ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে : রিজভী মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে ৪৩১ পদে বড় নিয়োগ হিলিতে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউন জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার লোহাগাড়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায় থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার বেনাপোলে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ হ্যারি কেইনের ফর্মকে প্রশংসায় ভাসালেন ডেক্লান রাইস নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: রেলপথমন্ত্রী ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা বহুমাত্রিক সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে শরীয়তপুরে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ পাঁচবিবিতে ট্রাকচাপায় যুবক নিহত ২৩ জুন: পাউন্ড ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে ইউসিটিসিতে ৭ম সিন্ডিকেট মিটিং অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা জব্দ, আটক ১ ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা ২-১ গোলে জর্ডানকে হারিয়ে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখলো আলজেরিয়া কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬ ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র শিরোপার স্বপ্নে ভাসছেন না হালান্ড আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা তৃণমূলের শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ ১১৫ দিন পর হরমুজ অতিক্রম করল বাংলার জয়যাত্রা পর্তুগাল এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ: রবার্তো মার্তিনেস বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার কারসাজি টেকনাফে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যেতে মাইকিং

রক্তদান ও মানবিক কাজের প্রতীক শাকিল

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:০৯ পিএম
রক্তদান ও মানবিক কাজের প্রতীক শাকিল
এ কে এম শাকিল সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী।

এ কে এম শাকিল, সরকারি বাঙলা কলেজের এক তরুণ শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত তিনি। পরিবারের সদস্য বাবা-মা ও দুই ভাই। তিনি মানবিকতার শিক্ষা পেয়েছেন মূলত বাবার কাছ থেকেই। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে দেখে তার হৃদয়ে গড়ে উঠেছে সমাজসেবার বীজ। সেই অনুপ্রেরণাই তাকে রক্তদানের মতো মহৎ কাজে সম্পৃক্ত করেছে।

প্রথম রক্তদানের গল্প
২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে গোপালগঞ্জে গিয়েছিলেন শাকিল। পরীক্ষার আগের রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় হলে থাকার সুযোগ হয় তার। পরদিন সকালে পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়ার পথে হলের গেটে এক মধ্যবয়সী মহিলাকে কাঁদতে দেখেন। জানা গেল, তার ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে এ+ গ্রুপের রক্ত প্রয়োজন। সে সময় শাকিলেরও রক্তের গ্রুপ এ+। প্রথমবার রক্তদান করার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। রক্ত দিয়ে হাসপাতালে থেকে বেরিয়ে দেখেন পরীক্ষা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলেও একজন মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচাতে পেরেছেন—এই তৃপ্তি তাকে অন্যরকম শক্তি জুগিয়েছিল। যদিও প্রথম রক্তদানের পর শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তারপরও মন ভরে গিয়েছিল এক অদ্ভুত শান্তিতে।

রক্তদানের পথচলা
প্রথম রক্তদানের পর থেকে এখন পর্যন্ত শাকিল ৩৫ বার রক্ত দিয়েছেন। ফেসবুকে পোস্ট, বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নেওয়া কিংবা সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহ করে তিনি রক্তদান করেন। তার মতে, দেশে রক্তদাতার অভাব নেই, কিন্তু প্রয়োজনীয় সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক জীবন ঝরে যায়।

রক্তদানের নিয়ম ও সতর্কতা
শাকিলের মতে, সুস্থ যে কেউ, বয়স ১৮ থেকে ৫৫ বছর এবং ওজন ন্যূনতম ৪৫ কেজি হলে রক্তদান করতে পারে। তবে এইচআইভি, হেপাটাইটিস বা ডায়াবেটিসের মতো রোগ থাকলে রক্তদান করা উচিত নয়।’

সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা
ঢাকায় পড়তে এসে শাকিল লক্ষ্য করেন, হাসপাতালে রোগীর আত্মীয়রা প্রায়ই বাঙলা কলেজ ক্যাম্পাসে রক্তদাতার সন্ধানে আসেন। তখন তিনি ‘বাঙলা কলেজ ব্লাডব্যাংক’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যা পরে বিস্তৃত হয়ে ‘৭ কলেজ ব্লাড অর্গানাইজেশন’-এ রূপ নেয়। এই সংগঠন সাত বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রক্তদান, ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সমাজসেবামূলক কাজ
২০২০ সালের করোনা মহামারিতে রক্তদান শেষে ক্ষুধার্ত কিছু শিশুকে খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে তার সমাজসেবার যাত্রা শুরু। এর পর থেকেই পথশিশুদের পড়ানো ও তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব তার জীবনের অংশ হয়ে যায়। কোভিডের সময় অসুস্থদের অক্সিজেন সেবা, খাবার বিতরণসহ নানা মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেছেন তিনি। ২০২৪ সালে মজার ইশকুল, জুম বাংলাদেশ স্কুল ও প্রত্যয় শিশুকেন্দ্রে পড়ানোর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে কাজ করেন। 

রক্তদানে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টা
প্রায় আট বছরের যাত্রায় শাকিল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করেছেন। গ্রামে উঠান বৈঠক, স্কুল-কলেজে ব্লাড ক্যাম্পেইন এবং অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মকে স্বেচ্ছায় রক্তদানের আহ্বান জানাচ্ছেন।

আগামী দিনের স্বপ্ন
শাকিলের স্বপ্ন— প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজন রক্তদাতা তৈরি হোক। তিনি চান, সবাই শুধু নিজের প্রয়োজনে নয়, অন্যের প্রয়োজনেও রক্তদান করুক।

ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা
ছবি: খবরের কাগজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে দৈনিক মজুরিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

রবিবার (২১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটি গঠনের পরের দিনই একাংশে সাক্ষাৎকার নিয়েছে উক্ত তদন্ত কমিটি। 

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে দৈনিক মজুরিভিত্তিক যেসব ব্যক্তি নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের নিয়োগসংক্রান্ত বিষয় যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপাচার্য একটি কমিটি গঠন করেছেন।

তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক ইসরাফুল হক। এছাড়া সদস্যসচিব করা হয়েছে রেজিস্টার অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) এ. জেড. এম. আছাফদ্দৌলাকে।

তবে গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশনাসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের জানাতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

এদিকে এ সাক্ষাৎকার ঘিরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নিয়োগ প্রাপ্তরা। তাদের অনেকেই চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। এই আশঙ্কাকে ব্যবহার করে একটি মহল চাকুরিবাণিজ্যও করতে পারে বলে আলোচনা চলছে ক্যাম্পাসে।

এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ‘নিয়োগ প্রাপ্তদের সাক্ষাৎ গ্রহন প্রক্রিয়া চলমান। সাক্ষাৎ গ্রহন শেষ হলে আগামীকাল কমিটির সদস্যের সঙ্গে বসে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবো।’

এ বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি যোগদানের পরে একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি যে, দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে বেশ কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ঈদুল আজহার আগে ১৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়েছে। যেটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং সরকারের পক্ষ থেকে এই অর্থের কোন সম্পৃক্ততা নাই। তারা এটিকে কোনভাবেই আমাদেরকে অনুমোদন দেয় নাই। সেখানে প্রায় ১ কোটি টাকার উপরে ইনভেস্ট করা হচ্ছে। যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় ধরনের একটি সংকট। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবছরই বাজেট ঘাটতি থাকে। ফলে এই জায়গাতে কি প্রেক্ষিতে এই নিয়োগটি দেওয়া হয়েছে? এর যুক্তিকতা কি তা দেখার জন্য একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলেছি।’

নেয়ামত/রিফাত/

বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য
ছবি: খবরের কাগজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার একটি নেতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে। অধীনস্থ কর্মীদের সমস্যার কথা জানতে হবে এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। কোনো কর্মী বা কর্মকর্তা কেন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন, সেটিও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।’

সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত ‘অফিস ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ক কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দফতর প্রধানদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘অনেক সময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো নোটিশ ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরিচালকও বিষয়টি জানেন না। এই না আসা এবং দায়িত্ব পালন না করার যে কালচার, সেই প্রতিযোগিতায় আমরা অনেক এগিয়ে আছি।’

ড. মতিনুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ না করার একটি প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভালো কাজ করার, নতুন উদ্যোগ গ্রহণের কিংবা ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রতিযোগিতা আমরা গড়ে তুলতে পারিনি। কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয়, জবাবদিহিতারও ঊর্ধ্বে নয়। আমি নিজেও জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নই। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মূলত শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার জন্য নিয়োজিত। তাই শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিন।

কর্মশালায় আধুনিক অফিস ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশ, ফাইল ও নথি ব্যবস্থাপনা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল অফিস সিস্টেম বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, দপ্তরপ্রধান ও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

নিয়ামত/খাদিজা রুমি/

জাবিতে রোকনুজ্জামান খান ও বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২৮ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
জাবিতে রোকনুজ্জামান খান ও বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলা একাডেমি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বাংলা বিভাগের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী শিক্ষা-সাহিত্য বিষয়ক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে শিশুসাহিত্যিক রোকনুজ্জামান খান (দাদাভাই) এবং বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবন, সাহিত্য ও কর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ২১ ও ২২ জুন (রবি ও সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী ভবনের বাংলা বিভাগের সেমিনার কক্ষে এ আয়োজন হয়।

প্রথম দিনের শিরোনাম ছিল ‘রোকনুজ্জামান খান: বাস্তবতাবোধ ও জীবনদর্শন’ এবং দ্বিতীয় দিনের শিরোনাম ‘রোকেয়া: তাঁর সাহিত্য, শিক্ষাব্রত ও জাগৃতি-সাধনা’।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ’রোকনুজ্জামান খান শুধু সাহিত্যিকই ছিলেন না, তিনি এদেশের শিশু-কিশোরদের উন্নত মনন গঠনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। ‘দাদাভাই’ নামে পরিচিত এই সাহিত্যিক ‘কচিকাঁচার মেলা’ এবং দৈনিক ইত্তেফাকের ‘কচিকাঁচার আসর’-এর সঙ্গে চিরকাল জড়িত থাকবেন। ছড়াকবিতার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান নেন।’

প্রথম দিনের আলোচনা

প্রথম দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আনিস রহমান। আলোচনায় অংশ নেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আবু দায়েন। বাংলা একাডেমির সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পিয়াস মজিদ শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. খালেদ হোসাইনের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় দিনের আলোচনা

দ্বিতীয় দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক ড. মোরশেদ শফিউল হাসান। আলোচনায় অংশ নেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া এবং বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সায়েরা হাবীব শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

আয়োজনের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারহানা আখতার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ’জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে এ জাতীয় সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। আশা করি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সবাই এ আয়োজন থেকে উপকৃত হয়েছেন।’

আমানউল্লাহ খান/খাদিজা রুমি/

চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের একটি কক্ষে চলন্ত অবস্থায় সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (২১ জুন) দুপুরে হলের ডি-৩০০ নম্বর গণরুমে এ ঘটনা ঘটে। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো শিক্ষার্থী আহত হননি।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্ষটিতে থাকা বেশ কয়েকটি ফ্যান দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। কোনোটি ধীরগতিতে চলত, আবার কোনোটি ঠিকমতো বাতাস দিত না। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার হল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

ঘটনার সময় কক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছিলেন। হঠাৎ একটি ফ্যান ঘুরতে ঘুরতেই ছাদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিচে পড়ে যায়। ফ্যানটি একটি খাটের ওপর পড়ে ভেঙে যায়। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মোরশেদ এলাহী বলেন, ‘গণরুমে থাকা বেশিরভাগ ফ্যানই নষ্ট বা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। অনেক সময় ব্যক্তিগত ফ্যান ব্যবহার করতে হয়। ফ্যানগুলোর অবস্থা দেখে আগেই আশঙ্কা ছিল। আজ সেটাই বাস্তবে ঘটেছে। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।’

