শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) হলগুলোতে র্যাগিয়ের অভিযোগের খবরে গভীর রাতে অভিযান চালিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল লতিফ।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার সময় র্যাগিং চলছে ফোনে এমন খবর পেয়ে উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল লতিফ ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাশার এ অভিযান চালান।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে অভিযান করে র্যাগিংরত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের হাতেনাতে ধরেন। তারা নতুন ভর্তি হওয়া ২০২৩- ২৪ সেশনের শিক্ষার্থীদের মিটিংয়ের নামে র্যাগিংয়ে জড়িত ছিল।
তবে এই অভিযানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
জানা যায়, র্যাগিংয়ের খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, প্রভোস্ট এবং ছাত্র-পরামর্শকদের ফোন দেন। কিন্তু তাদের কাউকে না পেয়ে উপাচার্যকে ফোন দেয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষকে নিয়ে অভিযুক্ত হলগুলোতে অভিযানে যান।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শেকৃবি শাখার আহ্বায়ক আসাদুল্লাহ বলেন, ‘জুনিয়ররা নির্দিষ্ট দলের রাজনৈতিক প্রোগ্রামে না গেলে আমাদের কাছে র্যাগিং এবং সিট বাতিলের হুমকির অভিযোগ আসছে। ২৩ ব্যাচের কিছু শিক্ষার্থী এসব র্যাগিংয়ে যুক্ত। গতকালও রাত চারটা পর্যন্ত এধরনের র্যাগিং মিটিং চলেছে। এজন্য আজকের ঘটনা জানতে পেরে প্রক্টর, প্রভোস্ট এবং ছাত্র-পরামর্শকদের ফোন দিই, পরে তাদের না পেয়ে উপাচার্যকে ফোন দিই।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাকে ফোন করে র্যাগিংয়ের অভিযোগ জানায়। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি অপেক্ষা না করে ট্রেজারারকে জানিয়ে দ্রুত বের হয়ে আসি। নজরুল হলে এসে দেখি, ২৩ ও ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা রাত ২টায় মিটিং করছে। আমি তাদের রুমে পাঠিয়ে দিই। এরপর নবাব সিরাজ উদ-দৌলা হলে গিয়ে দেখি সেখানে কেউ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটি রয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র্যাগিং কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এর বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ র্যাগিংমুক্ত রাখতে চাই।’
আরাফাত অভি/অমিয়/