নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের দায়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ২৫ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উপউপাচার্য বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের দায়ে প্রক্টর বডি তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে র্যাগ দেওয়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শাস্তি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন। সিন্ডিকেট সভায় এ সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।
র্যাগিংয়ে দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত ২৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের ১২ শিক্ষার্থী ও পরিসংখ্যান বিভাগের ১৩ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে মেসে নিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক নিপীড়নের অভিযোগে অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম মুনস্তাসিরকে আজীবন ও জুনাইদ মোস্তকিম অয়নকে ৪ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
বাকি ১০ শিক্ষার্থীকে ২ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এরা হলেন- প্রীতম সাহা, শরিফুজ্জামান খান আতিফ, সাবিত আবরার তাজিম, অনিক আহমেদ, সুয়েল রানা, মো. যুবায়ের হোসেন তালুকদার জিম, মো. নাঈম মিয়া, বিকাশ চন্দ্র ধর, মিঞা মো. সাইয়্যেদুল বাশার রিফাত ও রাজন সাহা সানি।
অপরদিকে গত বছরের ২৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের ১৫ ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে র্যাগ দেওয়ার দায়ে একই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ৫ জন ছাত্রীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাজী তাসমিয়া হক অরিশাকে ৪ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়। বাকী ৪ জনের মধ্যে ফারজানা মেহেরুন নূহ্য, তাসমিয়াহ আলম মাইশা, লামিয়া ইসমাইল জুঁই ও শ্রাবণী দে প্রিয়াকে আবাসিক হল থেকে আজীবন জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে এদের মধ্যে কেউ আবাসিক হলে না থাকলে আগামীতে তাদেরকে কোনো সিট বরাদ্দ দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একইসঙ্গে তাদেরকে ভবিষ্যতে র্যাগিংয়ের মতো কোনো কর্মকাণ্ড জড়িত না হওয়া জন্য প্রক্টরিয়াল বডির কাছে মুচলেকা দেওয়ার জন্য বলা হয়।
অপরদিকে গত বছরের ১৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন বিসমিল্লাহ রেস্টুরেন্টের পাশে একটি বাসায় একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে র্যাগ দেওয়ার অভিযোগ উঠে।
এদের মধ্যে র্যাগিংয়ের দায়ে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাখাওয়াত হোসেন ও মো. সাগর হোসেনকে ২ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়। একইসঙ্গে একই বর্ষের শিবরাজ ত্রিপুরা, জুবায়ের আবদুল্লাহ, রিয়াদুস সালেহীন রিয়ান, তন্ময় কর্মকার সাগর, ইয়াজউদ্দিন পাটোয়ারী ও নাফিজ ইমতিয়াজ রোহানকে আবাসিক হল থেকে আজীবন বহিষ্কার অথবা হলে ভর্তি না থাকলে ভবিষ্যতে হলে সিট প্রদান না করার জন্য বলা হয়। একইসঙ্গে তাদেরকে ভবিষ্যতে র্যাগিংয়ের মতো কোনো কর্মকান্ড জড়িত না হওয়া জন্য প্রক্টরিয়াল বডির কাছে মুচলেকা দেওয়ার জন্য বলা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, র্যাগিংয়ের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স। নবীন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এসে র্যাগিংয়ের ফলে মানসিকভাবে ট্রমাটাইজ হয়ে যায়। এতে অনেকে অ্যাকাডেমিক জায়গা থেকে বিচ্যুতও হয়ে যায়। এ র্যাগিংয়ের ঘটনা অনেক আগের। ভাল করে তদন্ত সাপেক্ষে র্যাগ দেওয়া শিক্ষার্থীদের বিচারের আওতায় আনতে আমরা প্রক্টরিয়াল বডি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করেছিলাম।
ইসফাক/মেহেদী/