ঢাকা ১ চৈত্র ১৪৩১, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫
English

স্বাস্থ্যবিমার অধিকারের তথ্য অজানা শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:২৮ এএম
স্বাস্থ্যবিমার অধিকারের তথ্য অজানা শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: খবরের কাগজ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা ভর্তির সময়ের পাশাপাশি প্রতি সেমিস্টারে রেজিস্ট্রেশন ফির সঙ্গে জীবনবিমা ও স্বাস্থ্যবিমার টাকা দিয়ে থাকেন। কোনো কারণে তারা অসুস্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে তাদের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেওয়ার কথা।

কিন্তু বেশির ভাগ শিক্ষার্থী তাদের এই অধিকার সম্পর্কে জানেন না। আবার যারা জানেন, তারা প্রাপ্ত সুবিধা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে অনেক শিক্ষার্থী আবার চিকিৎসার সহায়তার আবেদন করা থেকেই আগ্রহ হারিয়েছেন। 

শিক্ষার্থীরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি নিয়ে প্রচার না থাকায় তারা তাদের ন্যায্যা অধিকার সম্পর্কে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচারের বিষয়ে তারা শিগগিরই উদ্যোগ নেবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই বিমাচুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হলে শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পাবেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা পাঁচ হাজার টাকার একটি আউটপেশেন্ট ট্রিটমেন্ট কাভারেজ পাবেন। দুর্ঘটনাবশত কোনো শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করলে তিনি যাকে নমিনি করে যাবেন তিনি ৫০ হাজার টাকা পাবেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অতি প্রয়োজনীয় এই তথ্যগুলো জানানোর জন্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে জীবনবিমা এবং স্বাস্থ্যবিমার জন্য ৫০০ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে প্রতি সেমিস্টারে রেজিস্ট্রেশন ফির সঙ্গে ২৫০ টাকা করে পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু নিয়মিত জীবনবিমা এবং স্বাস্থ্যবিমার জন্য টাকা পরিশোধ করলেও তারা এর সুবিধা সম্পর্কে জানেন না। এমনকি কোন পদ্ধতিতে এই সুবিধা ভোগ করতে হয়, তার সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের কোনো ধারণা নেই।  

অসুস্থ হওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে খবরের কাগজ। কিন্তু তাদের বেশির ভাগই এই বিমা সম্পর্কে প্রথমবার শুনেছেন। আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে কজন বিমার সুবিধা নিয়েছেন, তারা জানিয়েছেন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। 

কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গত বছরের ১ নভেম্বর হঠাৎ বুকে ব্যথা নিয়ে সিলেট শহরের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি হই। তারপর ৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে প্রয়োজনীয় তথ্যাসহ স্বাস্থ্যবিমার জন্য আবেদন করি। তখন জানানো হয়, শিগগিরই টাকা পেয়ে যাব। কিন্তু দুই সপ্তাহ যাওয়ার পরও যখন টাকা পাইনি তখন আবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলি। তখন আমাকে ধৈর্য ধরতে বলা হয়। তিন মাস হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আমি কোনো টাকা পাইনি।’  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গত কয়েক মাস আগে সাইনুসাইটিসজনিত চিকিৎসার জন্য আমার প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু এর এক মাস আগে আমার এক বন্ধু আবেদন করেও টাকা পায়নি। তাই সব কাগজপত্র সংগ্রহ করার পরও আমি আর আবেদন করিনি।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আছেন, যারা স্বাস্থ্যবিমার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত অবগত নন। অসুস্থ হওয়ার পর জানেন না যে তাদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আর এই অধিকারের জন্য তাদের প্রতি সেমিস্টারে ২৫০ টাকা করে গুনতে হয়। এ রকমই কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হয় খবরের কাগজের প্রতিবেদকের।
গত নভেম্বর মাসে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ের হাড়ে ফাটল দেখা দেয় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আসিফের। চিকিৎসা করাতে তার প্রায় ছয় হাজার টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু স্বাস্থ্যবিমার ব্যাপারে না জানায় এই সুবিধার জন্য তিনি আবেদন করতে পারেননি। 
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. এছাক মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘যদি কোনো শিক্ষার্থী সেবা পেতে ভোগান্তির সম্মুখীন হন, আমাদের জানালে আমরা সর্বাত্মক সহোযোগিতা করব। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিমা সম্পর্কে সচেতন করতে আমরা খুব শিগগির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’ 

