মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে খালাস দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বিক্ষোভ করেছেন বেশ কয়েকটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেলে মধুর ক্যানটিন থেকে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভটি কলা ভবন-কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার-চারুকলা-শাহবাগ থানা হয়ে রাজু ভাস্কর্যে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
এতে অংশ নিয়ে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার এখন পর্যন্ত হয়নি কিন্তু এই সরকার ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের খালাস দেওয়া হচ্ছে। একই প্রক্রিয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের পর আইন উপদেষ্টা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বললেন, ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এই আদালতকে তল্পিবাহক বানাবেন না। এই দেশে মুক্তিযুদ্ধের যত সপক্ষের শক্তি রয়েছে, জানতে চান কোন প্রক্রিয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হলো। ৫ আগস্ট পরবর্তী স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার যে আকাঙ্ক্ষা সেখানে ন্যাক্কারজনকভাবে এই অন্তর্বর্তী সরকার এই রায়ের মাধ্যমে শেষ পেরেকটুকু ঠুকে দিল। তিন-তিনটি অভিযোগ থাকার পর তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হলো কিন্তু এই আজাহার তৎকালীন রংপুরের আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন।’
২৪ ও ৭১ এর গণহত্যাকারী বিচার ছাড়া কোনো আপস নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের ১০ মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিচার নিশ্চিত করা হয়নি অথচ যুদ্ধপরাধীদের বেকসুর খালাস দেওয়া হচ্ছে। এই সরকার গণহত্যার বিচার করতে চেয়েছেন। যেই ধারায় গণহত্যার বিচার করা হবে সেই একই ধারায় জামায়তে ইসলামের বিচার করাও সম্ভব। জানি না, কোন অজ্ঞাত কারণে বিচার করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছি, আগামীতে আমরা ৭১ ও ২৪ এর গণহত্যাকরীদের বিপক্ষে ঠিক একইভাবে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাবো এবং বিচার ছাড়া তাদের সঙ্গে কোনো আপস করব না।’
এতে অন্যান্যের মধ্যে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নূজিয়া হাসিন রাশা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ইডেন মহিলা কলেজ শাখা সভাপতি সুমাইয়া শাহিনাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আরিফ জাওয়াদ/মাহফুজ