নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আঁকা হয়েছে ‘স্বাধীনতার সূর্যোদয় ২৪' নামে এক অনন্য গ্রাফিতি, যা প্রশংসা কুড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
এছাড়াও 'রক্ত দিয়ে কেনা স্বাধীনতা' এবং 'মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু'সহ একের পর এক গ্রাফিতি ও ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে সজ্জিত করা হয়েছে নোবিপ্রবির ১০১ একর।
নোবিপ্রবি এখন যেন বিপ্লবের রংতুলিতে সজ্জিত। ক্যাম্পাসের দেওয়ালে দেওয়ালে ফুটে উঠেছে রঙ-বেরঙের গ্রাফিতি ও বিল্পবী স্লোগানের চিত্র।
প্রতিটি রং, প্রতিটি রেখা, প্রতিটি গ্রাফিতি বলছে নতুন এক স্বাধীনতার কথা, এক ঐতিহাসিক বিপ্লবের কথা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এসব গ্রাফিতি ও বিপ্লবী চিত্রকর্ম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে সাজানোর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। তারা আশা করছেন, এই গ্রাফিতিগুলো নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং একটি নতুন, সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সাহায্য করবে।
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, প্রশাসনিক ভবন, লাইব্রেরি ভবন, বিভিন্ন একাডেমিক ভবন থেকে শুরু করে আবাসিক হল- সবখানেই শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার ছাপ। আলপনা, গ্রাফিতি আর বিপ্লবী স্লোগান সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসকে করেছে এক অনন্য সুন্দর।
'স্বাধীনতার সূর্যোদয়’ এবং রক্ত দিয়ে কেনা স্বাধীনতা' গ্রাফিতিটি আঁকেন নোয়াখালী কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. তৌহিদ ওসমান অনু।
গ্রাফিতি এবং ক্যালিগ্রাফি নিয়ে অনু বলেন, ক্যালিগ্রাফি চর্চার শুরু থেকেই ইচ্ছে ছিল নোবিপ্রবিতে গ্রাফিতি করবো। কিন্তু সুযোগ না হওয়ায় অপেক্ষায় ছিলাম। তবে টার্গেট ছিল ডিসেম্বর মাসে নোবিপ্রবিতে গ্রাফিতি করব। হঠাৎই নোবিপ্রবি থেকে ডাক আসলো গ্রাফিতি করার। অনেকটা মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মতো।
তিনি আরও বলেন, গ্রাফিতি করার সময় খুব কম ছিল। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যার, প্রক্টর স্যার এবং নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। আমার সহযোগী চিত্রশিল্পী জাহিদ হোসেন সেজানকে নিয়ে কাজ শুরু করি। সকলের সহযোগিতায় সল্প সময়ের মাঝেও গ্রাফিতি ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি।
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অনু বলেন, আমি খুবই আনন্দিত গ্রাফিতির কাজ করতে পেরে। কাজ করতে গিয়ে নোবিপ্রবি পরিবারের অনেক ভালোবাসা এবং সাপোর্ট পেয়েছি। যা আমার অনুপ্রেরণা হয়ে সবসময় পাশে থাকবে। আবার কখনো নোবিপ্রবি থেকে আমাকে ডাকলে আমি অবশ্যই নোবিপ্রবিতে যেতে চাই। নোবিপ্রবিতে কাটানো দিনগুলো বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, ক্যাম্পাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আঁকা গ্রাফিতিগুলো ছাত্রদের ত্যাগ, সংগ্রাম ও প্রতিবাদের চেতনাকে ধারণ করে। এসব গ্রাফিতিতে কোটাসংস্কার আন্দোলনের সময় শহিদ হওয়া ছাত্রদের স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও, স্বৈরাচার সরকারের পতনের জন্য ছাত্রদের দেওয়া রক্ত এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতিফলনও ফুটে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, এই গ্রাফিতি শুধু আন্দোলনের ইতিহাসকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার জন্য অঙ্কন করা হয়েছে। শহিদ আবু সাঈদ ভাইয়ের আন্দোলনরত দৃশ্য এবং স্বাধীনতা রক্ষার নানা উক্তি এখানে চিত্রায়িত হয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো সংকটে এই গ্রাফিতি আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুপ্রেরণা দেবে।
এই গ্রাফিতি শুধু বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যতেও তা ছাত্রসমাজের আন্দোলনের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখবে এবং একতার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন তিনি।
কাউছার আহমেদ/নাবিল/এমএ/