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা দ্রুত কক্ষটির ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ফ্যানগুলো পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ইবাদ হোসেন/রিফাত/

সুস্ময়ের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে মেডেল জয়

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
সুস্ময়ের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে মেডেল জয়
পুরস্কার মঞ্চে সুষ্ময় বড়ুয়া।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতী গ্রামের কৃতিশিক্ষার্থী সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত। গণিত ও ইংরেজি অলিম্পিয়াডে অসামান্য সাফল্য অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে গর্বিত ও সমুন্নত করেছেন তরুণ এই মেধাবী।
শিশুদের মানসিক গণিত দক্ষতা, একাগ্রতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালোহা মেন্টাল অ্যারিথমেটিক’ বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতি বছর সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে তাদের সেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
এরই অংশ হিসেবে, ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত ‘অ্যালোহা বাংলাদেশ জাতীয় প্রতিযোগিতা’য় অংশ নেয় সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত। দেশজুড়ে আসা প্রায় ৩,৫০০ প্রতিযোগীর মধ্যে অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়ে সে মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব অর্জন করে। এই অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যালোহা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে নগদ অর্থ ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জাতীয় পর্যায়ের এই গৌরবময় বিজয়ের পর, সুস্ময় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়। বিশ্বের ১৭টি দেশের সেরা মেধাবীদের সঙ্গে লড়াই করে সে তৃতীয় রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিশ্বমঞ্চে তার এই সাফল্য বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘অ্যালোহা ম্যাথ কুমিল্লা শাখা’র জন্য বয়ে এনেছে বিপুল গৌরব। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেও তাকে বিশেষ সংবর্ধনা ও পুরস্কার দেওয়া হয়।
সুস্ময় বর্তমানে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। গণিতে পারদর্শিতার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডগুলোতেও সে সমানভাবে সফল ও প্রশংসিত।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইংরেজি অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য সুস্ময় আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলেও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সশরীরে সেখানে যেতে পারেনি। তবে এ প্রতিকূলতা তার পথ আগলে দাঁড়াতে পারেনি। অদম্য সুস্ময় অনলাইন আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অর্জন করে মর্যাদাপূর্ণ ‘সিলভার মেডেল’ (রৌপ্য পদক), যা বাংলাদেশের জন্য আরও একটি আন্তর্জাতিক সম্মান বয়ে আনে।
পরবর্তীতে সে জাপান এবং যুক্তরাজ্য-উভয় দেশের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বের জন্য কোয়ালিফাই করে। তবে দুটি ইভেন্টের সময়সূচি খুব কাছাকাছি হওয়ায় তাকে যেকোনো একটি দেশ বেছে নিতে হয়। সুস্ময় যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ইতোমধ্যে সে অফিশিয়াল আমন্ত্রণপত্র হাতে পেয়েছে এবং বর্তমানে লন্ডনে যাওয়ার জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে।
সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতী গ্রামের এক শিক্ষানুরাগী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা প্রকৌশলী রিটন বড়ুয়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ’ (বেপজা)-এ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। তার মা শর্মিলা বড়ুয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
সুস্ময় বড়ুয়া সপ্তর এই আন্তর্জাতিক অর্জন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত। তার পরিবার, শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দেশবাসী আশা করছেন যে তার আসন্ন লন্ডন সফর সফল হবে এবং সে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জন্য আরও গৌরব ও স্বীকৃতি বয়ে আনবে।
পড়াশোনার পাশাপাশি সুস্ময় ‘বিশ্বমঞ্চজয়ী সপ্ত’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। সেখানে তিনি নিজের শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাপাশি সময় ও সুযোগ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন ক্লাস এবং দিকনির্দেশনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।