রাজধানীর শাহবাগে শনিবার (১০ মে) আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাসহ তিন দাবিতে অবরোধ চলাকালে জাতীয় সংগীত গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আজ সমস্বরে জাতীয় সংগীত গেয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১২ মে) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ছাত্র ফেডারেশনসহ অন্যান্য বাম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের আছিয়া খাতুন রামিসা বলেন, ‘কারা জাতীয় সঙ্গীত গাইতে বাধা দিয়েছিল সেটি বলতে পারছি না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বলে, এটি গাওয়া যাবে না, নিঃসন্দেহে কাজটি খারাপ হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের জাতীয় সঙ্গীত, আমার সোনার বাংলা...। এটি আমাদের আইডেন্টি। এটি গাইতে হবে এবং সেটি যেকোনো জায়গায় এটি গাওয়া যাবে।’
যারা জাতীয় সংগীত গাইতে বাধা দিয়েছিলেন তাদের সাবধান হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ইয়াছমিন মিতু বলেন, ‘জাতীয় সঙ্গীত অবমাননার জন্য আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। যারা ৭১-এর বিরোধী তাদের সঙ্গে কোনো আপস নেই। যারা একাত্তরের বিরোধিতা করেছেন তারা সাবধান হয়ে যান। একই সঙ্গে যারা গোলাম আযমের বাংলাদেশ, বলে স্লোগান দিয়েছেন সেটি কখনোই বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে না। তাই তাদের আবারও বলব সাবধান হয়ে যান, আপনারা।’
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ গড়তে বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি প্রয়োজন। ৭১ ও ২৪ কে ধারণ করে সেই রাজনীতি আমরা তৈরি করতে চাই। আমরা মনে করি, অনেকের অনেক জায়গায় দ্বিমত থাকতেই পারে, তবে সেটি অবশ্যই বলতে হবে কিন্তু বিষয়টা এমন না যেই সঙ্গীত আমাদের জাতীয় সঙ্গীত সেটিকে অবমাননা করা হবে। আমরা এখন পর্যন্ত আইনিব্যবস্থায় যাইনি, বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে, প্রাথমিকভাবে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেছি।’
এর আগে সন্ধ্যা ৭ টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা ‘একাত্তরের শহিদরা, লও লও সালাম’, ‘চব্বিশের শহিদরা, লও লও সালাম’, ‘একাত্তরের বাংলায়, রাজাকারের ঠাই নাই’, ‘তুমি কে আমি কে, বাংলাদেশি বাংলাদেশি’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘আমার সোনার বাংলায়, রাজাকারের ঠাঁই নাই’, ‘পাকিস্তানের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধানসহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।
আরিফ জাওয়াদ/সুমন/