খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের ১৮ ঘণ্টা পার হলেও তারা তাদের অনশনে অনড়।
সোমবার (২১ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৩২ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে অংশ নেন। এর মধ্যে দুজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। আরও একজন মায়ের অসুস্থতাজনিত কারণে বাড়িতে ফিরে গেছেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার বেলা ১১টার পরও ২৯ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দুর্বল হয়ে পড়ছেন। দাবি পূরণে অন্তর্বর্তী সরকারের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তারা। একাধিক মেডিকেল টিম অনশনস্থলে রয়েছে।
জানা গেছে, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার বেলা ২টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা দুর্বার বাংলা পাদদেশের সামনের সড়কে জড়ো হয়। এর পর বিকেল ৪টায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের বারান্দায় উপস্থিত হয়। সেখানে ৩২ জন আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। বাকি শিক্ষার্থীরা অনশনরত শিক্ষার্থীদের চারদিকে অবস্থান নিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পক্ষ আবারও শিক্ষার্থীদের আমরণ কর্মসূচি থেকে সরে এসে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। এর আগে সোমবার বেলা আড়াইটায় ছাত্রকল্যাণ পরিচালক, সহকারী পরিচালক, ডেপুটি পরিচালকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পূর্বনির্ধারিত অনশনস্থল স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের বারান্দায় অবস্থান নিলে টানা আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েও শিক্ষার্থীদের নমনীয় করতে না পেরে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালকসহ শিক্ষকরা সেখান থেকে চলে যান। অনশনরত শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে অনড় থাকেন।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, এক দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে অনশন থেকে তারা সরবেন না। প্রয়োজন হলে এখানে তাদের মৃত্যু হবে।
গত ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এর পর থেকেই ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
মাকসুদ/মেহেদী/