শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) প্রতিষ্ঠা দিবস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্ক আবারও আলোচনায় এসেছে। সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত প্রতিষ্ঠা দিবস হলেও ২০০৮ সাল থেকে ১৫ জুলাই তারিখে দিনটি পালন হয়ে আসছে। যা অনেকের কাছে বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৩৮ সালের ১১ ডিসেম্বর অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক ‘দি বেঙ্গল অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি সময়ের পরিক্রমায় ১৯৪৭ সালে ‘পূর্বপাকিস্তান অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট’ এবং স্বাধীনতার পর ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট’ নামে পরিচিত হয়।
২০০১ সালের ১৫ জুলাই জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ৪৬ নম্বর আইনের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে আইনের ১(২) ধারা অনুযায়ী, সরকার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আইন কার্যকর করবে বলে উল্লেখ রয়েছে। সেই অনুসারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করে। যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ১১ সেপ্টেম্বর তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে পালন করা হতো। তবে ২০০৮ সাল থেকে ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সেটি পালন হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানান, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় (২৩ জুন ১৯৯৬ - ১৫ জুলাই ২০০১) বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসড়া প্রস্তুত হলেও চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালেরে ১১ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়। শুরু থেকেই ওই তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হতো। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলকে প্রতিষ্ঠার সময় হিসেবে তুলে ধরতে ১৫ জুলাই দিনটিকে প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে চালু করা হয়। দেশে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি গেজেট অনুযায়ী তাদের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করলেও শেকৃবির ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটানো হয়। আমরা বহুবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ১৫ জুলাই প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে দেখে আসছি। কিন্তু পরে জেনেছি, প্রকৃত দিবস ১১ সেপ্টেম্বর। রাজনৈতিক কারণে ইতিহাস বিকৃতি দুঃখজনক। দিবস পালনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ইতিহাস ও আইনই প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, গত বছর দায়িত্ব গ্রহণের পর ১১ সেপ্টেম্বর দিনটিকেই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়েছে। আমরা সরকারি গেজেট ও ইতিহাসের ভিত্তিতে কাজ করছি। আইনের দৃষ্টিতে ১১ সেপ্টেম্বরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস। অতীতে যা হয়েছে, তা ছিল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আইনসংগত নয়।