানান্তর করা হয়।
আরিফ জাওয়াদ/এমএ/