ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়ে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর পাঠানো স্মারকলিপি গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন আহমেদ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কারের মডেল গড়ে তোলা সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করার মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন, কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচন, গণতান্ত্রিক চর্চার সেই সুযোগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, অভ্যুত্থানের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন ডাকসু নির্বাচন নিয়ে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি।’
বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গে টেনে এতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ডাকসু পুনরায় সক্রিয় করার জন্য একটি কমিশন গঠন করা হলেও, তার সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন গঠনতন্ত্র সংশোধনের যে প্রস্তাবনা দিয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা বা অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে তাদের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যা বরাবরই জাতীয় নেতৃত্বে পথপ্রদর্শক, এই প্রক্রিয়ায় পিছিয়ে রয়েছে।’
এ সময় ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলা হয়, ‘আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানাচ্ছি। এই রোডম্যাপের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংস্কারের সময় নির্দিষ্ট করতে হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা করা না হয়, তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণে বাধ্য হবো। এর ফলে উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতির দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে।’
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহিন সরকার, তাইমীদ আল মুদ্দাসমীর চৌধুরী, আবদুল্লাহ ইবনে হানিফ আরিয়ান, মোহাম্মদ সাকিব, আবিদ হাসান রাফি, আব্দুর রহমান আল-ফাহাদ প্রমুখ।
এর আগে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডাকসুর দাবি এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপের ঘোষণার দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ওই সময় ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহিন সরকার।
আরিফ জাওয়াদ/নাবিল/এমএ/