গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে মারণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং গণহত্যায় উদ্বুদ্ধকারী ও সহযোগী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষকদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন ঢাবির বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
রবিবার (১৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জুলাই অভ্যুত্থানে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশদাতা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং গণভবনে গিয়ে স্বৈরাচারের মদদদাতা শিক্ষকদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।
এতে অংশ নিয়ে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিল খুনি শেখ হাসিনা। সেটি বিবিসি তাদের অত্যাধুনিক যন্ত্র দিয়ে নিশ্চিত করেছে, এটি ছিল খুনি হাসিনারই নির্দেশনামা। জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধানকারী দল তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানে খুনি হাসিনার নির্দেশে গণহত্যা চালানো হয়েছে। শেখ হাসিনা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বিভিন্ন অডিও-ভিডিও বার্তায় সাধারণ নেতা-কর্মীদের উসকে দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
অভ্যুত্থানে গণহত্যা উদ্বুদ্ধকারী ঢাবি শিক্ষকদের শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৩ আগস্ট গণভবনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর প্রতি সমর্থন নয়, বরং উৎসাহ দিয়েছে বুদ্ধিজীবী দাবি করা একদল শিক্ষক। আমরা সবাই জানি তারা কারা। অথচ এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন। সেই সঙ্গে ফ্যাসিস্টদের দোসররা যেন দেশে অস্থিতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জুলাই অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই।’
সাম্প্রতিক মবকে ঘিরে বিবৃতি দেওয়া ঢাবির ৭১ শিক্ষক প্রসঙ্গে সাদা দলের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেন, ‘৩টি তালিকা আমাদের হাতে আছে। একটি তালিকায় ৭৮ জন শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা বয়কট করেছে। ৭১ জন শিক্ষকের বিবৃতিতে যারা আছেন বেশিরভাগ বয়কটকৃত। সাধারণ শিক্ষকের নামে নতুন প্ল্যাটফর্ম আনতে চায়, যার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে সার্ভ করতে চায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আহ্বান, তাদের কঠোর হাতে দমন করুন।’
শেখা হাসিনা ও ’২৪-এর অভ্যুত্থানে গণহত্যায় উদ্বুদ্ধকারী ঢাবির শিক্ষকদের বিচারের দাবি জানিয়ে সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, ‘আমাদের আজকের প্রোগ্রামের দুটি এজেন্ডা, খুনি হাসিনার যে রেকর্ড ফাঁস হয়েছে তার বিচার দাবি এবং তার সঙ্গে যারা উৎসাহ দিয়েছে; বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক তৎকালীন সরকারকে ব্ল্যাঙ্ক চেক দিয়েছিল যে আপনারা গুলি চালান। এখন সেই আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা অন্তর্বর্তী সরকারের বিপক্ষে বিবৃতি দিয়েছে। এখন আমার প্রশ্ন হলো, যেই দিন আমাদের সন্তানদের গায়ে হাত তোলা, অত্যাচার করা এবং হত্যা হুকুম করা হয়েছিল, সেই দিন আপনাদের বিবেক কই ছিল? সেই দিন তো আপনারা বিবৃতি দেননি! আমি পরিষ্কারভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব শিক্ষকদের বিচার দাবি করছি। এখানে কোনো লুকোচুরি নেই, তারা সেই সময়ে গণভবনে গিয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে তার প্রমাণ রয়েছে। সেসবের ভিত্তিতে সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানাব তাদের বিচার করার জন্য।’
মানববন্ধনে আরও অংশ নেন সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম সরকার, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন, মার্কেটিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলাম, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শেখ আজহারুল ইসলাম, জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এনামূল হক, চারুকলা সাদা দলের আহ্বায়ক শিল্পী ইসরাফিল রতন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক ড. নুরল আমিন, পি জে হার্টস ইন্টারন্যাশনাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম এ কাওসার, অধ্যাপক শফিউল্লাহ, অধ্যাপক ড. আসাদ চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন ভুইয়া, অধ্যাপক আব্দুস সালাম, অধ্যাপক শাহ শামিম, অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামসহ শতাধিক শিক্ষক।
জাওয়াদ/সালমান/