রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবার আমরণ অনশনে বসেছেন এক শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাথায় ও শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অনশনে বসেন তিনি।
ওই শিক্ষার্থীর নাম আসাদুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অনশনে তিনি পেছনে একটি ব্যানার রেখেছেন। সেখানে লিখেছেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা নামক বিষফোঁড়া পুনর্বহাল রাখার প্রতিবাদে আমরণ অনশন ধর্মঘট।’
অনশনের বিষয়ে আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘পোষ্য কোটা নামক বিষফোঁড়া মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এটাকে নির্মূল করার জন্য আমার এই কর্মসূচি। জুলাই আন্দোলনে যে কোটার জন্য এত রক্তপাত, এত মৃত্যু, স্বৈরশাসকের পতন হলো- সেই কোটা আবার ফিরেছে। আমি কোটার পক্ষে নই, যদি কোটা দেওয়া হয়, সেটা গ্রামের কৃষক-শ্রমিক-মজুরের সন্তানদের দেওয়া হোক।’
হোসেন সোহরাওয়ার্দী হলের এই শিক্ষার্থী বলেন, এই পোষ্য কোটা বাতিল করার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমার অনশন কর্মসূচি চলবে। আমি কোনো খাবার পানি খাবো না। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কেউ আসেনি। আমি রাতে এখানেই অবস্থান করব।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১০টি শর্তে পোষ্য কোটা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। উপাচার্যের দায়িত্বে নিযুক্ত সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনের সভাপতিত্বে সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ভর্তি উপকমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এই সিদ্ধান্তের আগাম খবর জানতে পেরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলে। আজ শুক্রবার বাদ জুমা নামাজের পরও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা জানান, পোষ্য কোটা একটা মীমাংসিত ইস্যু। এটি অন্যায্য ও অযৌক্তিক একটি কোটা। এটিকে নামে-বেনামে ফিরিয়ে আনা চলবে না। প্রয়োজনে রক্ত তারা দেবেন, তবু ক্যাম্পাসে পোষ্য কোটা ফিরতে দেবেন না। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ক্যাম্পাসে যখন রাকসু নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, সেই সময়ে এসে নির্বাচন বানচাল করার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র কখনো বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।
শাকিবুল হাসান/সুমন/