রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) স্নাতক ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে ভবনের সামনে অবস্থান করছেন একদল শিক্ষার্থী। তাদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারীর সন্তানদের জন্য রাখা ১ শতাংশ কোটাও বাতিল করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় তারা এ অবস্থান নেন।
এর আগে বুধবার ( ১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক ও কর্মকর্তার সন্তানদের জন্য পোষ্য কোটা বাতিল করে শুধুমাত্র সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারীর সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ কোটা রেখে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
এরই প্রেক্ষিতে বুধবার রাত ৮টায় আন্দোলনকারীরা সংবাদ সম্মেলন করে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে পোষ্য কোটা বাতিল করে নতুন বিজ্ঞপ্তির সময় বেঁধে দেয় এবং দাবি না মানা হলে সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা 'পোষ্য কোটা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক', 'লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই', 'পোষ্য কোটার বিরুদ্ধে, আগুন জ্বালো একসাথে' স্লোগান দিতে থাকে।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও রাবি পোষ্য কোটাবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারী সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, 'আমরা তো ভর্তি পরীক্ষা দিয়েই আসতে চাই। কিন্তু আপনারা ভর্তি পরীক্ষার আগেই সিট রিজার্ভ করছেন। আমার প্রশ্ন রইল, তা হলে অন্যায় দাবি কোনটা? অবিলম্বে পোষ্যকোটা বাতিল করে মেধাবীদের মুক্তি দিতে হবে।’
এ বিষয়ে কামরুল ইসলাম সজীব নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের দাবি আজকের মধ্যেই পোষ্য কোটা বাতিল করে নতুন সিদ্ধান্তে আসতে হবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে শুধু এ বছরের জন্য ১ শতাংশ পোষ্য কোটা বহাল রেখেছি। এর পরিমাণ আগামীতে বাড়ার সম্ভাবনা নেই, বরং এটাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কোটা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা কেন পোষ্যকোটার বিরুদ্ধে দাবি তুলেছে, তা আমার বোধগম্য নয়।’
এস আই সুমন/সুমন/