খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেন, ‘গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে হামলার সময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনেক শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছেন। সেই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।’
বুধবার (২৩ এপ্রিল) কুয়েটে প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ ফারুক হোসেন। এ সময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. শাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় তারা জানান, শিক্ষার উপদেষ্টা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললেও শিক্ষক সমিতির সদস্যদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি, এতে তারা ব্যথিত হয়েছেন।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ ফারুক হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাজে সহায়তা করে।
প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ভূত ঘটনায় বিবৃতি দেওয়া হলেও তাতে শিক্ষকদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা নানারকম বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন করে এখানে কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন হচ্ছে এটা নিয়ে আমরা শংকিত।’
অন্যদিকে ভিসির এক দফা পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এখনও অনশনে অনড় রয়েছেন। ৪৬ ঘণ্টা ধরে না খেয়ে থাকা ৩২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তাদের মধ্যে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিনিধি দল ক্যাম্পাসে অবস্থান করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলছেন।
এদিকে গত ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারিতে রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়, যার ফলে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন।
মাকসুদ/তাওফিক/