চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত এক প্রার্থীর ফেসবুক প্রোফাইলের লাল ফ্রেম দেওয়া একটি স্ক্রিনশট সহ-উপাচার্যের ফেসবুক আইডিতে কাভার ফটো হিসেবে আপলোড হয়। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে এই বিতর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার কেউ প্রার্থীদের ডোপ টেস্টের ফলাফল নিয়েই সংশয় প্রকাশ করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট নাট্যকলা বিভাগে তিনটি পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৫০ প্রার্থী অংশ নেন। তিন ধাপের বাছাই শেষে তিনজনকে চূড়ান্ত করা হয়। ৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে নিয়োগ অনুমোদন পায়। নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ও মাদক পরীক্ষার (ডোপ টেস্ট) রিপোর্ট জমা দিলেই প্রার্থীরা বিভাগে যোগদান করতে পারতেন।
তবে চূড়ান্ত হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজনের ডোপ টেস্টে ফলাফল পজিটিভ আসে। ফলে তাদের নিয়োগ আটকে যায়। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা দাবি করেন, তারা কখনো মাদক গ্রহণ করেননি, পরীক্ষার ফল ভুল এসেছে!
বিতর্কিত স্ক্রিনশটের বিষয়ে জানতে চাইলে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘কীভাবে ছবিটি আমার ফেসবুকে আপলোড হয়েছে, তা আমি জানি না। কারণ ওই সময় আমি একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের কক্ষে ছিলাম। ফোনও আমার হাতে ছিল না।’
তিনি জানান, ডোপ টেস্টে প্রার্থীর ফলাফল পজিটিভ আসার পর তার পক্ষে অনেক শিক্ষার্থী হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান। এসব বার্তায় তারা উল্লেখ করেন, প্রার্থী জুলাই আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইলে ডাউনলোড হয়। সেখান থেকেই সেটি তার ফেসবুকে আপলোড হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। চবির এই সহ-উপাচার্যের দাবি, ‘নিয়োগে প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের কাছে জানতে চাইলে তিনি রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এ ছাড়া তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।