প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) এখন পর্যন্ত পাঁচজন উপাচার্য এসেছেন। সবাই কম-বেশি আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হয়েছে দুজন উপাচার্যকে। চলমান আন্দোলনের কারণে বর্তমান উপাচার্যকেও অপসারণে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সুপারিশ করেছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চলতি সপ্তাহের মধ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনকে অপসারণের ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
সূত্র জানিয়েছে, উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের একক সিদ্ধান্তে মো. মনিরুল ইসলামকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে রাখা, পিএ টু ভিসি এবং পিএ টু রেজিস্ট্রার পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে ইউজিসি। বিধিমালার বাইরে গিয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার কারণে উপাচার্যকে অপসারণের মতামত দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে ইউজিসি। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি সপ্তাহের মধ্যে অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনকে অপসারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ওই সূত্রটি জানিয়েছে।
এর আগে ইউজিসি থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। গত ১০ এপ্রিল তিনি ব্যাখ্যা দেন। তবে উপাচার্যের জবাব সন্তোষজনক নয় এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বলে গত ৬ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মতামত জমা দেওয়া হয়।
গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক শুচিতা শরমিন। গত ২৬ নভেম্বর আবু হেনা মোস্তফা কামাল খানকে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দিলে শিক্ষকদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। ওই দিন একটি অংশ তাকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দুই শিক্ষককে সিন্ডিকেট থেকে বাদ দেন। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে উপাচার্যের বাসভবনে তালা দেন। এরপর উপাচার্যের বাসভবনের ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। ২০ দিন ধরে শিক্ষার্থীরা প্রথমে ২২ দফা, পরে গত ৭ দিন ধরে ভিসি অপসারণের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা বলেন, শুচিতা শরমিন উপাচার্য নিয়োগ পাওয়ার শুরু থেকেই শিক্ষকদের একটি পক্ষ তার বিপক্ষে ছিল। এ ছাড়া তিনি যোগদানের পর বিতর্কিত কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শিক্ষকদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে চলে যায়। এ ছাড়া ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা ও সাধারণ ডায়েরি করা এবং তা প্রত্যাহার না করায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।