খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট রয়েছে। তৃতীয় বর্ষে ওঠার আগে আবাসিক ছাত্র হলে সিট পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের বাইরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ভাড়া থাকতে হয়। রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থানের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়।
জানা গেছে, প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থীর জন্য কুয়েটে আবাসিক হল রয়েছে মাত্র সাতটি। এর মধ্যে ফজলুল হক হল, লালন শাহ হল, খানজাহান আলী হল, ড. এম এ রশিদ হল, অমর একুশে হল ও মুজিবুর রহমান ছাত্র হলে ১ হাজার ৯৫০ জন ও রোকেয়া হলে এক হাজার ছাত্রীর আবাসন সুবিধা রয়েছে। ফলে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে বাসা ভাড়া করে থাকতে হয়।
তবে কুয়েট প্রশাসন বলছে, শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট মেটাতে খানজাহান আলী হল ও লালন শাহ হলের সম্প্রসারণকাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ২০০ জনের আবাসন সুবিধায় নতুন আরেকটি ১০ তলা ছাত্রাবাস নির্মাণকাজের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এসব ছাত্রাবাস নির্মিত হলে আবাসনসংকট থাকবে না।
জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৩ সালে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে তিনটি অনুষদের আওতায় ২০টি বিভাগ, ৩টি ইনস্টিটিউটে ৪ হাজার ৮৫১ জন স্নাতক ও ১ হাজার ৭৭৭ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীসহ মোট ৬ হাজার ৬২৮ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খানজাহান আলী হল ও লালন শাহ হলের চলমান সম্প্রসারণের পর এখানে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পাবেন। তবে হল দুটি সম্প্রসারণের কাজ শুরু হলেও মাঝপথে নির্মাণকাজ আটকে যায়।
কুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, ‘ছাত্রদের জন্য খানজাহান আলী ও লালন শাহ আবাসিক হলের কাজ আংশিক করার পর বন্ধ হয়ে যায়। পুরো কাজ না করেই ওই টাকা খেয়ে ফেলা হয়েছে। সম্প্রতি নতুন বরাদ্দ দিয়ে হলের বাকি কাজ শুরু করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব কাজ পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে। এ ছাড়া ছেলেদের জন্য নতুন আরেকটি ১ হাজার ২০০ সিটের হলের অনুমোদন করানো গেছে। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শুরু হবে। এসব হল নির্মাণ হলে ছাত্রদের আবাসন সমস্যার সমাধান হবে।’
কুয়েটের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ১০ তলা ছাত্র হল নির্মাণে অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ৭ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর আগে প্রায় ২২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে খানজাহান আলী হলের সম্প্রসারণকাজ শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো এবং একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. জুলফিকার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট দূরীকরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চারটি নতুন আবাসিক হল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে দুটি ছাত্র হল এবং দুটি ছাত্রী হল নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া দুটি হলের সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে।