দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) তার ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখা এ প্রতিষ্ঠানটি দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং টেকসই উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।
সকাল ৮টায় সব হল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রশাসন ভবনের সামনে সমবেত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবদুল লতিফ এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এর পর সকাল সাড়ে ৯টায় বৃক্ষরোপণ ও রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, পবিপ্রবি শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং টেকসই উন্নয়নে নিরলস কাজ করছে। অটোমেশন প্রক্রিয়া, উচ্চশিক্ষার পরিসর বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই।
বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, হাঁড়িভাঙা, হাসমুরগি দৌড় ও রশি টানাটানির মতো মজার খেলার আয়োজন করা হয়। বিকেল ৩টায় টিএসসির কনফারেন্স হলে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সমাপনী হিসেবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রশাসন ভবন, শিক্ষার্থী হল, একাডেমিক ভবনসহ পুরো ক্যাম্পাস আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। ক্যাম্পাসের প্রধান প্রবেশপথে তোরণ নির্মাণ, রোড ডিভাইডার ও আইল্যান্ডসমূহে সাজসজ্জা করা হয়।
২০০১ সালে জাতীয় সংসদে আইন পাসের পর ২০০২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পবিপ্রবি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে ৮টি অনুষদে স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে প্রায় ৪ হাজার ২৯৬ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪৭ জন শিক্ষক, ২২০ জন কর্মকর্তা এবং ৪৮৯ জন কর্মচারী রয়েছেন।
অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৪৫০ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর আওতায় ১০ তলা শেখ হাসিনা হল, শেখ রাসেল হল, একাডেমিক ভবন, মিনি স্টেডিয়াম, আধুনিক ব্যায়ামাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণাধীন। গবেষণার ক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয় এ পর্যন্ত ৮০১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। সমুদ্রসম্পদ গবেষণায় কুয়াকাটায় মেরিন ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও গবেষণা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছি। শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে জোর দিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষই আমাদের মূল লক্ষ্য।'
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে উচ্চশিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ায় পবিপ্রবি এখন এক গর্বের নাম। ২৩ বছরের এই যাত্রা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলেই সবার প্রত্যাশা।
হাসিবুর রহমান/জোবাইদা/