সমন্বয়ক আখ্যা দিয়ে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) আট শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করেছে স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারী) রাতে শহরের নতুন স্কুল রোড এলাকায় ও আহত শিক্ষার্থীদের মেসে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ইফতি মাহমুদ ও তার পিতা কবির মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান।
হামলায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সেলিম রেজা, কৃষি বিভাগের ২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহাদি হাসান তাহমিদ, ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াজদানি আলী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুয়াজ বিল্লাহ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান এবং আব্দুল্লাহ আল খালিদ ও আসাদুল্লাহ গালিব।
আহত শিক্ষার্থীরা জানান, শহরের নতুন স্কুল রোড এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে মেস করে থাকেন তারা। রাতে গোপালগঞ্জ পৌরসভার কমিশনার সোহেলের ভাতিজা ও সাংবাদিক কবিরের ছেলে ইফতি এবং তাদের সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জন স্থানীয় সন্ত্রাসী মেসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ক আখ্যা দিয়ে গালিগালাজ করে।
এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করে। আহত পাঁচজনকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যায়। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শতাধিক শিক্ষার্থী গোপালগঞ্জ সদর থানায় এসে জড়ো হয়। তারা আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম ও থানার সামনে বিভোক্ষ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে থানা ছেড়ে ক্যাম্পাসে ফিরে যায়।
এ বিষয়ে আহত শিক্ষার্থী ইয়াজদানি আলী বলেন, ‘আমরা মেসে যাওয়ার সময় স্থানীয় সন্ত্রাসীরা আমাদের পথ আটকিয়ে আমাদের পরিচয় জানতে চাইলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি বলে জানাই। এ সময় সন্ত্রাসীরা আমাদের সমন্বয়ক আখ্যা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং আমাদের ওপর হামলা চালায়। পরে আমরা সেখান থেকে পালিয়ে মেসে আসলে সেখানে এসেও পুনরায় আক্রমণ করে।’
আহত সেলিম রেজা বলেন, ‘ইফতির নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। আমরা মনে করছি এটি পরিকল্পিত হামলা। ইতোপূর্বেই তারা নতুন স্কুলের সামনে ছিনতাই করেছে।’
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফার্মেসি বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহীন বলেন, ‘গোপালগঞ্জে বার বার শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্নভাবে হামলা করা হচ্ছে। আমরা এইসব হামলার বিচার চাই। যে সব সন্ত্রাসীরা হামলা চালাচ্ছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’
এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রদের পক্ষ থেকে সেলিম রেজা নামে এক ছাত্র মামলা করেছে। গ্রেপ্তার দুইজনকে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদেরকে আমরা দ্রুত আটক করে বিচারের মুখোমুখি করব।’
বাদল সাহা/সুমন/