প্রক্টরের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থী অনশনে বসেছেন।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে তারা এই কর্মসূচি শুরু করেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ৯টা) কর্মসূচি চলমান ছিল।
শিক্ষার্থীদের সাত দাবি হলো- সংঘর্ষের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ ও তাদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা দিতে হবে। নিরাপত্তাহীন অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য অবিলম্বে মানসম্মত ভ্রাম্যমাণ আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং আবাসনচ্যুত শিক্ষার্থীদের মালামাল উদ্ধারে উদ্যোগ নিতে হবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ঘিরে বিশেষভাবে চিহ্নিত শিক্ষার্থীদের সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নিরপরাধ এলাকাবাসীর হয়রানি বন্ধ করতে হবে। বৈপরীত্যমূলক দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসনে উভয় পক্ষের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমন্বয় কমিটি গঠন করা এবং ন্যূনতম তিন মাস পরপর মিটিং করা। সিন্ডিকেট কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের রোডম্যাপ প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করা। এ ছাড়া শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিয়ে প্রক্টরিয়াল বডিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে।
অনশনরত শিক্ষার্থীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র ও সুদর্শন চাকমা, সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সংগঠক ঈশা দে এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী চবি শাখার সভাপতি জশদ জাকির, স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের রাম্রা সাইন মারমা, ইংরেজি বিভাগের আহমেদ মুগ্ধ ও নাঈম শাহজান, মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও নারী অঙ্গনের সংগঠক সুমাইয়া শিকদার এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল চবির সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া।
অনশনরত বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের ওপর সবচেয়ে নিকৃষ্ট হামলার ১০ম দিন আজ। প্রশাসন রক্তপাত ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডিও নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আগের গুপ্ত হামলাগুলোর বিচারও হয়নি, আমরা এখনো ঝুঁকিতে আছি। এই হামলার বিচার ও সংকট সমাধানে সাত দফা দাবি নিয়ে কর্মসূচি করলেও প্রশাসন আন্তরিকতা দেখায়নি। উল্টো শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের হুমকি দিচ্ছে। এসব কারণে আমরা বাধ্য হয়ে অনশনে বসেছি। প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নিক, নইলে লাশ হয়ে ঘরে ফিরব- এর দায়ভারও প্রশাসনকেই নিতে হবে।’