খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) সহিংসতা ও শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এদিকে কুয়েটে গত ৪ মে থেকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো ক্লাসে ফেরেননি শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার (১৩ মে) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ করেন। শোকজ নোটিশকে উদ্দেশপ্রণোদিত দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।সোমবার (১২ মে) রাতেও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ ইলিয়াস আখতার স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে। সেখানে নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ছাত্র শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার জবাব ১৫ মে বিকেল ৫টার মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।
বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর নোটিশে একই ধরনের অপরাধ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক ভিসির কাছে ৫ দফা দাবি উত্থাপন ও তদন্ত ছাড়াই মেনে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ, প্রশাসনিক ভবনে ঢুকে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া, হ্যান্ডমাইক হাতে মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, অ্যাকাডেমিক ভবনে তালা মারার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন, তদন্ত কমিটি সাক্ষাৎকারে ডাকার পরও উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে ছাত্র কল্যাণ পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ ইলিয়াস আখতার বলেন, শেষ পর্যন্ত একজনও শাস্তি না-ও পেতে পারেন। তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে কারও বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, যেহেতু শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দিতে শৃঙ্খলা কমিটি পদক্ষেপ নিয়েছে, সে কারণে শিগগিরই অচলাবস্থার নিরসন হতে পারে।
এদিকে কুয়েটে ৪ মে থেকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো ক্লাসে যাননি শিক্ষকরা। শিক্ষক নেতারা জানান, বহিরাগত সন্ত্রাসীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। এ ছাড়া কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করে। এসব ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে সংঘর্ষের পর থেকে ক্লাস-পরীক্ষাসহ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।