ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ হলের নাম পরিবর্তন করে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থানকারী ‘শাহ আজিজুর রহমানের’ নামে নামকরণ করা হয়েছে। ফলে এ নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে যুদ্ধাপরাধীর নামে নামকরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদ।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সংগঠনটির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত বুধবার রাতে ইবি সংসদের দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন এক সংবাদ বিবৃতির মাধ্যমে এ প্রতিবাদ জানান। এ সময় প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ‘মাওলানা ভাসানী’র নামে নামকরণের আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত বুধবার বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চারটি আবাসিক হল ও একটি অ্যাকাডেমিক ভবনের নাম পরিবর্তন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করে শাহ আজিজুর রহমানের নামে নামকরণ করা হয়েছে।
প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদ। একই সঙ্গে দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনেরও আহ্বান জানানো হয়।
এক যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে ইবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহমুদুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নূর আলম বলেন, ‘শাহ আজিজুর রহমানের মতো একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর নামে আবাসিক হলের নামকরণ জাতির জন্য কলঙ্কজনক সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাও পরিপন্থি। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাতে লুট হয়ে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বৈষম্যহীন দেশ গড়ার শপথই ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শাহ আজিজুর রহমানের নামে আবাসিক হলের নামকরণের মধ্য দিয়ে ইবি প্রশাসন মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বলে আমরা মনে করি।’
তারা আরও বলেন, “শাহ আজিজুর রহমান ছিলেন একাত্তরে পাকিস্তান ন্যাশনাল লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া তিনি ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আবদুল মোতালেব মালিকের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্য হন এবং রাজস্বমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধের সময় পাকিস্তান কর্তৃক জাতিসংঘে যে প্রতিনিধিদল পাঠানো হয় তার অন্যতম সদস্য ছিলেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে, তা তিনি অস্বীকার করেন। শাহ আজিজুর রহমান জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীকে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পাকিস্তানি সৈন্যরা পূর্ব পাকিস্তানে হামলা চালিয়ে অন্যায় কিছু করেনি। স্বাধীনতা সংগ্রামের নামে সেখানে যা চলছে, তা হলো ভারতের মদদপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের উচিত সেটাকে পাকিস্তানের ঘরোয়া ব্যাপার হিসেবে গ্রহণ করা।’ এ ছাড়া ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি।”