চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে ক্যাম্পাসে পরিবেশবান্ধব ই-কার চালু করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ছয়টি ই-কার চালু হলেও শিগগিরই আরও গাড়ি যুক্ত হবে। এতে রিকশাভাড়ার অর্ধেক খরচে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে যাতায়াত করতে পারবেন।
সোমবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ক্যাম্পাসে উপউপাচার্য নিজে এই ই-কার চালান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার খবরের কাগজকে বলেন, 'আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর লক্ষ্য করেছি ছাত্রদের কীভাবে উপকৃত করা যায়, কীভাবে তাদের সুযোগ-সুবিধা গুলো বৃদ্ধি করা যায়, তার মধ্যে ই-কারের ব্যাপারটি চলে আসে। আমরা লক্ষ্য করি আমাদের শিক্ষার্থীরা নর্থ সাউথ কিংবা ব্র্যাকের শিক্ষার্থীদের মতো না। আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। আর্থিক অসচ্ছলতা তাদের একটি প্রধান সমস্যা। তারা টিউশনি করতে শহরে যায়। ট্রেনে থেকে নামার পর রিকশা ভাড়া একটু বেশি। ই-কারের ভাড়া রিকশাভাড়ার
অর্ধেক হতে পারে, এটা আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছি।'
তিনি বলেন, প্রো-ভিসি কামাল সাহেব চার্জিং স্টেশনগুলো চালু করবেন। চার্জিং স্টেশন থেকে চার্জ দিয়ে এগুলো চলবে। কারা চালাবে,
ভাড়া কত? সব আমরা শৃঙ্খলার মধ্যে এনে দেব। শাটল ট্রেন প্লাটফর্মে আসার পর শিক্ষার্থীদের যে স্রোত জিরো পয়েন্টের অভিমুখে দেখা যায়, রিকশাগুলোতে তার সংকুলান হয় না। সেখানে ১৫ থেকে ২০ টা ই-কার থাকলে অল্প ভাড়ায় সহজেই শিক্ষার্থীরা চলাফেরা করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, ই- কারের সুবিধা তারা যেমন গ্রহণ করবে, ই-কার চালকদের সঙ্গেও যেন তারা সহমর্মিতার সম্পর্ক বজায় রাখে। যারা ই-কার চালাবে, তাদেরকেও আমি একই কথা বলে দিয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি- ক্যাম্পাসে চক্রাকারভাবে নিরাপদে ও স্বল্পমূল্যে যেন তারা যাতায়াত করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৪০ একর জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে আছে এক একটি অনুষদ ও ডিপার্টমেন্ট। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বর্ষাকাল ও অতি গরমে প্রচণ্ড কষ্ট পায়। কারণ আমাদের ক্যাম্পাসে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোতে ভাড়া বেশি। অ্যাক্সিডেন্টের ঝুঁকি থাকে এবং যারা রিকশাচালক আছেন তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নানান সময় নানান ধরনের ঝামেলা তৈরি হয়। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আমরা প্রতিশ্রুতি দেই আমরা ই-কার ব্যবস্থা চালু করব।'
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ই-কার ব্যবস্থা যোগ করলে আমাদের গ্রিন ক্যাম্পাসের যে ধারণা সেটির আমরা প্রতিফলন ঘটাতে পারব। সেটিকে কেন্দ্র করে আমরা মা এন্টারপ্রাইজ ও গ্রিন ক্যাম্পাস- যারা ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গাড়িগুলো দিয়েছেন- তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি। আমরা চায়নাতেও গিয়ে গাড়িগুলো দেখে এসেছি। আমরা তাদের সঙ্গে চুক্তি করে
গাড়িগুলো চালাব। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ই-কারের উদ্বোধন হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের ছয়টি কার এসেছে। আগামী সপ্তাহে আরও চারটি সংযুক্ত করা হবে।‘
তিনি বলেন ‘এ বিষয়ে আমাদের একটা কমিটি আছে। প্রক্টর অফিস, ছাত্র উপদেষ্টা অফিস ও চাকসু অফিস- এই তিন জায়গা থেকে কমিটির মেম্বর সংযুক্ত করে রুট গুলো নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে নতুন কনসেপ্ট নেওয়া হয়েছে। এখন যারা চালাবে, ভবিষ্যতে এদের সঙ্গে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংযুক্ত করব।‘
উপউপাচার্য বলেন, 'পরবর্তীতে এ-কার ব্যবস্থা অটোমেশনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কার্ড করে দেওয়া হবে, যেন ভাঙতি টাকার ভোগান্তিতে না পড়তে হয়। এখানে বর্তমানে যারা অটোরিকশাচালক আছেন তাদেরও এ সিস্টেমে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। আমরা
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে মনিটরিং করব। নতুন করে কোন উদ্যোগ নিলে অনেক ভুলত্রুটি থাকতে পারে। আমরা শিক্ষার্থীদের মতামত নেব, পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলোর সমাধান করব। পরিপূর্ণভাবে আমরা নীতিমালা এখনো হাতে নেইনি। শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করা হবে।'
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থীদের আমরা অনুরোধ করব- এগুলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে সার্ভিস দিতে এসেছে, এগুলোকে যেন
শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে ব্যবহার করে। কোনো সমস্যায় পড়লে যেন প্রশাসনকে জানায়। আমরা সকাল আটটা থেকে রাতের শাটল ট্রেন আসা পর্যন্ত এগুলো পরিচালনা করব।'
এ বিষয়ে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে চক্রাকার যানবাহনের একটি দাবি ছিল। এখানে সিএনজি বা রিকশার যে সিন্ডিকেট আমরা দেখি, এর সঙ্গে শিক্ষার্থীরা পেরে উঠছে না। এর জন্য শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল চক্রাকার যান। এটা নিয়ে প্রশাসন বারবার আমাদের আশ্বস্ত করেছিল যে ই-কার নিয়ে আসা হবে। যদি সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব হয়, তাহলে সেটা শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'এখন ই-কার আমরা দেখতে পাচ্ছি। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য সুখকর ব্যাপার। তবে এটা আসলে কয়টা আসবে, আমাদের শিক্ষার্থীদের চাহিদা কতটুকু পূরণ করতে পারবে?- এটা নিয়ে আমরা চিন্তিত। তবে আমরা আশাবাদী। যতটুকু জানতে পেরেছি, এগুলো জিরো পয়েন্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চলবে। তবে আমাদের প্রত্যাশা এক নম্বর গেট থেকে প্রশাসন এগুলো চালাবে। কারণ অনেক শিক্ষার্থী এক নম্বর গেট থেকে যাতায়াত করে। সিএনজিচালকরা নানান সময় নানান রকম ঝামেলা সৃষ্টি করে। আমরা প্রশাসনকে অনুরোধ জানাই যেন তারা এক নম্বর গেট থেকে এগুলো পরিচালনা করে।'
মেহেদী/