চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠনতন্ত্র ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অস্পষ্টতা, বৈষম্য এবং প্রশাসনের একপেশে সিদ্ধান্ত ও গুপ্ত সংগঠনের কার্যক্রমের অভিযোগ তুলে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুর দুইটা চাকসু ভবনের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদল সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, চাকসু নির্বাচন কেবল একটি ভোটের আয়োজন নয়, এটি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক সুযোগ। তাই নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ যেখানে কোনো দলীয় প্রভাব, সন্ত্রাস বা পক্ষপাত থাকবে না।
ছাত্রদলের উত্থাপিত মূল অভিযোগ ও দাবি হলো-
১। গঠনতন্ত্রে একপেশে সিদ্ধান্ত:
প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও সর্বসম্মত ভোটের পরেও গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন ধারা ভোটার বা প্রার্থী হতে হলে কেবল নিয়মিত আবাসিক শিক্ষার্থী হতে হবে এবং বয়সসীমা ৩০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। ছাত্রদল এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের পূর্বের মতো যোগ্যতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি।
২। সভাপতির পদাধিকার নিয়ে অস্পষ্টতা:
উপাচার্য বা তার মনোনীত অধ্যাপক সভাপতি হলে তা সাময়িক নাকি স্থায়ী-এ বিষয়ে গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট উল্লেখ নেই। ছাত্রদল প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা সংযোজনের দাবি।
৩। নারী বিদ্বেষের অভিযোগ:
গঠনতন্ত্রে দপ্তর সম্পাদক পদ কেবল পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। ছাত্রদল এ সিদ্ধান্তকে নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক ও ক্ষমতায়নের পরিপন্থি বলে অভিহিত করে তা বাতিলের দাবি।
৪। খাদ্য নিরাপত্তা:
ক্যাম্পাসে খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। ছাত্রদল চায়, চাকসুতে স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
৫। নির্বাচন কমিশন গঠনের রোডম্যাপের অভাব:
গঠনতন্ত্রে নির্বাচন কমিশন গঠন ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে কোনো স্পষ্ট প্রক্রিয়া নেই। ভোটকেন্দ্র নির্ধারণেও অস্পষ্টতা রয়েছে। ছাত্রদল প্রস্তাব করেছে, ভোটকেন্দ্রগুলো অনুষদ পর্যায়ে স্থানান্তর করা হোক।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়ে এ ছাত্রদল নেতা বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে একটি গোষ্ঠীর ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ, হলে মিল পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে তাদের আধিপত্য বিস্তার, মব সৃষ্টি, নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রশাসনের বিমাতাসুলভ আচরণ, গুপ্ত হামলায় প্রশাসনের নিরবতা, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের দোষী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের শাস্তি প্রদানে অনীহা ইত্যাদি বিষয় পরিলক্ষিত হয়েছে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাখা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘প্রশাসন যদি আমাদের দাবি মেনে নেয়, তবে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি মামুনুর রশিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় প্রমুখ।
রিফাত/