রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পুরোনো ৯টি বাস ও তিনটি মাইক্রোবাস বিক্রির জন্য গত ২১ অক্টোবর দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে ওই দরপত্র কিনতে বা জমা দিতে আসা একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিজেদের ‘বিএনপির নেতা-কর্মী’ পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের কর্মকর্তাদেরও তারা দরপত্র বিক্রিতে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, তাদের দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্মের চেষ্টা করছে। এর দায় দল নেবে না।
জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো গাড়ি বিক্রির জন্য মোট ১২টি দরপত্র আহ্বান করা হয়; যা কেনার সর্বশেষ তারিখ ছিল ১৭ নভেম্বর ও জমার তারিখ ছিল ১৮ নভেম্বর। এর মধ্যে ঠিকাদাররা ৪৩টি দরপত্র দাখিল করেছেন। ৪৩টি দরপত্রের মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানই জমা দিয়েছে ৩৬টি।
গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকে টেন্ডার জমা দেওয়ার কথা। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোষাধ্যক্ষের কক্ষের সামনে টেন্ডার বাক্স পাওয়া যায়নি। পরে এক ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে টেন্ডার জমা দিতে আসেন। কিন্তু বাক্স না পেয়ে হইচই শুরু করেন। পরে তাদের তোপের মুখে পৌঁনে ১টার দিকে টেন্ডার বাক্স বের করা হয়। কিন্তু ক্ষোভের জায়গা থেকে তিনি আর দরপত্র জমা দেননি।
টেন্ডার জমা দিতে আসা নগরীর জিন্নানগর এলাকার বাসিন্দা রুহিদ আমিন বলেন, ‘আমার বড় ভাইয়ের হয়ে টেন্ডার জমা দিতে আসি। কোষাধ্যক্ষের কক্ষের সামনে টেন্ডার বাক্স থাকার কথা। সকাল থেকে দুবার ওখানে গিয়ে বাক্স পাইনি। তাই জমা দিতে পারিনি।’
টেন্ডার বাক্স কেন বাইরে রাখা হয়নি জানতে চাইলে কোষাধ্যক্ষ ড. মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই জেনেছি কে বা কারা বাধা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। এ জন্য নিরাপত্তার কারণে বাক্স সামনে না রেখে আমার কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখেছিলাম। পরে বের করা হয়েছে। বিকেল ৪টায় টেন্ডার জমা শেষে বাক্স সিলগালা করি। সিন্ডিকেটের কারণে যদি আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাই তা হলে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করব।’
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাতেমা এন্টারপ্রাইজের হয়ে দরপত্র কিনতে এসে কয়েকজনের বাধার মুখে ফিরে যান নগরীর মালদা কলোনি এলাকার ইশতিয়াক হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে গেলে ৫-৬ জন আমাকে বাধা দেন। তাই না কিনেই চলে আসি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক সরকার বলেন, ‘রবিবার দরপত্র কেনার শেষদিন ছিল। আমরা যেন আর দরপত্র বিক্রি না করি এ জন্য তিনজন ব্যক্তি এসে হুমকি দিয়ে যান। বিক্রি হওয়া সবগুলো দরপত্রের তালিকা ছিল তাদের কাছে। এ তালিকার বাইরে যারা দরপত্র কিনেছেন, তাদের নাম ও মোবাইল নম্বর তারা চেয়েছিলেন। আমি চলে যাওয়ার পর আমার দপ্তরের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তারা খারাপ আচরণ করেন।’
তাদের চেনেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘চিনি না। তবে তারা নিজেদের স্থানীয় বিএনপি নেতা বলে পরিচয় দিয়েছেন। তাদের কারণেই দরপত্র অনেক কম বিক্রি হয়েছে।’
তবে এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মতিহার থানা বিএনপির আহ্বায়ক একরাম আলী। তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। অনেকে আমাদের দলের পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্মের চেষ্টা করে। তবে দলীয় না হয়ে দলের পরিচয় দিয়ে কেউ কোনো অপকর্ম করলে তার দায়ভার আমরা নেব না।’