এদিকে বিমার সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হলে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিমা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে আমরা শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব। যদি কোনো শিক্ষার্থী এই সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হন, সে ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’

ঢাবি সাংবাদিক সমিতির ইফতার, এক ছাদের নিচে সব ছাত্রসংগঠন

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৫, ১১:৩৬ এএম
আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৫, ১১:৩৬ এএম
ঢাবি সাংবাদিক সমিতির ইফতার, এক ছাদের নিচে সব ছাত্রসংগঠন
ছবি : খবরের কাগজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল প্রায় সকল ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখার নেতৃবৃন্দ এক ছাদের নিচে সমবেত হন।  

শুক্রবার (১৪ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাংবাদিক সমিতির বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

এবারের ইফতার মাহফিলে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও ঢাবি শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদসহ নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। নতুন ছাত্রসংগঠন হিসেবে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার, সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম, ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আব্দুলা কাদের ও সদস্য সচিব মাহির আলমসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।  

উক্ত ইফতার মাহফিলে অংশ নেয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের দুই গ্রুপ, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, পাহাড়ি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিশ, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংসদ ও বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ।  

ঢাবি সাংবাদিক সমিতির এই আয়োজন ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সম্প্রীতি ও সংহতির নতুন বার্তা নিয়ে এসেছে। ভিন্ন মতাদর্শের সংগঠনগুলো একত্রিত হয়ে একই টেবিলে বসে আলোচনা ও ইফতার করায় ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরিফ জাওয়াদ/জোবাইদা/

আছিয়ার মৃত্যুতে ঢাবিতে বিক্ষোভ, গায়েবানা জানাজা শেষে কফিন মিছিল

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৫, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৫, ১২:৫১ পিএম
আছিয়ার মৃত্যুতে ঢাবিতে বিক্ষোভ, গায়েবানা জানাজা শেষে কফিন মিছিল
ছবি : খবরের কাগজ

মাগুরার নোমানী ময়দানে ধর্ষণের শিকার হয়ে আট বছরের শিশু আছিয়ার মৃত্যুর বিক্ষোভ মিছিল ও গায়েবানা জানাজা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ধর্ষণবিরোধী মঞ্চ। পরে জানাজা শেষে কফিন মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি চিরন্তনে ওই গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজা শেষে কফিন মিছিল নিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। গায়েবানা জানাজায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাবি শাখার সদস্য সচিব জাহিদ আহসান, ঢাবি শিবির নেতা মাজহারুল ইসলামসহ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

গায়েবানা জানাজায় উপস্থিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, 'আছিয়ার মৃত্যু আমাদের নাড়িয়ে দিয়ে গেছে। দ্রুত সময়ে এই ভয়াবহ হত্যার বিচার হবে, ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে। শিশুটির জন্য পুরো জাতি দোয়া করছেন। তার মৃত্যু এই ক্রান্তিকালে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। এটা এই মুহূর্তে প্রয়োজন। আর কোনো শিশু যেন হারিয়ে না যায়। আমাদের বিচারব্যবস্থা আইনব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত হোক। আছিয়ার মতো আর কোনো মেয়ের সঙ্গে যেন এমন না ঘটে।' 

জানাজা শেষে একটি প্রতীকী কফিন মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থী ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আশরেফা খাতুন বলেন, ‘আছিয়া যে জীবনযুদ্ধ করতে করতে মারা গেছে, সেই লড়াইয়ে সে জিততে পারেনি। কিন্তু সেই লড়াইয়ের ভার আজকে আমাদের ওপর দিয়ে গেছে। আমরা যে পাঁচ দফা দাবি দিয়েছি তার প্রথম দফায় ছিল ধর্ষকদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের আইনের প্রতি ততক্ষণ শ্রদ্ধা থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত ওই আইন বিচার করতে পারবে। যদি বিচার করতে না পারে, তা হলে ওই আইনের খাতা পুড়িয়ে ফেলুন। আমরা প্রকাশ্যে ধর্ষকদের ফাঁসি দেখতে চাই।’

সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা বলেন, ‘আমরা যখন নারী নিপীড়নের বিচার চাইতে রাজপথে নামি, তখন আমাদেরকে ট্যাগিংয়ের শিকার হতে হয়। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে আর কোনো আছিয়াকে ধর্ষিত হতে হবে না। আমরা আমাদের ধর্ষণবিরোধী মঞ্চ থেকে দাবি জানিয়েছি যে ধর্ষণবিরোধী একটা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।’

এদিন সন্ধ্যা ৭টায় দেশব্যাপী লাগাতার ধর্ষণের বিচার, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অপসারণ, আছিয়া হত্যার বিচারসহ একাধিক দাবিতে মশাল মিছিল করেছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর একটি জোট।  বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে এই মশাল মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি নীলক্ষেত হয়ে হলপাড়া ঘুরে আবার টিএসসিতে এসে শেষ হয়। 

এ সময় তারা ‘লড়াই-লড়াই, লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘আছিয়ার হত্যাকারীদের, বিচার করো করতে হবে’, ‘খুন-ধর্ষণ হয়নি শেষ, রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’, ‘আছিয়া মরল কেন- রাষ্ট্র জবাব চাই’, ‘ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার- অপসারণ করতে হবে’, ‘তুমি কে, আমি কে, আছিয়া-আছিয়া’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

আরিফ জাওয়াদ/জোবাইদা/

জবিতে আছিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৫, ১০:০৮ পিএম
জবিতে আছিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরায় ধর্ষণ ও নিপীড়নের শিকার শিশু আছিয়ার মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে এই গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

গায়েবানা জানাজার সময় উপস্থিত জবি শাখা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি আসাদুল ইসলাম বলেন, আমরা এই ধরনের ঘটনা আর দেখতে চাই না। এ ধরনের গায়েবানা জানাজা আর পড়তে চাই না। ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য শেষ করতে হবে। এছাড়া ধর্ষক প্রমাণিত হলে একমাত্র এবং সর্বনিম্ন শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, আছিয়ার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় সমাজের নৈতিকতার চূড়ান্ত অবক্ষয় ঘটেছে। আর যাতে এরকম ঘটনা না ঘটে সেজন্য সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ধর্ষণের বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।

গত ৬ মার্চ মাগুরা শহরে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় ৮ বছর বয়সি শিশু আছিয়া। পরদিন তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন দুপুরেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রাতেই পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

এরপর গত শুক্রবার রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সংকটাপন্ন শিশুটিকে গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন রবিবার শিশুটিকে সিএমএইচে পেডিয়াট্রিক আইসিইউতে নেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মুজাহিদ বিল্লাহ/মাহফুজ

জুলাই অভ্যুত্থানে ঢাবিতে হামলা পূর্বপরিকল্পিত, ১২২ শিক্ষার্থী শনাক্ত

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৫, ০৯:১৮ পিএম
আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৫, ০৯:২২ পিএম
জুলাই অভ্যুত্থানে ঢাবিতে হামলা পূর্বপরিকল্পিত, ১২২ শিক্ষার্থী শনাক্ত
ঢাবির সত্যানুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক সুপণ প্রতিবেদনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের কাছে হস্তান্তর করেন। ছবি: খবরের কাগজ

গত বছরের ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সহিংসতার ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে সন্ধান পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সত্যানুসন্ধান কমিটি। বিশেষ করে ১৫ জুলাইয়ের হামলা সুপরিকল্পিত বলে সন্ধান পেয়েছে তারা। এ হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২২ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বহিরাগতদেরও শনাক্ত করেছে ওই কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) উপাচার্যের অফিস-সংলগ্ন সভাকক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারা গঠিত সত্যানুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক সুপণ প্রতিবেদনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের কাছে হস্তান্তর করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে হামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এক পক্ষ আরেক পক্ষের আহ্বানে গিয়েছে দেখলে মনে হবে সাধারণ সংঘর্ষ, কিন্তু এটি ছিল পুরোই পরিকল্পিত। এক দিনের প্ল্যানে এটি হয়নি। মারামারি লেগে গিয়েছে, বাইরে থেকে কর্মী আনলাম, বিষয়টি এমন ঘটেনি। একই সময়ে সাদা ক্যাপ পরিহিত দুটি টিমের মল চত্বরে এবং ঢাকা মেডিকেলের ইমারজেন্সি গেটে অবস্থান ছিল। তারপর সরকারি বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীদের কিছু বাসও ছিল। এই বিষয়গুলো ইঙ্গিত দেয়, এটি এক দিনের পরিকল্পনা না।’

