জালিয়াতির অভিযোগে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলামের যৌথভাবে প্রকাশিত সাতটি গবেষণা আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা এলসভিয়া তার high impact factor-এর একটি জার্নাল Science of the Total Environment থেকে প্রত্যাহার করেছে।
এলসেভিয়ারের জার্নালের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ভলিউম ৮৮৯-এর "Managing the invisible threat of microplastics in marine ecosystems: Lessons from coast of the Bay of Bengal" গবেষণাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
আর্টিকেলটির ১২ জন অথরের প্রথম চারজনই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের, যার মধ্যে অধ্যাপক আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলামও আছেন।
ওই জার্নালটির বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশিত এ রকম সাতটি প্রবন্ধ প্রত্যাহার করা হয়েছে, যার সবগুলোতেই এই অধ্যাপকসহ বুয়েট, রুয়েট, নোবিপ্রবি, হাবিপ্রবি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে।
এলসভিয়ার আর্টিকেলগুলো প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, আর্টিকেলগুলো প্রকাশনার পর Elsevier- (Research Integrity & Publishing Ethics) দল কর্তৃক পরিচালিত একটি তদন্তে দেখা যায় যে, গবেষণা নিবন্ধের জন্য গবেষকদের নিকট থেকে জমা দেওয়া রিভিউয়ারদের নাম ছিল ভুয়া ও জাল। পরিচিত একজন বিজ্ঞানীর নাম ব্যবহার করে তার অজ্ঞাতসারে ভুয়া রিভিউ করে পেপারগুলো জমা দেওয়া হয়।
এই ভুয়া রিভিউয়ারদের নাম এবং ভুয়া যোগাযোগের তথ্য প্রধান লেখক (Corresponding Author) ব্রাজিলের গুইলহের্মে মালাফাইয়া নিবন্ধ জমা দেওয়ার সময় প্রদান করেছিলেন। এই নৈতিক লঙ্ঘন সম্পাদনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতাকে ব্যাহত করেছে। তাই জার্নালের প্রধান সম্পাদক নিবন্ধগুলোর বৈধতা ও গবেষণার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আস্থা হারিয়েছেন এবং এগুলো প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জানা যায়, এই পেপারগুলোর লেখকদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশ, ভারত ও ব্রাজিল। এ ছাড়াও সৌদি আরব, ব্রুনেই দারুসসালাম ও আর্জেন্টিনারও দুই-একজন করে রয়েছেন। পেপারগুলোর প্রকাশের সময় ফেব্রুয়ারি-নভেম্বর ২০২৩, ডিসেম্বর ২০২৪ এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
এর আগেও ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুলের বিরুদ্ধে গবেষণা জালিয়াত নিয়ে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করে। তবে সেই সময় তিনি তা অস্বীকার করেন।
গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক শিমুল মাহমুদ বলেন, 'বিষয়টি আমি মাত্র শুনলাম। পুরো বিষয়টি ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে তার পর এ বিষয়ে কথা বলব।'
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, 'এইটি এডিটর ও করেসপন্ডেন্টের মধ্যে ইস্যু। এখানে আমাদের বাকি অথরের ভুল নেই। আমরা শুধু রিভিউ করেছি।'
এ বিষয়ে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, 'বিষয়টি সম্পর্কে তো আমি জানি না। বিস্তারিত জেনে তার পর বলতে পারব।'
আজম/জোবাইদা/