ছাত্রীদের ওপর হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং আহতদের ওপর হামলা- এই তিন ক্যাটাগরিতে অপরাধ নিরূপণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২২ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক আরও বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি জড়িত হওয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এবং প্রমাণ রয়েছে, তাদের নাম প্রতিবেদনে এসেছে। এর বাইরে বহিরাগতরাও রয়েছে। এখন জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা নেবে। সেই ব্যবস্থা অ্যাকাডেমিক বা হলকেন্দ্রিক ব্যবস্থা হতে পারে। তবে আমরা জড়িতদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুপারিশ করেছি। ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি অপরাধের শাস্তি দিতে পারে না, শুধু সুপারিশ করতে পারে। এ ছাড়া বহিরাগত যাদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জানানো হবে। তারা বিষয়টি দেখবেন। তারপরও যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তখন পুলিশি মামলাও হতে হতে পারে বলে জানান তথ্যানুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক।

প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কেউ জড়িত আছে কি না, তার প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। তবে থাকলে থাকতেও পারে। প্রতিবেদনের ছবি পেয়েছি, ১৫ জুলাই মুজিব হলের পকেট গেট দিয়ে বহিরাগত প্রবেশ করেছে। হলের কর্মচারীরা প্রভোস্টকে ফোন করেছেন, প্রভোস্ট সেখানে যাননি। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চলাকালে প্রায় ৭০ জন শিক্ষককে পাওয়া গেছে যারা সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ছাত্রদল-শিবির-রাজাকার ট্যাগিং করা হয়েছিল, যা আন্দোলনে প্রভাব ফেলেছে। কেননা শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীরা প্রভাবিত হবে, সেটা স্বাভাবিক। এ বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলে অনেকে স্বীকার করেছেন এবং সেটার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমরা সেটা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি।’

একপক্ষীয় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে কাজী মাহফুজুল হক সুপণ বলেন, ‘আমরা যখন যার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি তাই নিয়ে কাজ করেছি। আমরা তদন্ত করার সময় বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ খুঁজতে গেলে সেখানে কোনো হার্ডডিস্ক পাইনি। সব হার্ডডিস্ক সরিয়ে ফেলা হয়। আমরা সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছে একটা ইমেইল ও নম্বর পাঠাই। শিক্ষার্থীরা সেখানে জুলাই হামলার নানা ছবি, ভিডিও পাঠান। এ ছাড়া আমরা ন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল পত্র-পত্রিকার সংবাদগুলো দেখেছি, সেসবের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে এবং পরে ভিডিওর প্রতিটি লোকেশনে গিয়েছি। সবদিক বিবেচনায় আনা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘তথ্যানুসন্ধান কমিটি ২০২৪ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে কাজ শুরু করে। সীমিত রিসোর্স নিয়ে কয়েক হাজার আক্রমণকারীকে চিহ্নিত করা দুঃসাধ্য। এ কাজটি করতে পারে রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সত্যানুসন্ধান কমিটির অসমাপ্ত কাজ রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে সত্যানুসন্ধান কমিটি আশা প্রকাশ করছে।’

এর আগে প্রতিবেদন গ্রহণ করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘রিপোর্টটি পাবলিক ডকুমেন্টস না। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিলগালা করা এ রিপোর্টটি সিন্ডিকেটে উন্মোচন করা হবে এবং সেখানেই এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আলোচনার জন্য একাধিক সভা লাগলেও লাগতে পারে।’ পরবর্তী সিন্ডিকেট ট্রাইবুনাল গঠনসহ প্রয়োজন সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেবে বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য। 

প্রতিবেদনটি হস্তান্তরের সময় অন্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ এবং সত্যানুসন্ধান কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

আরিফ জাওয়াদ/মাহফুজ

রমজানের আলোয় উদ্ভাসিত নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৫, ০৩:০২ পিএম
রমজানের আলোয় উদ্ভাসিত নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা
ছবি: কাউসার আহমেদ

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র মাহে রমজান। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ মাস নিয়ে আসে বিশেষ আমেজ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসেও রমজান মাসের আগমনে শিক্ষার্থীদের মাঝে এসেছে ইতিবাচক বেশ কিছু পরিবর্তন। ধর্মীয় চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ব্যস্ত রেখেছেন নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও ইবাদতে।

শনিবার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার পরপরই নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের মাঝে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ছড়িয়ে পড়ে। ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয় এক অন্য রকম পরিবেশ। সাধারণত রাতের বেলা যেখানে আড্ডা, হইহুল্লোড় বা নানাবিধ সাংস্কৃতিক কার্যক্রম দেখা যায়, সেখানে এখন অধিকাংশ শিক্ষার্থী বেশি সময় কাটাচ্ছেন ইবাদত-বন্দেগিতে।

রমজানের শুরু থেকেই নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মসজিদে শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রথম তারাবির নামাজ থেকেই মসজিদের প্রতিটি কাতার পূর্ণ হয়ে যায়। নামাজের পাশাপাশি কোরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন অনেকে।
রমজানে ক্যাম্পাসের চেনা দৃশ্যে পরিবর্তন এসেছে। সাধারণ সময়ের মতো সকালবেলা টং দোকানগুলোতে নাশতার আয়োজন বা শিক্ষার্থীদের আড্ডার দৃশ্য নেই। এর বদলে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ইফতার সামগ্রীর পসরা বসে। শান্তি নিকেতন, পকেট গেট ও আশপাশের দোকানে পাওয়া যায় মুড়ি, ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি ও শরবতসহ নানা খাবার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনগুলোর কর্মচারীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন সাহরি প্রস্তুতিতে। এক ক্যান্টিনকর্মী জানান, ‘সাহরির সময় শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে খাবার প্রস্তুত করা হয়। শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই সব আয়োজন করা হয়।’
রমজানের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সময়েও পরিবর্তন এসেছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস চলায় শিক্ষক ও কর্মচারীরা স্বস্তিতে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে পারছেন।

শান্তি নিকেতনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় আড্ডা ও কোলাহলের চিত্রও বদলেছে। শিক্ষার্থীদের অনেকেই বেশি সময় দিচ্ছেন নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও ক্লাসে। সন্ধ্যা নামলে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, ময়না দ্বীপ ও হলের আঙিনায় শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে বসে ইফতার করেন। অনেক জায়গায় গণ-ইফতারের আয়োজন করা হয়, যেখানে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শফিউল আলম হিমেল বলেন, ‘রমজানে ক্যাম্পাসের পরিবেশ পুরোপুরি বদলে যায়। সবাই নামাজ ও ইবাদতের দিকে মনোযোগী হয়। বন্ধুরা মিলে একসঙ্গে ইফতার করাটা অন্যরকম অনুভূতি দেয়।’

আরেক শিক্ষার্থী রেজুয়ানা সুলতানা অনামিকা বলেন, ‘এই সময় আমাদের জন্য খুবই বিশেষ হিসেবে বিবেচিত। ক্লাস, পড়াশোনার পাশাপাশি রমজানের আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করছি। ক্যাম্পাসেও ইবাদতের সুন্দর পরিবেশ আছে, যা আমাদের উৎসাহিত করে।’
রমজানের সংযমের শিক্ষা নিয়ে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে জীবন পরিচালনার প্রত্যয়ে শিক্ষার্থীরা ইবাদতের পরিবেশ বজায় রাখছেন। সবার একটাই প্রার্থনা—আল্লাহ যেন এই মাসের প্রতিটি সওয়াব ও বরকত দান করেন।

/রিয়াজ